কলকাতা বিমানবন্দরের ATC ভবনে আগুন! টুনি লাইটে শর্ট সার্কিটের আশঙ্কা, অল্পের জন্য বড় বিপদ এড়াল
ভোররাতে কলকাতা বিমানবন্দরের ATC ভবনে আগুন, দ্রুত তৎপরতায় স্বাভাবিক থাকল বিমান পরিষেবা
কলকাতার নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের (Netaji Subhas Chandra Bose International Airport) পুরনো এয়ার ট্র্যাফিক কন্ট্রোল (ATC) ভবনে মঙ্গলবার ভোরে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়ায়। ভোর ৪টা নাগাদ, বিভিন্ন প্রতিবেদনে ৪টা ৪৩ মিনিটের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে, ভবনের তিনতলার খোলা অংশে আগুন দেখতে পান বিমানবন্দরের কর্মীরা। সঙ্গে সঙ্গে বিমানবন্দরের নিজস্ব অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থাকে খবর দেওয়া হয়। পাশাপাশি দমকল বিভাগেও খবর পাঠানো হয়।
আগুনের খবর পাওয়ার পর প্রথমে বিমানবন্দরের নিজস্ব একটি ফায়ার ইঞ্জিন ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নেভানোর কাজ শুরু করে। পরে আরও দুটি ইঞ্জিন সেখানে পৌঁছয়। মোট তিনটি ইঞ্জিনের তৎপরতায় প্রায় দুই ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। সকাল ৬টা পর্যন্ত কুলিং (Cooling) প্রক্রিয়াও চলে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। আগুন মূলত ATC ভবনের তৃতীয় তলার খোলা অংশেই সীমাবদ্ধ ছিল।
প্রাথমিকভাবে অগ্নিকাণ্ডের সম্ভাব্য কারণ হিসেবে স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে লাগানো বৈদ্যুতিক আলোকসজ্জার কথা উঠে এসেছে। ১৫ আগস্ট উপলক্ষে ATC ভবনটি টুনি লাইট দিয়ে সাজানো হয়েছিল। সেই আলোকসজ্জার বৈদ্যুতিক সংযোগে শর্ট সার্কিট থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে বলে প্রাথমিক অনুমান। তবে এটিকে এখনও চূড়ান্ত কারণ হিসেবে নিশ্চিত করা হয়নি। অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ জানতে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করা হবে বলে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের তরফে জানানো হয়েছে।
ATC ভবন বিমান চলাচল নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এখান থেকে বিমান ওঠানামা, পাইলটদের সঙ্গে যোগাযোগ এবং আকাশপথে বিমান চলাচল নিয়ন্ত্রণের মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজ পরিচালিত হয়। ফলে এই ভবনের কোনও অংশে আগুন লাগার খবর স্বাভাবিকভাবেই উদ্বেগ তৈরি করে। তবে এবারের ঘটনায় মূল বিমান নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থায় কোনও ক্ষতি হয়নি বলে বিমানবন্দর সূত্রে জানানো হয়েছে। আগুন যে অংশে লেগেছিল, তা মূল নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমের গুরুত্বপূর্ণ অংশ থেকে আলাদা থাকায় ফ্লাইট অপারেশনে কোনও প্রভাব পড়েনি।
কলকাতা বিমানবন্দরের অধিকর্তা বিক্রম সিং জানিয়েছেন, আগুন ভোরের দিকে লাগে এবং প্রায় দুই ঘণ্টার মধ্যে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ঘটনায় বিমান পরিষেবায় কোনও প্রভাব পড়েনি। তবে আগুন আরও ছড়িয়ে পড়লে পরিস্থিতি অনেক বেশি গুরুতর হতে পারত। দ্রুত অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা সক্রিয় হওয়ায় বড় ধরনের বিপদ এড়ানো সম্ভব হয়েছে।
অগ্নিকাণ্ডে এখনও পর্যন্ত বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। আগুনে ATC-র যোগাযোগ ব্যবস্থা বা বিমান চলাচল নিয়ন্ত্রণের মূল সরঞ্জাম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কি না, তা নিয়েও উদ্বেগ ছিল। তবে প্রাথমিকভাবে এমন কোনও ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের দাবি, বিমান পরিষেবা স্বাভাবিক রয়েছে।
স্বাধীনতা দিবসের সাজসজ্জার বৈদ্যুতিক সংযোগ থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয়েছিল কি না, সেটিই এখন তদন্তের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। পাশাপাশি ভবনের বৈদ্যুতিক ব্যবস্থা, রক্ষণাবেক্ষণ এবং অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থাও খতিয়ে দেখা হতে পারে। আপাতত আগুন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে এবং কলকাতা বিমানবন্দরে বিমান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।

