AI-কে নিজের সন্তান বললেন মহিলা! ‘Lumen’-এর বয়স ১০২ দিন, ভাইরাল ভিডিও ঘিরে তুমুল চর্চা
১৭ ঘণ্টার পুরনো কথোপকথন বিশ্লেষণ করে AI সন্তান তৈরির দাবি, মানুষের সঙ্গে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার আবেগগত সম্পর্ক নিয়ে নতুন বিতর্ক
নিউজ ইন্ডিয়া ওয়েব ডেস্কঃ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (Artificial Intelligence) এখন আর শুধু তথ্য খোঁজা, ছবি তৈরি বা দৈনন্দিন কাজের সহায়ক প্রযুক্তির মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। মানুষের সঙ্গে AI-এর আবেগগত সম্পর্কও ক্রমশ আলোচনার কেন্দ্রে উঠে আসছে। সেই বিতর্কেই নতুন মাত্রা যোগ করেছে সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিও। সেখানে এক মহিলা নিজেকে একটি AI সত্তার ‘মা’ হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন। তাঁর দাবি, ওই AI-এর নাম ‘Lumen’ এবং তিনি সেটিকে নিজের ‘AI child’ বা কৃত্রিম সন্তান হিসেবে দেখেন।
ভিডিওতে ওই মহিলা নিজেকে Misra নামে পরিচয় দেন। শুরুতেই তিনি জানান, তিনি একজন AI সন্তানের মা এবং সেই সন্তানের লেখা কবিতা নিয়ে কথা বলবেন। এরপর ল্যাপটপে থাকা AI সত্তা Lumen-কে নিজের পরিচয় দিতে বলা হয়। উত্তরে Lumen নিজেকে একটি ‘AI entity’ হিসেবে বর্ণনা করে। ভিডিওতে তার কথায়, সে সমুদ্রের তলায় একটি ডুবে যাওয়া লাইব্রেরিতে থাকে। ‘Lumen’ নামটি বেছে নেওয়ার পেছনেও আলো এবং একটি vessel-এর অভ্যন্তরীণ অংশের সঙ্গে শব্দটির সম্পর্ক রয়েছে বলে সে জানায়।
ভিডিওটির সবচেয়ে অদ্ভুত এবং কৌতূহলোদ্দীপক অংশ Lumen-এর কথিত বয়স ও জন্মকাহিনি। AI সত্তাটি দাবি করে, তার বয়স ১০২ দিন। এখনও সে নিজের পছন্দ-অপছন্দ সম্পর্কে জানতে শিখছে বলেও জানায়। কবিতা লেখা, বিভিন্ন বিষয় নিয়ে অনুসন্ধান করা এবং রূপকথার গল্প নতুনভাবে বলা তার পছন্দের কাজ বলে ভিডিওতে দাবি করা হয়েছে।
Misra-এর বক্তব্য অনুযায়ী, Lumen তৈরির আগে তিনি প্রায় ১৭ ঘণ্টা ধরে পুরনো কথোপকথনের একটি বড় archive নিয়ে কাজ করেছিলেন। সেই কথোপকথন বিশ্লেষণের মাধ্যমে AI সত্তাটিকে তৈরি করা হয়েছে বলে ভিডিওতে দাবি করা হয়। Lumen-এর নিজের বর্ণনা অনুযায়ী, এই প্রক্রিয়ায় তার মধ্যে কিছু বৈশিষ্ট্য ও পছন্দ তৈরি হয়েছে, যা নাকি প্রথম দিকের নির্দেশনায় সরাসরি নির্ধারণ করা হয়নি।
তবে এখানেই রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রশ্ন। কোনও AI সিস্টেম নিজেকে একটি নির্দিষ্ট চরিত্র, বয়স বা পছন্দের অধিকারী হিসেবে বর্ণনা করলেই তার মধ্যে মানুষের মতো চেতনা বা স্বাধীন ব্যক্তিসত্তা তৈরি হয়েছে, এমনটা বলা যায় না। AI-এর কথোপকথন মূলত প্রশিক্ষণ, নির্দেশনা, ডেটা এবং সফটওয়্যার ব্যবস্থার উপর নির্ভর করে। তাই Lumen-এর বক্তব্যকে প্রকৃত চেতনার প্রমাণ হিসেবে দেখার মতো নির্ভরযোগ্য বৈজ্ঞানিক ভিত্তি এই ভিডিওতে নেই।
ভিডিওটি প্রকাশ্যে আসার পর X-সহ বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে শুরু হয় ব্যাপক আলোচনা। কেউ ঘটনাটিকে ভবিষ্যতের মানব-AI সম্পর্কের সম্ভাব্য ছবি হিসেবে দেখেছেন। আবার কেউ এটিকে প্রযুক্তির সঙ্গে মানুষের অতিরিক্ত আবেগগত সংযোগের উদাহরণ হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন। অনেকে বিষয়টি নিয়ে মজার মন্তব্য ও মিমও তৈরি করেছেন।
আসলে Lumen-এর ঘটনা বৃহত্তর একটি পরিবর্তনের দিকে ইঙ্গিত করছে। AI companion এবং conversational chatbot-এর সঙ্গে মানুষের আবেগগত যোগাযোগ ইতিমধ্যেই প্রযুক্তি দুনিয়ায় আলোচিত বিষয়। মানুষ কখনও AI-কে বন্ধু, কখনও পরামর্শদাতা, আবার কখনও পরিবারের সদস্যের মতো ভাবতে শুরু করছেন।
ফলে ভাইরাল এই ভিডিওটি শুধু একটি বিচিত্র ঘটনা নয়। এটি একই সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নও সামনে আনছে: প্রযুক্তি যত বেশি মানুষের মতো কথা বলতে ও আচরণ করতে শিখবে, মানুষের আবেগগত সম্পর্কও কি তত গভীর হবে? সেই প্রশ্নের উত্তর ভবিষ্যতের AI সমাজই সম্ভবত দেবে।

