শুধু ভাই নয়, স্বামীর হাতেও বাঁধতে পারেন রাখি! পুরাণে রয়েছে স্ত্রী-স্বামীর রক্ষাসূত্রের কাহিনি
ইন্দ্রের হাতে রক্ষাসূত্র বেঁধেছিলেন ইন্দ্রাণী, ২০২৬-এর রাখিবন্ধনের আগে জানুন সেই পৌরাণিক কাহিনি ও রীতির কথা
নিউজ ইন্ডিয়া ওয়েব ডেস্কঃ রাখিবন্ধন মানেই কি শুধু ভাই-বোনের সম্পর্ক? আধুনিক সময়ে এই উৎসবের পরিধি অনেকটাই বদলেছে। অনেক স্ত্রীও স্বামীর হাতে রাখি বা রক্ষাসূত্র বেঁধে তাঁর দীর্ঘায়ু, সুস্বাস্থ্য ও মঙ্গল কামনা করেন। শুনতে নতুন মনে হলেও, হিন্দু ধর্মীয় সাহিত্যের একটি প্রাচীন কাহিনিতে স্ত্রী কর্তৃক স্বামীর হাতে রক্ষাসূত্র বাঁধার উল্লেখ রয়েছে। ফলে স্বামীর হাতে রাখি বাঁধার রীতিকে শুধুমাত্র আধুনিক ট্রেন্ড বললে বিষয়টির একটি গুরুত্বপূর্ণ পৌরাণিক দিক বাদ পড়ে যায়।
রাখিবন্ধনের প্রচলিত অর্থ ভাই-বোনের স্নেহ ও পারস্পরিক সুরক্ষার বন্ধন। কিন্তু ‘রক্ষা’ ও ‘বন্ধন’—এই দুই শব্দের অর্থের মধ্যেই রয়েছে সুরক্ষার প্রতিশ্রুতি। বিভিন্ন ধর্মীয় ব্যাখ্যায় রক্ষাসূত্রকে অশুভ থেকে রক্ষা, মঙ্গলকামনা এবং আশীর্বাদের প্রতীক হিসেবে দেখা হয়। তাই এই সূত্র কেবল ভাইয়ের কবজিতেই বাঁধতে হবে—এমন ধারণা সব ধর্মীয় কাহিনিতে একইভাবে পাওয়া যায় না।
ভবিষ্য পুরাণের সঙ্গে যুক্ত একটি বহুল প্রচলিত কাহিনিতে দেবরাজ ইন্দ্র এবং তাঁর স্ত্রী শচী বা ইন্দ্রাণীর কথা রয়েছে। দেবতা ও অসুরদের দীর্ঘ যুদ্ধে দেবতারা বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছিলেন। সেই পরিস্থিতিতে ইন্দ্রকে রক্ষা ও যুদ্ধে সাফল্যের আশীর্বাদ দিতে একটি বিশেষ রক্ষাসূত্র প্রস্তুত করা হয়। শচী সেই রক্ষাসূত্র ইন্দ্রের হাতে বেঁধেছিলেন বলে কাহিনিতে বর্ণিত হয়েছে। পরে ইন্দ্র যুদ্ধে জয়লাভ করেন। এই কাহিনিই রাখির অন্যতম প্রাচীন পৌরাণিক ব্যাখ্যা হিসেবে বিভিন্ন ধর্মীয় সূত্রে উল্লেখ করা হয়।
অর্থাৎ, প্রচলিত এই পৌরাণিক বর্ণনায় রক্ষাসূত্রের সম্পর্ক শুধু ভাই-বোনের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না। স্বামীর মঙ্গল ও সুরক্ষার কামনাতেও স্ত্রী রক্ষাসূত্র বেঁধেছেন—এমন নজির রয়েছে। এই কারণেই বর্তমানে কোনও স্ত্রী যদি স্বামীর কবজিতে রাখি বেঁধে তাঁর দীর্ঘায়ু, সুস্বাস্থ্য বা সাফল্য কামনা করেন, সেটিকে অনেকেই সেই প্রাচীন রক্ষাসূত্রের ভাবনার সঙ্গে যুক্ত করেন।
তবে এখানে একটি বিষয় পরিষ্কার রাখা জরুরি। পুরাণের কাহিনি ধর্মীয় বিশ্বাস ও ঐতিহ্যের অংশ; এগুলিকে আধুনিক ঐতিহাসিক দলিল হিসেবে দেখা যায় না। তাই ‘রাখির জন্মই হয়েছিল স্ত্রী-স্বামীর সম্পর্ক থেকে’—এমন চূড়ান্ত দাবি না করে বলা যায়, প্রাচীন ধর্মীয় সাহিত্যে স্ত্রী কর্তৃক স্বামীর হাতে রক্ষাসূত্র বাঁধার একটি গুরুত্বপূর্ণ কাহিনি রয়েছে।
এ বছর অর্থাৎ ২০২৬ সালে রাখিবন্ধন পালিত হবে ২৮ আগস্ট, শুক্রবার। পঞ্জিকা অনুযায়ী ওই দিন পূর্ণিমা তিথি রয়েছে এবং বিভিন্ন স্থানের জন্য রক্ষাসূত্র বাঁধার শুভ সময় আলাদা হতে পারে। দিল্লির পঞ্জিকা অনুযায়ী সকাল ৫টা ৫৭ মিনিট থেকে ৯টা ৪৮ মিনিট পর্যন্ত রক্ষাবন্ধনের সময় উল্লেখ করা হয়েছে। স্থানীয় পঞ্জিকা অনুযায়ী সময় মিলিয়ে নেওয়াই উপযুক্ত।
তাই রাখিবন্ধনে স্বামীর হাতে রক্ষাসূত্র বাঁধতে চাইলে সেটিকে নিছক নতুন ফ্যাশন না ভেবে ভালোবাসা, মঙ্গলকামনা ও সুরক্ষার প্রতীক হিসেবেও দেখা যেতে পারে। শেষ পর্যন্ত রাখির আসল অর্থ তো সম্পর্কের প্রতি দায়িত্ব, বিশ্বাস এবং একে অপরের পাশে থাকার অঙ্গীকার।

