ISRO-র বাইরে ভারতের মহাকাশে নতুন শক্তি, ২০ Space Startup-এর সঙ্গে বৈঠকে বড় বার্তা মোদির
রকেট থেকে AI Weather Intelligence, ভারতের Space Sector-এ কেন বাড়ছে Private Startup-এর গুরুত্ব?
ভারতের মহাকাশ গবেষণার পরবর্তী অধ্যায় যে আর শুধু সরকারি সংস্থা বা ISRO-র মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকছে না, বেসরকারি Space Startup-গুলিও যে দেশের মহাকাশ অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ চালিকাশক্তি হয়ে উঠছে—National Space Day-এ সেই বার্তাই আরও স্পষ্ট করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। রবিবার, ২৩ আগস্ট National Space Day উপলক্ষে তিনি ২১ আগস্ট দিল্লির Seva Teerth-এ ২০টি ভারতীয় Space Startup-এর CEO ও Founder-দের সঙ্গে বৈঠকের প্রসঙ্গ তুলে ধরেন।
বৈঠকে ভারতের বেসরকারি মহাকাশ শিল্পের সম্ভাবনা, নীতির ধারাবাহিকতা, নতুন প্রযুক্তির ব্যবহার এবং আন্তর্জাতিক প্রতিভা ও বিনিয়োগকে ভারতে আনার মতো একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। প্রধানমন্ত্রী বিশেষভাবে জোর দেন predictable policy-র উপর। অর্থাৎ, মহাকাশ শিল্পের জন্য এমন একটি নীতি-পরিবেশ তৈরি করা, যেখানে উদ্যোক্তারা দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ও বিনিয়োগ করতে পারেন এবং নীতিগত অনিশ্চয়তার ঝুঁকি তুলনামূলকভাবে কম থাকে।
মোদির বক্তব্য অনুযায়ী, ভারতকে এমন একটি Space Ecosystem গড়ে তুলতে হবে, যাতে বিশ্বের মানুষ মহাকাশ প্রযুক্তির কথা ভাবলে ভারতের দিকে তাকায়। একই সঙ্গে ভারতীয় Space Sector-কে global talent, technology, companies এবং investment আকর্ষণের কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যও তুলে ধরেন তিনি।
এই বৈঠকে Skyroot Aerospace, Agnikul Cosmos, Pixxel, Dhruva Space, GalaxEye, PierSight, Bellatrix Aerospace এবং Digantara-সহ মোট ২০টি Space Startup-এর প্রতিনিধিরা অংশ নেন। এই সংস্থাগুলির কাজের পরিধিও যথেষ্ট বিস্তৃত। Rocket ও reusable launch vehicle থেকে শুরু করে satellite, avionics, advanced propulsion, space intelligence এবং space debris management—বিভিন্ন প্রযুক্তিতে কাজ করছে ভারতীয় সংস্থাগুলি।
এর পাশাপাশি Artificial Intelligence বা AI-ভিত্তিক weather ও climate intelligence, Earth Observation এবং satellite data ব্যবহারের ক্ষেত্রেও বেসরকারি সংস্থাগুলির ভূমিকা বাড়ছে। ফলে ভারতের private space ecosystem এখন আর শুধু রকেট উৎক্ষেপণ বা উপগ্রহ তৈরির মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। কৃষি, পরিবেশ, আবহাওয়া, জলবায়ু পর্যবেক্ষণ এবং প্রতিরক্ষা-সংক্রান্ত তথ্য বিশ্লেষণের মতো ক্ষেত্রেও Space Technology-র ব্যবহার বাড়ানোর সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী Space Technology-কে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন সমস্যার সমাধানের সঙ্গে আরও বেশি যুক্ত করার উপরও গুরুত্ব দেন। কৃষিক্ষেত্রে satellite data ব্যবহার করে কৃষকদের সিদ্ধান্ত গ্রহণে সহায়তা, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং climate intelligence-এর ব্যবহার বাড়ানোর কথা উঠে আসে। Space Startup এবং সামাজিক উন্নয়নমূলক প্রতিষ্ঠানগুলির মধ্যে collaboration বাড়ানোর পাশাপাশি স্কুলস্তরে মহাকাশ নিয়ে আগ্রহ তৈরি করতে Atal Tinkering Labs-এর সঙ্গে Startup-গুলির সহযোগিতার পরামর্শও দেওয়া হয়।
২০২০ সালে private sector-এর জন্য মহাকাশ ক্ষেত্র আরও উন্মুক্ত করার পর এবং Indian Space Policy 2023-এর মাধ্যমে নীতিগত কাঠামো তৈরির পর ভারতের বেসরকারি মহাকাশ শিল্পে উল্লেখযোগ্য সম্প্রসারণ হয়েছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালে দেশের Space Startup ecosystem-এ ৪০০-রও বেশি সংস্থা রয়েছে।
তবে সামনে রয়েছে একাধিক চ্যালেঞ্জ। দীর্ঘমেয়াদি capital, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা, launch infrastructure, দক্ষ কর্মী এবং আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার সঙ্গে তাল মেলানো—সবকিছুই গুরুত্বপূর্ণ। ফলে National Space Day-এ প্রধানমন্ত্রীর বার্তার মূল লক্ষ্য শুধু নতুন Startup তৈরি নয়; বরং ভারতকে একটি দীর্ঘমেয়াদি global space innovation hub হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা।

