NEET বিতর্কে সোনম ওয়াংচুকের অনশন ১৬ দিনে, রাহুলকে আন্দোলনে যোগ দেওয়ার আবেদন উদ্ধবের

NEWS INDIA বাংলা
0
Sonam Wangchuk hunger strike at Jantar Mantar over NEET controversy



NEET-সহ বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় অনিয়ম ও প্রশ্নফাঁসের অভিযোগের প্রতিবাদে দিল্লির যন্তর মন্তরে চলা আন্দোলন আরও জোরালো হচ্ছে। এই আন্দোলনের অন্যতম মুখ সমাজকর্মী ও গবেষক সোনম ওয়াংচুক টানা অনশনে রয়েছেন। আন্দোলনের ১৬তম দিনে তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন আয়োজকরা। তাঁদের দাবি, দীর্ঘ অনশনের কারণে সোনম ওয়াংচুকের ওজন ৮ কেজিরও বেশি কমে গিয়েছে।


একই সঙ্গে এই আন্দোলনে রাজনৈতিক সমর্থন বাড়ানোর চেষ্টা শুরু হয়েছে। শিবসেনা (উদ্ধব বালাসাহেব ঠাকরে) প্রধান উদ্ধব ঠাকরে কংগ্রেস নেতা তথা লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীকে যন্তর মন্তরের আন্দোলনে যোগ দেওয়ার আবেদন জানিয়েছেন।



NEET বিতর্ক ঘিরে কেন আন্দোলনে সোনম ওয়াংচুক?

NEET-সহ একাধিক জাতীয় স্তরের পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁস ও অনিয়মের অভিযোগ ঘিরে দেশজুড়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। পরীক্ষার স্বচ্ছতা বজায় রাখা, তদন্ত এবং শিক্ষা ব্যবস্থার সংস্কারের দাবিতে দিল্লির যন্তর মন্তরে প্রতিবাদ কর্মসূচি শুরু হয়েছে।


আন্দোলনকারীদের অন্যতম দাবি, NEET প্রশ্নফাঁসের অভিযোগের দায় নিয়ে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ করা উচিত। পাশাপাশি দেশের পরীক্ষা ব্যবস্থাকে আরও স্বচ্ছ ও নির্ভরযোগ্য করার দাবিও জানানো হয়েছে।


এই দাবিগুলিকে সামনে রেখেই অনির্দিষ্টকালের অনশনে বসেছেন সোনম ওয়াংচুক।



১৬ দিনে শারীরিক অবস্থার অবনতি, কী জানালেন আন্দোলনকারীরা?

আন্দোলনের আয়োজকদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সোমবার সোনম ওয়াংচুকের অনশন ১৬ দিনে পৌঁছেছে। তাঁদের দাবি, দীর্ঘ সময় খাবার না খাওয়ার কারণে তাঁর শারীরিক পরিস্থিতিতে প্রভাব পড়েছে।


আয়োজকদের বক্তব্য অনুযায়ী, বর্তমানে তাঁর রক্তচাপ ১০৭/৭০ মিমি এইচজি রয়েছে এবং ওজন ৮ কেজির বেশি কমেছে।


তবে তাঁর শারীরিক অবস্থা নিয়ে চিকিৎসকদের পক্ষ থেকে কোনও বিস্তারিত মেডিক্যাল রিপোর্ট প্রকাশ্যে এসেছে কি না, তা স্পষ্ট নয়।



সরকারের কাছে কী আবেদন আন্দোলনকারীদের?

আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপ সোনম ওয়াংচুকের স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।


তিনি সরকারের কাছে আবেদন জানিয়েছেন, বিষয়টিকে যেন রাজনৈতিক সংঘাত বা অহংকারের লড়াই হিসেবে না দেখা হয়। তাঁর বক্তব্য, এখানে একজন মানুষের জীবন এবং বৃহত্তর শিক্ষা ব্যবস্থার ভবিষ্যতের প্রশ্ন জড়িয়ে রয়েছে।


অভিজিৎ দীপ আরও বলেন, ভুল স্বীকার করা দুর্বলতার পরিচয় নয়, বরং সমস্যা সমাধানের সদিচ্ছার প্রকাশ।



উদ্ধব ঠাকরের রাহুল গান্ধীকে আবেদন

এদিকে দিল্লির যন্তর মন্তরে চলা এই আন্দোলনে বিরোধী রাজনৈতিক নেতাদের অংশগ্রহণের দাবি উঠেছে।


শিবসেনা (উদ্ধব গোষ্ঠী)-র প্রধান উদ্ধব ঠাকরে সোমবার মুম্বইয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বলেন, তিনি নিজে এই আন্দোলনে যোগ দেবেন।


পাশাপাশি তিনি রাহুল গান্ধীকেও সেখানে যাওয়ার আবেদন জানান। তাঁর বক্তব্য, দেশের তরুণদের ভবিষ্যৎ নিয়ে যারা উদ্বিগ্ন, তাঁদের সকলেরই এই আন্দোলনের পাশে দাঁড়ানো উচিত।


উদ্ধবের মতে, শিক্ষা ব্যবস্থার স্বচ্ছতা নিয়ে যে প্রশ্ন উঠেছে, তা শুধুমাত্র কোনও একটি রাজনৈতিক দলের বিষয় নয়, বরং দেশের ছাত্রছাত্রীদের ভবিষ্যতের সঙ্গে যুক্ত।



NEET বিতর্কে সরকারের অবস্থান কী?

NEET প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকার তদন্তের কথা জানিয়েছে। বিভিন্ন পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগ সামনে আসার পর পরীক্ষা ব্যবস্থার নিরাপত্তা ও স্বচ্ছতা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।


সরকারের পক্ষ থেকে পরীক্ষার প্রক্রিয়াকে আরও শক্তিশালী করার বিষয়ে বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা বলা হয়েছে।


অন্যদিকে বিরোধীদের অভিযোগ, বারবার প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় দেশের লক্ষ লক্ষ পরীক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়ছে।



কেন গুরুত্বপূর্ণ সোনম ওয়াংচুকের আন্দোলন?

সোনম ওয়াংচুক দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষা, পরিবেশ এবং সামাজিক বিষয়ে কাজ করে আসছেন। তাঁর আন্দোলন শুধুমাত্র NEET বিতর্কের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়েও প্রশ্ন তুলছে।


পরীক্ষার মাধ্যমে ভবিষ্যৎ গড়ার স্বপ্ন দেখা লক্ষ লক্ষ ছাত্রছাত্রীর কাছে প্রশ্নপত্রের নিরাপত্তা এবং নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।


বিশেষজ্ঞদের মতে, যেকোনও প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রতি মানুষের আস্থা বজায় রাখতে হলে দ্রুত অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত এবং প্রয়োজনীয় সংস্কার জরুরি।



সামনে কী হতে পারে?

সোনম ওয়াংচুকের অনশন যত দীর্ঘ হচ্ছে, ততই বিষয়টি রাজনৈতিক ও সামাজিক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে আসছে।


একদিকে আন্দোলনকারীরা তাঁদের দাবিতে অনড়, অন্যদিকে সরকার কীভাবে এই পরিস্থিতির মোকাবিলা করে, সেদিকেই নজর রয়েছে।


NEET ও অন্যান্য পরীক্ষার স্বচ্ছতা নিয়ে তৈরি হওয়া বিতর্কের সমাধান এখন শুধু রাজনৈতিক চাপের বিষয় নয়, বরং দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার বিশ্বাসযোগ্যতা পুনরুদ্ধারের বড় পরীক্ষা বলেই মনে করা হচ্ছে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন (0)

#buttons=(Ok, Go it!) #days=(20)

Our website uses cookies to enhance your experience. Check Now
Ok, Go it!