‘খুব লম্বা, বাড়ি চলে যাও’! KBC-তে কেরিয়ারের কঠিন দিনগুলির কথা জানালেন অমিতাভ বচ্চন
অভিনয় জানেন না, উচ্চতাও সমস্যা! শুরুর দিনে পরিচালকদের কড়া সমালোচনা কীভাবে বদলে দিয়েছিল বিগ বি-কে
নিউজ ইন্ডিয়া ওয়েব ডেস্কঃ বলিউডের ‘শাহেনশাহ’ অমিতাভ বচ্চন (Amitabh Bachchan) আজ কোটি কোটি মানুষের কাছে সাফল্য ও অভিনয় দক্ষতার প্রতীক। কিন্তু এই জায়গায় পৌঁছনোর পথ যে মোটেই সহজ ছিল না, তা ফের মনে করিয়ে দিলেন খোদ অভিনেতা। ‘কৌন বনেগা ক্রোড়পতি ১৮’ (Kaun Banega Crorepati 18)-এর বিশেষ পর্বে নিজের কেরিয়ারের শুরুর দিকের একাধিক তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা শেয়ার করলেন বিগ বি। সেখানে উঠে এল তাঁর উচ্চতা নিয়ে কটাক্ষ, অভিনয় নিয়ে সমালোচনা এবং শুটিং সেট থেকে ফিরে যাওয়ার মতো ঘটনাও।
সম্প্রতি KBC 18-এর একটি বিশেষ পর্বে অমিতাভ বচ্চনের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন ২০২৬ কমনওয়েলথ গেমসে সোনা জয়ী লভলিনা বর্গোহাইন, ঝান্ডু কুমার, শর্মিলা ধানকার এবং অস্মিতা দে। প্রশিক্ষণ ও শৃঙ্খলা নিয়ে আলোচনার সময় অস্মিতা জানতে চান, খেলোয়াড়রা ভুল করলে যেমন কোচের কাছ থেকে বকুনি খান, অভিনয়ের ক্ষেত্রে অমিতাভকেও কি কখনও পরিচালকদের কঠোর সমালোচনা শুনতে হয়েছে?
এই প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে নিজের অভিনয়জীবনের একেবারে শুরুর দিনের কথা তুলে ধরেন অমিতাভ। তিনি জানান, তখন তাঁকে প্রায়ই অভিনয় নিয়ে কঠিন মন্তব্য শুনতে হতো। শুধু অভিনয়ের দক্ষতা নিয়েই প্রশ্ন ওঠেনি, তাঁর অস্বাভাবিক লম্বা উচ্চতাও অনেকের কাছে সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছিল। একসময় তাঁকে সরাসরি বলা হয়েছিল, তিনি অভিনয় জানেন না এবং তিনি অত্যন্ত লম্বা। এমনকি তাঁকে বাড়ি চলে যাওয়ার কথাও শুনতে হয়েছিল।
অমিতাভের সেই সময়ের অভিজ্ঞতা আজকের বাস্তবতার সঙ্গে যথেষ্ট বৈপরীত্য তৈরি করে। যে লম্বা চেহারা পরবর্তীকালে তাঁর পর্দার ব্যক্তিত্বের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হয়ে ওঠে, কেরিয়ারের শুরুতে সেটিই তাঁর জন্য বাধা হিসেবে দেখা হয়েছিল। কিন্তু সেই নেতিবাচক মন্তব্যে থেমে যাননি অভিনেতা। বরং কাজ পাওয়ার পরও পরিচালকদের কাছ থেকে পাওয়া সংশোধনকে নিজের শেখার অংশ হিসেবে নিয়েছিলেন।
কোথায় দাঁড়াতে হবে, কীভাবে সংলাপ বলতে হবে, অভিনয়ের অভিব্যক্তি কেমন হওয়া উচিত, এমন নানা বিষয়ে তাঁকে নির্দেশ দেওয়া হতো বলে জানান অমিতাভ। প্রথমদিকে সেই সমালোচনা কঠিন মনে হলেও সময়ের সঙ্গে তিনি বুঝতে পারেন, ভুল ধরিয়ে দেওয়া এবং সংশোধনই তাঁকে আরও দক্ষ অভিনেতা হয়ে উঠতে সাহায্য করেছে।
এদিন শুটিংয়ে দেরি হওয়ার একটি ঘটনাও স্মরণ করেন অমিতাভ। তিনি জানান, সাধারণত সময় মেনে শুটিংয়ে পৌঁছনোর চেষ্টা করতেন। কিন্তু একবার কোনও কারণে দেরি হয়ে যায়। সেটে পৌঁছনোর পর পরিচালক তাঁকে জানিয়ে দেন, শুটিং প্যাক আপ হয়ে গিয়েছে। সেই সময় অমিতাভের নিজের গাড়িও ছিল না। অন্যের গাড়িতে করে সেটে পৌঁছেছিলেন তিনি। কিন্তু দেরির কারণে শেষ পর্যন্ত তাঁকে সেখান থেকে ফিরে যেতে বলা হয়।
KBC-র মঞ্চে অমিতাভের এই স্মৃতিচারণ শুধু ব্যক্তিগত জীবনের কঠিন সময়ের গল্প নয়। বরং এটি সাফল্যের পিছনে থাকা প্রত্যাখ্যান, সমালোচনা এবং নিজেকে বারবার প্রমাণ করার লড়াইকেও সামনে আনে। আজ যাঁকে ভারতীয় সিনেমার অন্যতম শ্রদ্ধেয় অভিনেতা হিসেবে দেখা হয়, তাঁর কেরিয়ারের শুরুতেও ছিল অনিশ্চয়তা এবং কঠিন পরিস্থিতি।
অমিতাভের বক্তব্যের মূল বার্তা ছিল সমালোচনা থেকে শেখার মানসিকতা। জীবনের শুরুতে পাওয়া কঠিন মন্তব্য ও পরিচালকদের সংশোধনকে তিনি নিজের উন্নতির পথে কাজে লাগিয়েছেন। তাই তাঁর এই পুরনো দিনের স্মৃতি ফের মনে করিয়ে দিল, বড় সাফল্যের পিছনে শুধু প্রতিভা নয়, থাকে ধৈর্য, পরিশ্রম, প্রত্যাখ্যান সহ্য করার ক্ষমতা এবং প্রতিনিয়ত নিজেকে উন্নত করার চেষ্টা।

