ইরান যুদ্ধ ছয় মাসের দোরগোড়ায়, Hormuz-এ জাহাজ চলাচল কমতেই বিশ্ব জ্বালানি বাজারে নতুন চাপ
Hormuz-এ কমছে জাহাজ চলাচল, বাড়ছে তেলের দুশ্চিন্তা—ইরান যুদ্ধের প্রভাব কতটা পড়বে বিশ্ববাজারে?
ইরানকে ঘিরে মার্কিন-ইসরায়েলি যুদ্ধ ছয় মাসের দোরগোড়ায় পৌঁছতেই নতুন করে চাপে পড়েছে বিশ্ব জ্বালানি বাজার। সংঘাতের প্রভাব সবচেয়ে বেশি দেখা যাচ্ছে অপরিশোধিত তেল (Crude Oil), প্রাকৃতিক গ্যাস এবং আন্তর্জাতিক শিপিং ব্যবস্থায়। বিশেষ করে পারস্য উপসাগর ও ওমান উপসাগরের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ জলপথ Strait of Hormuz-এ বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল কমে যাওয়ায় জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তা বাড়ছে।
২১ আগস্টের বাজারে Brent crude সামান্য কমে ব্যারেলপ্রতি প্রায় 93.61 ডলারে দাঁড়ালেও সপ্তাহের হিসাবে দাম বেড়েছে প্রায় 5.8 শতাংশ। একই সময়ে US West Texas Intermediate বা WTI crude ছিল প্রায় 86.47 ডলার। অর্থাৎ দৈনিক দামের ওঠানামা সীমিত থাকলেও বৃহত্তর ছবিতে তেলের বাজার এখনও ঊর্ধ্বমুখী চাপের মধ্যে রয়েছে। Reuters-এর বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ইরানকে ঘিরে মার্কিন চাপ, যুদ্ধবিরতির অনিশ্চয়তা এবং সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কাই বাজারের অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি।
সবচেয়ে বড় ঝুঁকির জায়গা Strait of Hormuz। International Energy Agency (IEA)-র তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে এই জলপথ দিয়ে প্রতিদিন প্রায় ১৫ মিলিয়ন ব্যারেল crude oil পরিবহণ হয়েছে, যা বিশ্বব্যাপী সমুদ্রপথে crude oil বাণিজ্যের প্রায় ৩৪ শতাংশ। এর বড় অংশ যায় এশিয়ার বাজারে। China এবং India মিলিয়ে Hormuz দিয়ে যাওয়া crude exports-এর প্রায় ৪৪ শতাংশ গ্রহণ করে। ফলে এই জলপথে দীর্ঘস্থায়ী অস্থিরতা তৈরি হলে তার প্রভাব শুধু ইউরোপ বা আমেরিকায় সীমাবদ্ধ থাকবে না; এশিয়ার অর্থনীতিও সরাসরি চাপে পড়তে পারে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে জাহাজ চলাচলের পরিসংখ্যানও উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। Kpler-এর ship-tracking data অনুযায়ী, ২০ আগস্ট Strait of Hormuz দিয়ে মাত্র সাতটি commodity vessel চলাচল করেছে, যেখানে আগের দিন সংখ্যা ছিল ১৪। আরও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, ওই দিনে কোনও Very Large Crude Carrier বা LNG tanker জলপথটি পার হয়নি। অর্থাৎ সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ না হলেও বড় জাহাজের চলাচল সীমিত হওয়ায় বাজারে risk premium বাড়ছে।
এর প্রভাব পড়ছে অন্যান্য energy market-এও। Saudi Arabia, Iraq, UAE এবং Kuwait-এর মতো প্রধান উৎপাদকদের সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগের পাশাপাশি Iran-এর তেল রপ্তানিও চাপের মুখে। Reuters-এর তথ্য অনুযায়ী, China-র independent refiners-এর জন্য Iranian crude-এর September এবং October supply কমছে। ২০২৫ সালে চীনে Iranian crude imports দৈনিক প্রায় 1.4 million barrels-এর উচ্চতায় পৌঁছেছিল। বর্তমানে সেই পরিমাণ প্রায় 534,000 barrels-এ নেমেছে বলে সূত্রের দাবি।
ভারতের জন্যও এই পরিস্থিতি বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। Hormuz-নির্ভর জ্বালানি সরবরাহে দীর্ঘস্থায়ী বিঘ্ন ঘটলে দেশের crude import bill বাড়তে পারে। তার প্রভাব পড়তে পারে রুপির বিনিময়মূল্য, পরিবহণ খরচ এবং মুদ্রাস্ফীতিতে। ২১ আগস্ট রুপি প্রায় 95.70 প্রতি ডলারের কাছে থাকলেও উচ্চ crude price এবং ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা ভারতীয় মুদ্রার উপর চাপ তৈরি করছে বলে Reuters জানিয়েছে।
ফলে ছয় মাসের যুদ্ধ এখন শুধু সামরিক সংঘাতের বিষয় নয়; এটি বিশ্ব অর্থনীতির জন্যও বড় energy-security test। Hormuz-এ বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল কত দ্রুত স্বাভাবিক হয় এবং Washington ও Tehran-এর মধ্যে আলোচনার সম্ভাবনা তৈরি হয় কি না—এই দুই বিষয়ই আগামী দিনে crude oil-এর দিক নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

