জেলের চার দেওয়ালের ভিতরেও মাদকের ছায়া, এইমসের সমীক্ষায় উদ্বেগজনক তথ্য
কারাগারকে বলা হয় সংশোধনাগার। উদ্দেশ্য, অপরাধে জড়িত ব্যক্তিদের সংশোধন করা এবং তাঁদের সমাজের মূল স্রোতে ফিরিয়ে আনা। কিন্তু সেই কারাগারের চার দেওয়ালের মধ্যেও যদি মাদকের ব্যবহার বন্ধ না হয়, তাহলে প্রশ্ন উঠতেই পারে, বন্দিদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থায় কোথাও কি বড়সড় ঘাটতি থেকে যাচ্ছে?
ইন্ডিয়ান জার্নাল অফ মেডিক্যাল রিসার্চে (Indian Journal of Medical Research) প্রকাশিত অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অফ মেডিক্যাল সায়েন্সেস (AIIMS)-এর একটি সমীক্ষায় উঠে এসেছে এমনই উদ্বেগজনক ছবি। দেশের ৯টি রাজ্যের ১৭টি কেন্দ্রীয় জেলের ৭ হাজারেরও বেশি বন্দিকে নিয়ে চালানো এই গবেষণায় বন্দিদের মাদক ব্যবহারের ইতিহাস এবং জেলের ভিতরে নেশা চালিয়ে যাওয়ার প্রবণতা খতিয়ে দেখা হয়েছে।
গবেষণায় দেখা গিয়েছে, জেলে থাকা বন্দিদের অর্ধেকেরও বেশি জীবনের কোনও না কোনও সময়ে মদ্যপান করেছেন। প্রায় ২০ শতাংশ বন্দির গাঁজা সেবনের ইতিহাস রয়েছে। অন্যদিকে, প্রায় ১১ শতাংশের ওপিওয়েড (Opioid) বা মাদকজাতীয় ওষুধ ব্যবহারের ইতিহাস পাওয়া গিয়েছে।
তবে আরও উদ্বেগের বিষয় হল, কারাগারের কঠোর নিরাপত্তা ও নজরদারির মধ্যেও প্রায় ৬ শতাংশ বন্দি জেলের ভিতরে মাদক সেবন চালিয়ে যাচ্ছেন বলে সমীক্ষায় উঠে এসেছে। তাঁদের মধ্যে গাঁজা ব্যবহারের প্রবণতা উল্লেখযোগ্য।
বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘদিনের নেশার অভ্যাস থাকা কোনও ব্যক্তি হঠাৎ করে মাদক থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেলে শারীরিক ও মানসিক নানা সমস্যা দেখা দিতে পারে। একে বলা হয় ‘উইথড্রয়াল সিম্পটমস’ (Withdrawal Symptoms)। ফলে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও কাউন্সেলিংয়ের অভাবে কিছু বন্দি জেলের ভিতরেও মাদক সংগ্রহের চেষ্টা করতে পারেন।
AIIMS-এর গবেষণার মূল বার্তা, শুধু কারাগারে বন্দি করলেই একজন ব্যক্তির মাদকাসক্তি শেষ হয়ে যায় না। বরং জেলে প্রবেশের সময়ই বন্দিদের মাদক ব্যবহারের ইতিহাস স্ক্রিনিং করা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসা, কাউন্সেলিং ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা জরুরি।
কারাগারের ভিতরে মাদক কীভাবে পৌঁছচ্ছে, তা নিয়ে নজরদারি যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনই গুরুত্বপূর্ণ বন্দিদের আসক্তির চিকিৎসা নিশ্চিত করা। কারণ মাদকাসক্তির চিকিৎসা ছাড়া শুধু শাস্তিমূলক ব্যবস্থায় সমস্যার দীর্ঘমেয়াদি সমাধান সম্ভব নয় বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
AIIMS-এর এই গবেষণা তাই দেশের জেল স্বাস্থ্যব্যবস্থা, মাদক নিয়ন্ত্রণ এবং বন্দিদের পুনর্বাসন ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।


