বিএ কমিটিতে নেই কালীঘাট শিবির, বাড়ছে কি ঋতব্রতের প্রভাব?

NEWS INDIA বাংলা
0

 

West Bengal Assembly BA Committee political development Bengal

রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণে তৃণমূল কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ বিভাজন নিয়ে আলোচনা বহুদিনের। তবে এবার সেই বিতর্ক যেন আরও স্পষ্ট হয়ে উঠল বিধানসভার নতুন বিজনেস অ্যাডভাইজারি (বিএ) কমিটির সদস্য তালিকা প্রকাশের পর। কারণ, রাজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই কমিটিতে কালীঘাটপন্থী তৃণমূলের কোনও প্রতিনিধির নাম না থাকলেও জায়গা পেয়েছেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ঘনিষ্ঠ একাধিক বিধায়ক ও নেতা।


ইতিমধ্যেই বিরোধী দলনেতার পদ এবং মুখ্য সচেতকের দায়িত্ব কালীঘাট শিবিরের হাতছাড়া হয়েছে। এবার বিধানসভার কার্যপ্রণালী নির্ধারণকারী গুরুত্বপূর্ণ কমিটিতেও প্রতিনিধিত্ব না পাওয়ায় রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, কালীঘাটপন্থী নেতৃত্ব আরও কোণঠাসা হয়ে পড়ল।


গত ১৯ জুন নতুন করে গঠন করা হয়েছে বিধানসভার বিজনেস অ্যাডভাইজারি কমিটি। এই কমিটিতে সরকারপক্ষের পাশাপাশি বিভিন্ন বিরোধী দলের প্রতিনিধিদেরও রাখা হয়েছে। কিন্তু নজর কেড়েছে তৃণমূলের প্রতিনিধিত্বের প্রশ্নটি। তালিকায় দেখা যাচ্ছে, বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়, বিরোধী মুখ্য সচেতক আখরুজ্জামান, বিধায়ক বিপ্লব মিত্র এবং সমীর কুমার জানার মতো নেতাদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এছাড়াও আমন্ত্রিত সদস্য হিসেবে রয়েছেন সন্দীপন সাহা ও জাভেদ আহমেদ খান।


রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই তালিকা থেকে একটি বিষয় স্পষ্ট—বিধানসভার অন্দরে এখনও ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় শিবিরকেই তৃণমূলের কার্যকর প্রতিনিধি হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হচ্ছে। কারণ, কালীঘাটপন্থী কোনও বিধায়ক বা নেতার নাম এই কমিটিতে রাখা হয়নি।


শুধু তাই নয়, বিধানসভায় সীমিত প্রতিনিধিত্ব থাকা অন্যান্য বিরোধী দলগুলিও এই কমিটিতে স্থান পেয়েছে। আইএসএফের নওশাদ সিদ্দিকী, কংগ্রেসের মোহতাব শেখ, সিপিআই(এম)-এর মহম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান এবং আমজনতা উন্নয়ন পার্টির হুমায়ূন কবীরের মতো নেতাদেরও আমন্ত্রিত সদস্য হিসেবে রাখা হয়েছে। ফলে রাজনৈতিক মহলের প্রশ্ন, যখন ছোট দলগুলিও প্রতিনিধিত্বের সুযোগ পাচ্ছে, তখন কালীঘাটপন্থীদের সম্পূর্ণ অনুপস্থিতি কি শুধুই প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত, নাকি এর পিছনে রয়েছে বৃহত্তর রাজনৈতিক বার্তা?


বিধানসভার বিজনেস অ্যাডভাইজারি কমিটি সাধারণ কোনও সাংগঠনিক কমিটি নয়। বরং আইনসভার কার্যক্রম পরিচালনায় এটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ। অধিবেশন কবে শুরু হবে, কতদিন চলবে, কোন বিল কখন আলোচনায় আসবে, কোন বিষয়ে কত সময় বরাদ্দ হবে—এই সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণে বিএ কমিটির ভূমিকা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।


অর্থাৎ, বিধানসভার কার্যসূচি নির্ধারণ থেকে শুরু করে বিতর্কের কাঠামো তৈরি—সব ক্ষেত্রেই এই কমিটির সুপারিশ বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। সেই কারণেই রাজনৈতিক দলগুলির কাছে এই কমিটিতে প্রতিনিধিত্ব পাওয়া মর্যাদা ও প্রভাবের অন্যতম সূচক হিসেবে বিবেচিত হয়।


একসময় রাজ্যের রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক সিদ্ধান্তের কেন্দ্রবিন্দু ছিল কালীঘাট। দীর্ঘ এক দশকেরও বেশি সময় ধরে বিধানসভার বহু গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত সিদ্ধান্তের সঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে যুক্ত ছিল সেই শিবির। কিন্তু সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহ ইঙ্গিত দিচ্ছে, বিধানসভার অভ্যন্তরে ক্ষমতার ভারসাম্যে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।


নতুন কমিটির গঠন সেই পরিবর্তনেরই প্রতিফলন বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ। তাঁদের মতে, বিরোধী শিবিরের ভিতরে নেতৃত্বের প্রশ্নে যে নতুন সমীকরণ তৈরি হয়েছে, বিএ কমিটির সদস্য তালিকা তারই একটি স্পষ্ট উদাহরণ।


এখন দেখার, এই সিদ্ধান্ত নিয়ে কালীঘাটপন্থী নেতারা কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানান কি না। পাশাপাশি আগামী অধিবেশনগুলিতে বিধানসভার ভিতরে ঋতব্রত শিবিরের ভূমিকা কতটা শক্তিশালী হয়, সেটাও রাজনৈতিক মহলের বিশেষ নজরে থাকবে।


তবে একটি বিষয় নিয়ে দ্বিমত নেই—বিজনেস অ্যাডভাইজারি কমিটির নতুন তালিকা শুধু একটি প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নয়, বরং রাজ্যের বিরোধী রাজনীতির বর্তমান শক্তির সমীকরণ সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করছে। আর সেই বার্তাই এখন আলোচনার কেন্দ্রে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন (0)

#buttons=(Ok, Go it!) #days=(20)

Our website uses cookies to enhance your experience. Check Now
Ok, Go it!