কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান এবার সরাসরি লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী-কে নিশানা করলেন। NEET বিতর্ক এবং ককরোচ জনতা পার্টি (CJP)-র আন্দোলনের আবহে তিনি অভিযোগ করেন, ছাত্রদের ক্ষোভকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করা হচ্ছে।
মঙ্গলবার রাতে সমাজমাধ্যম X-এ করা এক পোস্টে ধর্মেন্দ্র প্রধান দাবি করেন, সরকার NEET-সংক্রান্ত বিষয়ে সংসদে আলোচনায় প্রস্তুত ছিল। কিন্তু বিরোধীরা সংসদের কার্যক্রম ব্যাহত করার পথ বেছে নিয়েছে। তাঁর অভিযোগ, কংগ্রেস ছাত্রদের অসন্তোষকে রাজনৈতিক আন্দোলনের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে, যা শিক্ষার্থীদের প্রকৃত স্বার্থের পক্ষে নয়।
এই মন্তব্য আসে ককরোচ জনতা পার্টির ডাকা 'চলো সংসদ' কর্মসূচির পর। আন্দোলন ঘিরে দিল্লিতে বিক্ষোভ, পুলিশি পদক্ষেপ এবং উত্তেজনার জেরে বিষয়টি জাতীয় রাজনীতির অন্যতম আলোচিত ইস্যু হয়ে ওঠে।
অন্যদিকে, মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি-র সরকারি বাসভবনের সামনে প্রতিবাদে অংশ নেন রাহুল গান্ধী। কংগ্রেসের দাবি, আন্দোলনকারীদের প্রতি সংহতি জানাতেই তিনি সেখানে অবস্থান বিক্ষোভে বসেন। পরে দিল্লি পুলিশ তাঁকে আটক করে এবং কয়েক ঘণ্টা পর মুক্তি দেয়। একই সময়ে কংগ্রেস নেত্রী প্রিয়াঙ্কা গান্ধী-কেও পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছিল বলে দলীয় সূত্রের দাবি।
এদিকে, বিজেপির তরফেও এই কর্মসূচির সমালোচনা করা হয়েছে। দলের সভাপতি নিতিন নবীন অভিযোগ করেন, প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবনের সামনে এই ধরনের প্রতিবাদ রাজনৈতিক সংস্কৃতির পক্ষে শুভ নয়।
পরবর্তীতে মহারাষ্ট্রের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী উদ্ধব ঠাকরে যন্তর মন্তরে আন্দোলনস্থলে গিয়ে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং সমর্থন জানান।
NEET পরীক্ষা, প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ এবং শিক্ষাব্যবস্থার স্বচ্ছতা নিয়ে চলা বিতর্কের মধ্যেই এই রাজনৈতিক পাল্টাপাল্টি বক্তব্য নতুন মাত্রা যোগ করেছে। উল্লেখযোগ্য, এই ঘটনায় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগ রয়েছে, যার অনেকগুলিই এখনও সংশ্লিষ্ট পক্ষের দাবি হিসেবে রয়েছে।

