হরমুজ নিয়ে কাটছে না অনিশ্চয়তা, মুখোমুখি ইরান-আমেরিকা

NEWS INDIA বাংলা
0

 

হরমুজ নিয়ে এখনও অনিশ্চয়তা

চূড়ান্ত সমঝোতা অধরা, মুখোমুখি ইরান-আমেরিকা, বিশ্ব জ্বালানি বাজারে বাড়ছে উদ্বেগ

হরমুজ প্রণালীতে ইরান-আমেরিকা উত্তেজনা ও বিশ্ব জ্বালানি সংকট


 বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহণপথ হরমুজ প্রণালী নিয়ে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের টানাপোড়েন এখনও কাটেনি। কয়েক দিন আগে ইরান ও ওমানের মধ্যে একটি সমঝোতা চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে বলে খবর এলেও, সেই সমঝোতার ভিত্তিতে হরমুজ প্রণালী স্বাভাবিকভাবে খুলে যাবে, এমন নিশ্চয়তা এখনও নেই। বরং গত কয়েক দিনে দুই পক্ষের বক্তব্যে মতপার্থক্য আরও স্পষ্ট হয়েছে। ফলে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজার, তেল আমদানিকারক দেশ এবং বিশ্ব বাণিজ্যের উপর অনিশ্চয়তার চাপ বজায় রয়েছে।

রয়টার্সের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি জানিয়েছিলেন, হরমুজ নিয়ে ওমানের সঙ্গে সম্ভাব্য চুক্তি চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছিল। কিন্তু সেই চুক্তি কার্যকর হওয়ার পরও জলপথ খুলতে হলে যুক্তরাষ্ট্রকে একাধিক শর্ত পূরণ করতে হবে বলে তেহরান জানিয়েছিল। এর মধ্যে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা ও অবরোধ সংক্রান্ত পদক্ষেপের পরিবর্তন, ইরানের বিদেশে আটকে থাকা অর্থের বিষয়ে সমাধান এবং সামরিক সংঘাত বন্ধ করার মতো বিষয় রয়েছে।

কিন্তু পরিস্থিতি দ্রুত বদলেছে। ১১ আগস্ট ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব মোহসেন রেজায়ি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র তাদের অবস্থান না বদলানো এবং ইরানের শর্ত মেনে না নেওয়া পর্যন্ত হরমুজ বন্ধ থাকবে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ইরান বিদেশে থাকা অর্থের উপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং যুদ্ধ বন্ধের মতো বিষয়কে আলোচনার গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হিসেবে দেখছে।

অন্যদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বুধবার দাবি করেছেন, হরমুজ প্রণালীর উপর যুক্তরাষ্ট্রের ‘সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ’ রয়েছে। একই সঙ্গে তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন যে যুক্তরাষ্ট্র ভবিষ্যতেও এই নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে পারে। ইরানের পক্ষ থেকে অবশ্য সেই দাবি প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে। ইরানের Persian Gulf Strait Authority জানিয়েছে, মার্কিন কর্মকর্তাদের বক্তব্য বাস্তব পরিস্থিতি পরিবর্তন করছে না এবং ইরানের শর্ত পূরণ না হওয়া পর্যন্ত প্রণালী পুনরায় খুলবে না।

১৩ আগস্ট ইরানের Basij বাহিনীর প্রধান হোসেইন তাইয়েবও দাবি করেছেন, হরমুজ প্রণালী ইরানের ‘নিয়ন্ত্রণ ও ব্যবস্থাপনার’ মধ্যে রয়েছে। ফলে একই জলপথ নিয়ে ওয়াশিংটন ও তেহরানের সম্পূর্ণ বিপরীত দাবি পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

এই অচলাবস্থার সরাসরি প্রভাব পড়ছে জ্বালানি বাজারে। হরমুজ প্রণালী দিয়ে স্বাভাবিক সময়ে বিপুল পরিমাণ আন্তর্জাতিক তেল ও LNG পরিবহণ হয়। তাই জলপথে দীর্ঘস্থায়ী বাধা তৈরি হলে সরবরাহের খরচ বাড়তে পারে এবং আমদানিনির্ভর দেশগুলিতে মূল্যস্ফীতির চাপও তৈরি হতে পারে। ইতিমধ্যেই আলোচনায় অচলাবস্থার খবরের সঙ্গে তেলের বাজারে ওঠানামা দেখা যাচ্ছে।

তবে কূটনৈতিক পথ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়নি। পাকিস্তান ও কাতারসহ কয়েকটি দেশ মধ্যস্থতার মাধ্যমে সমাধানের সম্ভাবনা নিয়ে কাজ করছে বলে সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। কিন্তু এখনও পর্যন্ত কোনও চূড়ান্ত, কার্যকর এবং দুই পক্ষের স্বীকৃত চুক্তি সামনে আসেনি।

সব মিলিয়ে, হরমুজ সংকট এখন শুধু ইরান-আমেরিকার দ্বন্দ্ব নয়। এটি বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহ, তেলের দাম, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। আলোচনার দরজা খোলা থাকলেও, শর্ত ও নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দুই পক্ষের অবস্থান এতটাই দূরে যে দ্রুত সমাধানের নিশ্চয়তা এখনও নেই। 

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন (0)

#buttons=(Ok, Go it!) #days=(20)

Our website uses cookies to enhance your experience. Check Now
Ok, Go it!