Baruipur Case: সিপিএম নেতা লাহেক আলি গ্রেফতার, রাজনৈতিক চাপানউতোর তুঙ্গে

NEWS INDIA বাংলা
0

 বারুইপুর-কাণ্ডে সিপিএম নেতা গ্রেফতার, ‘উস্কানি’ বনাম ‘রাজনৈতিক প্রতিহিংসা’ ঘিরে তীব্র বিতর্ক

বারুইপুরের অশান্তির পর লাহেক আলির গ্রেফতারি, পুলিশের অভিযোগের পাল্টা রাজনৈতিক প্রতিহিংসার দাবি

বারুইপুর কাণ্ডে গ্রেফতার সিপিএম নেতা লাহেক আলি


বারুইপুরের নাবালিকা ধর্ষণ ও হত্যার অভিযোগকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া বিক্ষোভ এবার রাজনৈতিক সংঘাতের নতুন মাত্রা পেয়েছে। সূর্যপুরে অশান্তি, পুলিশের উপর হামলা, সরকারি সম্পত্তি ভাঙচুর, রাস্তা অবরোধ এবং গণপিটুনিতে এক ব্যক্তির মৃত্যুর ঘটনায় একের পর এক গ্রেফতারির মধ্যেই সিপিআইএম নেতা লাহেক আলির গ্রেফতারি নিয়ে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছে। পুলিশ তাঁর বিরুদ্ধে অশান্তিতে উস্কানি দেওয়ার অভিযোগ এনেছে। অন্যদিকে, সিপিআইএমের দাবি, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যেই তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

গত ৫ জুলাই বারুইপুরের সূর্যপুর এলাকায় একটি পুকুর থেকে নাবালিকার দেহ উদ্ধারের পরই ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। ধর্ষণ ও হত্যার অভিযোগকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ শুরু করেন। পরিস্থিতি ক্রমে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পুলিশকে লক্ষ্য করে হামলা, রাস্তা অবরোধ, ভাঙচুর এবং আগুন লাগানোর অভিযোগ ওঠে। একই সময়ে সন্দেহের বশে এক ব্যক্তিকে গণপিটুনি দিয়ে হত্যার ঘটনাও ঘটে। এই ঘটনাগুলিকে ঘিরে পৃথক মামলায় তদন্ত শুরু করে পুলিশ।

এই অশান্তির মামলাতেই ১২ জুলাই রাতে সিপিআইএম নেতা লাহেক আলিকে গ্রেফতার করা হয়। তিনি ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বারুইপুর পশ্চিম কেন্দ্রের বামফ্রন্ট প্রার্থী ছিলেন। পুলিশের অভিযোগ, সূর্যপুরের বিক্ষোভে তিনি উস্কানিমূলক ভূমিকা নিয়েছিলেন। তাঁর বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার (BNS) একাধিক ধারা-সহ সরকারি সম্পত্তি নষ্ট, জনশৃঙ্খলা ও রেল আইনের বিভিন্ন ধারায় মামলা করা হয়েছে বলে রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে।

গ্রেফতারের পর থেকেই অবশ্য অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন লাহেক আলি। আদালতে যাওয়ার সময় তাঁর দাবি, তিনি কোনও ধরনের উস্কানি দেননি এবং তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তাঁর আইনজীবীরাও দাবি করেছেন, ঘটনাস্থলে তাঁর ভূমিকা ছিল পরিস্থিতি শান্ত করার। সিপিআইএম নেতৃত্বও গ্রেফতারিকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা হিসেবে দেখছে। দলের নেতাদের বক্তব্য, প্রতিবাদে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের নিশানা করা হচ্ছে, অথচ মূল অপরাধের তদন্ত থেকে নজর ঘোরানোর চেষ্টা চলছে।

অন্যদিকে, প্রশাসনের অবস্থান স্পষ্ট। ধর্ষণ ও হত্যার অভিযোগের তদন্তের পাশাপাশি বিক্ষোভের নামে হিংসা, পুলিশের উপর হামলা কিংবা সরকারি সম্পত্তি নষ্টের ঘটনাতেও আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে। তদন্তকারীদের দাবি, অপরাধের ধরন আলাদা হলেও সংশ্লিষ্ট সব ঘটনাকে গুরুত্ব দিয়েই তদন্ত এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।

বারুইপুরের ঘটনায় তদন্তের পরিধিও ইতিমধ্যে বেড়েছে। নাবালিকার ধর্ষণ ও হত্যার মামলা ছাড়াও গণপিটুনিতে মৃত্যু, পুলিশকর্মীদের উপর হামলা, ভাঙচুর, রাস্তা অবরোধ এবং রেল পরিষেবা ব্যাহত করার অভিযোগে পৃথক মামলা হয়েছে। পুলিশ তদন্তে নতুন আধিকারিককেও দায়িত্ব দিয়েছে।

এদিকে লাহেক আলির গ্রেফতারির পর রাজনৈতিক চাপানউতোর আরও তীব্র হয়েছে। একদিকে পুলিশের দাবি, প্রাপ্ত তথ্য ও অভিযোগের ভিত্তিতেই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে বাম নেতৃত্বের অভিযোগ, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণেই এই গ্রেফতারি। ফলে বারুইপুর-কাণ্ড এখন শুধুমাত্র একটি অপরাধের তদন্তে সীমাবদ্ধ নেই। ন্যায়বিচারের দাবি, জনতার ক্ষোভ, আইনশৃঙ্খলা এবং রাজনৈতিক বিরোধিতা, সবকিছু মিলিয়ে ঘটনাটি রাজ্য রাজনীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

এখন নজর আদালতের পরবর্তী সিদ্ধান্ত এবং তদন্তে পুলিশের হাতে কী তথ্য আসে তার দিকে। একইসঙ্গে মূল ধর্ষণ-হত্যা মামলার তদন্ত এবং পরবর্তী হিংসার ঘটনায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ, দু’টি ক্ষেত্রেই পুলিশের ভূমিকা নিয়ে নজর থাকবে রাজনৈতিক ও সাধারণ মহলের।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন (0)

#buttons=(Ok, Go it!) #days=(20)

Our website uses cookies to enhance your experience. Check Now
Ok, Go it!