রাম মন্দিরের দানবাক্স নিয়ে প্রশ্ন, SIT-এর প্রাথমিক রিপোর্টে উঠে এল নতুন তথ্য

NEWS INDIA বাংলা
0
Ram Mandir Ayodhya donation investigation SIT report temple fund news


ভক্তদের কোটি কোটি টাকার অনুদানে নির্মিত রাম মন্দিরকে ঘিরে এবার সামনে এল এক উদ্বেগজনক অভিযোগ। মন্দিরের দানবাক্সের অর্থ ব্যবস্থাপনা ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত একাধিক ত্রুটি নিয়ে উত্তরপ্রদেশ সরকারের গঠিত বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT) তাদের প্রাথমিক রিপোর্ট জমা দিয়েছে। সেই রিপোর্টে উঠে এসেছে বেশ কিছু গুরুতর প্রশ্ন, যা ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে আলোড়ন তৈরি করেছে।


তদন্তকারী সূত্রের দাবি, মন্দিরে অনুদান সংগ্রহ থেকে শুরু করে টাকা গণনা, সংরক্ষণ এবং ব্যাঙ্কে জমা দেওয়ার প্রক্রিয়ার বিভিন্ন স্তরে একাধিক ফাঁকফোকর রয়েছে। আর সেই সুযোগকেই কাজে লাগিয়ে অনিয়ম বা অর্থ তছরুপের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে বলে মনে করছে SIT।


প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে, দানবাক্স থেকে অর্থ বের করার সময় পর্যাপ্ত নজরদারি ছিল না। একইসঙ্গে টাকা গণনার ক্ষেত্রেও অনুসরণ করা হয়নি কঠোর নিরাপত্তা প্রোটোকল। ফলে পুরো ব্যবস্থাটিকেই আরও স্বচ্ছ ও প্রযুক্তিনির্ভর করার সুপারিশ করেছে তদন্তকারী দল।


সূত্রের খবর, ভবিষ্যতে দানবাক্স খোলা থেকে শুরু করে টাকা পরিবহণ পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়াকে ভিডিও রেকর্ডিংয়ের আওতায় আনার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। শুধু তাই নয়, যারা নগদ অর্থ গণনার দায়িত্বে থাকবেন, তাঁদের জন্য বিশেষ পোশাকের ব্যবস্থার কথাও বলা হয়েছে। এমন পোশাক থাকবে যাতে কোনও ধরনের পকেট না থাকে। টাকা গণনার কাজ শেষ হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট কর্মীদের নিরাপত্তা তল্লাশির ব্যবস্থাও চালুর সুপারিশ করা হয়েছে।


SIT-এর রিপোর্টে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, মন্দির প্রশাসনের সঙ্গে যুক্ত কয়েকজন ব্যক্তির বিরুদ্ধে প্রাথমিকভাবে অনিয়মের ইঙ্গিত মিলেছে। যদিও এখনও পর্যন্ত কারও বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে অপরাধ প্রমাণিত হয়নি। তদন্তের চূড়ান্ত রিপোর্ট প্রকাশের পরই পরবর্তী আইনি পদক্ষেপের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।


তবে তদন্তকারী মহলের একাংশের মতে, যদি সত্যিই অর্থ চুরির ঘটনা ঘটে থাকে, তাহলে তার সঙ্গে অভ্যন্তরীণ কোনও চক্রের যোগ থাকার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। কারণ, বাইরে থেকে এই ধরনের আর্থিক অনিয়ম করা অত্যন্ত কঠিন। ফলে তদন্তের মূল ফোকাস এখন মন্দিরের প্রশাসনিক ও আর্থিক ব্যবস্থাপনার সঙ্গে যুক্ত কর্মীদের উপরেই।


ইতিমধ্যেই পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে কিছু প্রশাসনিক পদক্ষেপও নেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। টাকা গণনার দায়িত্বে থাকা পুরো দলকে বদলে দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি দানবাক্সের অর্থ ব্যাঙ্কে পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্বে থাকা কর্মীদেরও পরিবর্তন করা হয়েছে। নতুন ব্যবস্থার মাধ্যমে ভবিষ্যতে কোনও ধরনের বিতর্ক বা অনিয়মের সুযোগ কমিয়ে আনতে চাইছে কর্তৃপক্ষ।


উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, রাম মন্দিরে আর্থিক গরমিলের অভিযোগ প্রথম প্রকাশ্যে আনেন সমাজবাদী পার্টির প্রধান ও উত্তরপ্রদেশের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী অখিলেশ যাদব। তিনি প্রকাশ্যে দাবি করেছিলেন, মন্দিরের অনুদান সংক্রান্ত বিষয়টির নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন এবং আদালতের তত্ত্বাবধানে তদন্তেরও দাবি তুলেছিলেন।


প্রথমদিকে অবশ্য মন্দির ট্রাস্ট এই অভিযোগ সম্পূর্ণভাবে অস্বীকার করে। ট্রাস্টের তরফে জানানো হয়েছিল, অনুদানের অর্থ পরিচালনায় কোনও ধরনের অনিয়ম হয়নি। কিন্তু পরে অভ্যন্তরীণ পর্যায়ে খতিয়ে দেখতে গিয়ে কিছু সন্দেহজনক আর্থিক লেনদেনের তথ্য সামনে আসে বলে সূত্রের দাবি। এরপরই ট্রাস্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করে এবং রাজ্য সরকারের কাছে বিশেষ তদন্তকারী দল গঠনের আবেদন জানায়।


ট্রাস্টের সেই আবেদনের ভিত্তিতেই উত্তরপ্রদেশ সরকার তিন সদস্যের উচ্চপর্যায়ের SIT গঠন করে। কয়েক সপ্তাহ ধরে নথি খতিয়ে দেখা, কর্মীদের জিজ্ঞাসাবাদ এবং আর্থিক লেনদেন পর্যালোচনার পর প্রাথমিক রিপোর্ট জমা দেওয়া হয়েছে।


এখন নজর রয়েছে চূড়ান্ত রিপোর্টের দিকে। কারণ সেই রিপোর্টই ঠিক করবে অভিযোগ কতটা সত্য এবং কারও বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা দায়ের করা হবে কি না। তবে একটি বিষয় স্পষ্ট—দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় কেন্দ্র হিসেবে রাম মন্দিরে অনুদানের অর্থ ব্যবস্থাপনা নিয়ে যে প্রশ্ন উঠেছে, তা অত্যন্ত সংবেদনশীল। কোটি কোটি ভক্তের বিশ্বাসের সঙ্গে জড়িত এই প্রতিষ্ঠানে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করাই এখন প্রশাসন ও ট্রাস্টের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।


রাম মন্দির শুধু একটি ধর্মীয় স্থাপনা নয়, বহু মানুষের আবেগ ও বিশ্বাসের প্রতীক। তাই তদন্তের ফলাফল যাই হোক না কেন, ভবিষ্যতে যাতে কোনও ধরনের অনিয়মের অভিযোগ না ওঠে, সেদিকেই এখন তাকিয়ে রয়েছে গোটা দেশ।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন (0)

#buttons=(Ok, Go it!) #days=(20)

Our website uses cookies to enhance your experience. Check Now
Ok, Go it!