তৃণমূলের নেতৃত্ব বিতর্কে নতুন মোড়, কমিশনের কাছে নথি জমা ঋতব্রত শিবিরের

NEWS INDIA বাংলা
0
Ritabrata Banerjee submits documents to Election Commission over TMC leadership dispute


পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক অঙ্গনে তৃণমূল কংগ্রেসকে ঘিরে চলা অন্তর্দ্বন্দ্ব আরও এক ধাপ এগোল। দলের প্রকৃত নেতৃত্ব ও সাংগঠনিক নিয়ন্ত্রণ নিয়ে জারি টানাপোড়েনের মধ্যেই এবার নির্বাচন কমিশনের দ্বারস্থ হল ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় নেতৃত্বাধীন শিবির। নিজেদের ‘আসল তৃণমূল’ বলে দাবি করে মঙ্গলবার তারা কলকাতার মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দপ্তরে গিয়ে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ নথি জমা দিয়েছে।


ঋতব্রত শিবিরের দাবি, দলের গঠনতন্ত্র মেনে সম্প্রতি একটি বিশেষ অধিবেশন ডাকা হয়েছিল। সেই অধিবেশনেই নতুন সাংগঠনিক কাঠামো অনুমোদন করা হয়েছে। পাশাপাশি দলের চেয়ারম্যান পদে পরিবর্তন এনে অরূপ রায়কে দায়িত্ব দেওয়ার সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে। এই সংক্রান্ত নথি এবং বৈঠকের কার্যবিবরণী বা ‘মিনিটস’ নির্বাচন কমিশনের কাছে জমা দেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।


সূত্রের খবর, রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক নীলম মীনার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়-সহ দলের কয়েকজন শীর্ষ নেতা। প্রতিনিধিদলে ছিলেন অরূপ রায়, সন্দীপন সাহা, জাভেদ আহমেদ খান এবং আখরুজ্জামান। তাঁদের বক্তব্য, দলের সাংগঠনিক পুনর্গঠনের সমস্ত প্রক্রিয়া নিয়ম মেনেই সম্পন্ন হয়েছে এবং সেই তথ্য কমিশনকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়েছে।


শুধু চেয়ারম্যান পরিবর্তনই নয়, নতুন করে ৩০ সদস্যের একটি জাতীয় কর্মসমিতি গঠনের কথাও কমিশনকে জানানো হয়েছে। ঋতব্রত শিবিরের মতে, এই কমিটিই আগামী দিনে দলের সাংগঠনিক ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করবে।


বৈঠক শেষে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “আমরা কোনও নতুন পরিচয় দাবি করছি না। আমরা মনে করি, আমরাই প্রকৃত তৃণমূল কংগ্রেস। তাই প্রতীক দাবি করার প্রশ্নই ওঠে না। দলের সাংগঠনিক বৈঠকের সিদ্ধান্ত সম্পর্কে নির্বাচন কমিশনকে অবহিত করাই ছিল আমাদের উদ্দেশ্য।”


তাঁর এই মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে। কারণ, দীর্ঘদিন ধরে তৃণমূল কংগ্রেসের নেতৃত্বকে কেন্দ্র করে যে বিতর্ক চলছে, সেখানে প্রতীক ও দলের সাংগঠনিক বৈধতা অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে।


এদিকে রাজনৈতিক সমীকরণও দ্রুত বদলাতে শুরু করেছে বলে মনে করছে পর্যবেক্ষকদের একাংশ। মঙ্গলবারই বিধানসভায় ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের কক্ষে গিয়ে দেখা করেন প্রাক্তন মন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক। সম্প্রতি তিনি কালীঘাট ঘনিষ্ঠ শিবিরের জাতীয় কর্মসমিতি থেকে ইস্তফা দিয়েছেন। ফলে তাঁর এই সাক্ষাৎ নতুন রাজনৈতিক বার্তা বহন করছে বলেই মনে করা হচ্ছে।


শুধু তাই নয়, বজবজের প্রবীণ বিধায়ক অশোক দেবও ঋতব্রত শিবিরের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করেছেন বলে রাজনৈতিক মহলে জোর গুঞ্জন ছড়িয়েছে। যদিও এই বিষয়ে এখনও কোনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা হয়নি।


অন্যদিকে, কলকাতার বৈঠকের পাশাপাশি দিল্লিতেও সক্রিয় হয়ে উঠেছে ঋতব্রতপন্থী শিবির। মঙ্গলবার বিকেলে জাতীয় নির্বাচন কমিশনের দপ্তরে তাঁদের পক্ষ থেকে আইনজীবীদের একটি প্রতিনিধিদল সাক্ষাৎ করেছে বলে সূত্রের খবর। সেখানে দলের সাংগঠনিক পরিবর্তন সংক্রান্ত বিভিন্ন নথি ও আইনি অবস্থান তুলে ধরা হয়েছে।


জানা যাচ্ছে, আগামী সপ্তাহে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ ছয়জন বিধায়কের একটি প্রতিনিধিদল প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে পারে। সেখানে দলের সাংগঠনিক বৈধতা এবং ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।


তবে গোটা ঘটনাপ্রবাহকে একেবারেই ভিন্নভাবে দেখছে কালীঘাটপন্থী শিবির। তাঁদের দাবি, সংশ্লিষ্ট বৈঠক ও সিদ্ধান্তের কোনও সাংগঠনিক বৈধতা নেই। দলের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই এখনও চেয়ারম্যান এবং সর্বোচ্চ নেতৃত্বের আসনে রয়েছেন। সেই অবস্থান স্পষ্ট করে ইতিমধ্যেই নির্বাচন কমিশনের কাছে পৃথকভাবে চিঠিও পাঠানো হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।


ফলে রাজনৈতিক লড়াই এখন শুধু বিধানসভা বা জনসভায় সীমাবদ্ধ নেই। তা পৌঁছে গিয়েছে নির্বাচন কমিশনের দপ্তর এবং আইনি ব্যাখ্যার পরিসরেও। আগামী দিনে কমিশনের অবস্থান এবং উভয় পক্ষের সাংগঠনিক দাবির ভিত্তিতে পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়, সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।


তবে আপাতত একথা বলাই যায়, তৃণমূলের অন্দরের এই সংঘাত নতুন মাত্রা পেল কমিশনের দরজায় পৌঁছে। আর তার জেরেই বাংলার রাজনীতিতে তৈরি হয়েছে নতুন কৌতূহল ও জল্পনা।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন (0)

#buttons=(Ok, Go it!) #days=(20)

Our website uses cookies to enhance your experience. Check Now
Ok, Go it!