নিয়োগ দুর্নীতির অভিযোগে উত্তাল ঝাড়খণ্ড, ২৩ দিন ধরে ছাত্র-যুব আন্দোলন! ২০ আগস্ট মুখ্যমন্ত্রীর বাড়ি ঘেরাওয়ের হুঁশিয়ারি
২৩ দিনের আন্দোলনের পর এবার মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবন ঘেরাও, নিয়োগ পরীক্ষার স্বচ্ছতা নিয়ে ঝাড়খণ্ডে বাড়ছে ক্ষোভ
সরকারি চাকরিতে নিয়োগ পরীক্ষায় অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ ঘিরে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে প্রতিবেশী রাজ্য ঝাড়খণ্ড। নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবিতে টানা ২৩ দিন ধরে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন হাজার হাজার চাকরিপ্রার্থী ও ছাত্র-যুব। রাঁচির জয়পাল সিং মুন্ডা স্টেডিয়ামে ‘JPSC-JSSC Reforms Mancha’-র ব্যানারে চলা এই আন্দোলন ক্রমশ রাজনৈতিক চাপও বাড়াচ্ছে হেমন্ত সোরেনের নেতৃত্বাধীন সরকার এবং শাসক জোটের উপর।
আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, সরকারি চাকরির একাধিক নিয়োগ পরীক্ষায় গুরুতর অনিয়ম ও দুর্নীতি হয়েছে। তাঁদের দাবি, বিতর্কিত পরীক্ষাগুলি অবিলম্বে বাতিল করতে হবে এবং পুরো নিয়োগ প্রক্রিয়ার নিরপেক্ষ তদন্ত করতে হবে। সেই তদন্ত সিবিআই (CBI)-এর হাতে তুলে দেওয়া অথবা ঝাড়খণ্ডের বাইরের কোনও অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতির নেতৃত্বে একটি স্বাধীন তদন্তকারী প্যানেল গঠনের দাবি তুলেছেন আন্দোলনকারীরা।
দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন চললেও তাঁদের অভিযোগ, সরকার এখনও পর্যন্ত দাবিগুলি নিয়ে যথেষ্ট সদিচ্ছা দেখায়নি। ফলে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ক্ষোভ আরও তীব্র হচ্ছে। রবিবার সন্ধ্যায় রাঁচির রাস্তায় মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেন, কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী এবং আরজেডি নেতা তেজস্বী যাদবের কুশপুতুল দাহ করেন আন্দোলনকারীরা। এই ঘটনার পর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
আন্দোলনকারীদের বক্তব্য, শুধু পরীক্ষার অনিয়মের তদন্ত নয়, নিয়োগ ব্যবস্থার সামগ্রিক সংস্কারও জরুরি। তাঁদের অভিযোগ, চাকরিপ্রার্থীদের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে কার্যকর পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না। তাই এবার আন্দোলনের পরিধি আরও বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তাঁরা।
এর মধ্যেই সরাসরি মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেনের পদত্যাগের দাবিও উঠেছে। আন্দোলনকারীদের একাংশ শাসক জোটের কংগ্রেসের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন। এমনকি সরকার থেকে কংগ্রেসের সমর্থন প্রত্যাহারের দাবিও সামনে এসেছে। তবে এই অভিযোগ ও দাবির বিষয়ে রাজ্য সরকার কিংবা কংগ্রেস নেতৃত্বের পক্ষ থেকে এই মুহূর্তে কোনও বিস্তারিত প্রতিক্রিয়া সামনে আসেনি।
সবচেয়ে বড় কর্মসূচি হিসেবে আগামী ২০ আগস্ট মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবন ঘেরাওয়ের ডাক দিয়েছেন আন্দোলনকারীরা। তাঁদের ঘোষণা, দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে। ফলে আগামী দিনে রাঁচি-সহ ঝাড়খণ্ডের বিভিন্ন এলাকায় আন্দোলনের তীব্রতা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
এই আন্দোলনের রাজনৈতিক তাৎপর্যও যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ। সরকারি চাকরির পরীক্ষায় স্বচ্ছতা, মেধার ভিত্তিতে নিয়োগ এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে তরুণ প্রজন্মের ক্ষোভ ক্রমশ প্রকাশ্যে আসছে। চাকরিপ্রার্থীদের আন্দোলন যদি আরও বিস্তৃত হয়, তাহলে তা সরকারের উপর প্রশাসনিক চাপের পাশাপাশি রাজনৈতিক চাপও বাড়াতে পারে।
তবে নিয়োগ দুর্নীতির অভিযোগগুলির সত্যতা নির্ধারণের জন্য নিরপেক্ষ তদন্ত এবং প্রামাণ্য তথ্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আন্দোলনকারীদের দাবি ও অভিযোগের পাশাপাশি সরকারের বক্তব্য এবং তদন্তের ফলাফল সামনে আসার পরই প্রকৃত পরিস্থিতি স্পষ্ট হবে। আপাতত ২০ আগস্টের কর্মসূচির দিকে নজর রয়েছে গোটা রাজ্যের।

