২১ জুলাইয়ের শহিদ দিবসের মঞ্চ থেকে কেন্দ্র সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র রাজনৈতিক আক্রমণ শানালেন তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। দিল্লিতে আন্দোলনরত যুবকদের বিরুদ্ধে পুলিশি পদক্ষেপের সমালোচনা করার পাশাপাশি কলকাতায় দলীয় কর্মসূচিকে ঘিরে হামলার অভিযোগও তোলেন তিনি। একইসঙ্গে তাঁর দাবি, বাংলা থেকেই যে রাজনৈতিক লড়াই শুরু হয়েছে, তা আগামী দিনে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে পড়বে।
বক্তৃতায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেন, দিল্লিতে আন্দোলনরত যুবকদের সঙ্গে পুলিশ যে আচরণ করেছে, তা গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের পরিপন্থী। তিনি বলেন, শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ কর্মসূচির উপর পুলিশি পদক্ষেপ গ্রহণযোগ্য নয় এবং তৃণমূল কংগ্রেস দিল্লির আন্দোলনকারীদের প্রতি সংহতি জানাচ্ছে।
কলকাতার প্রসঙ্গ টেনে তিনি দাবি করেন, শহিদ দিবসের প্রস্তুতির সময় দলের মঞ্চ ও প্রচার সামগ্রী লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। তাঁর অভিযোগ, বাইকে এসে একদল দুষ্কৃতী ভাঙচুর চালায় এবং মাইকের সংযোগ নষ্ট করার চেষ্টা করে। এই ঘটনায় দলের কয়েকজন কর্মী আহত হয়েছেন বলেও দাবি করেন তিনি। তবে এই অভিযোগের বিষয়ে বিজেপির তরফে তাৎক্ষণিক কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
সভামঞ্চ থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আরও বলেন, রাজনৈতিক চাপ বা হামলার মাধ্যমে তৃণমূল কংগ্রেসকে দমিয়ে রাখা যাবে না। তাঁর দাবি, বিপুল জনসমাগমই প্রমাণ করছে যে দলের প্রতি মানুষের সমর্থন এখনও অটুট রয়েছে।
ভবিষ্যতের রাজনৈতিক কর্মসূচির ইঙ্গিত দিয়ে তিনি বলেন, এই আন্দোলন শুধু পশ্চিমবঙ্গে সীমাবদ্ধ থাকবে না। বিরোধী শক্তিগুলিকে একত্রিত করে গণতান্ত্রিক লড়াইকে সারা দেশে ছড়িয়ে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়েই এগোবে তৃণমূল কংগ্রেস।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, ২১ জুলাইয়ের এই বক্তব্য আগামী দিনের জাতীয় রাজনীতির সমীকরণে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে। যদিও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তোলা অভিযোগগুলির বিষয়ে প্রশাসন বা সংশ্লিষ্ট পক্ষের আনুষ্ঠানিক অবস্থান সামনে এলে বিষয়টি আরও স্পষ্ট হবে।

