পোস্ট অফিসের এই স্কিমে ৯ বছর ৭ মাসে দ্বিগুণ হতে পারে টাকা

NEWS INDIA বাংলা
0
Post Office Kisan Vikas Patra KVP safe investment money double scheme


বর্তমান সময়ে সঞ্চয়ের পাশাপাশি নিরাপদ বিনিয়োগই এখন সাধারণ মানুষের সবচেয়ে বড় অগ্রাধিকার। শেয়ার বাজারের অনিশ্চয়তা, বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ওঠানামা এবং অর্থনৈতিক পরিস্থিতির কারণে এমন একটি বিনিয়োগ মাধ্যমের খোঁজ করছেন অনেকেই, যেখানে মূলধন থাকবে সম্পূর্ণ নিরাপদ, আবার নির্দিষ্ট সময় পর ভালো রিটার্নও পাওয়া যাবে।

এই কারণেই দিন দিন জনপ্রিয়তা বাড়ছে ভারত সরকারের অধীনস্থ পোস্ট অফিসের ক্ষুদ্র সঞ্চয় প্রকল্পগুলির। এসব প্রকল্পের মধ্যে অন্যতম আকর্ষণীয় একটি স্কিম হল কিষাণ বিকাশ পত্র (Kisan Vikas Patra বা KVP)। সাধারণ মানুষের কাছে এটি অনেকেই "টাকা দ্বিগুণ করার সরকারি স্কিম" নামেই চেনেন।



এই প্রকল্পের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হল এর নিরাপত্তা। কারণ এটি সরাসরি ভারত সরকারের সমর্থিত একটি সঞ্চয় প্রকল্প। ফলে এখানে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে মূলধন হারানোর আশঙ্কা কার্যত নেই বললেই চলে।


যাঁরা ঝুঁকি নিতে চান না কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে নিশ্চিত রিটার্ন চান, তাঁদের জন্য KVP একটি অত্যন্ত নির্ভরযোগ্য বিকল্প। অবসরপ্রাপ্ত ব্যক্তি, চাকরিজীবী, গৃহবধূ কিংবা ভবিষ্যতের জন্য সঞ্চয় করতে চাওয়া পরিবার—সব ধরনের বিনিয়োগকারীদের কাছেই এই স্কিম সমান জনপ্রিয়।



বর্তমানে কিষাণ বিকাশ পত্রে বার্ষিক ৭.৫০ শতাংশ হারে সুদ দেওয়া হচ্ছে। এই সুদের হার সরকার সময় অনুযায়ী পরিবর্তন করতে পারে, তবে নতুন হার শুধুমাত্র নতুন বিনিয়োগের ক্ষেত্রে কার্যকর হয়। ইতিমধ্যে যাঁরা KVP কিনেছেন, তাঁদের ক্ষেত্রে বিনিয়োগের সময় যে সুদের হার নির্ধারিত হয়েছে, সেটিই পুরো মেয়াদে প্রযোজ্য থাকে। এই নির্দিষ্ট সুদের কারণেই বিনিয়োগকারীরা আগেই জানতে পারেন কতদিন পরে তাঁদের টাকা দ্বিগুণ হবে।



বর্তমান সুদের হারে কিষাণ বিকাশ পত্রে বিনিয়োগ করা অর্থ ১১৫ মাস, অর্থাৎ প্রায় ৯ বছর ৭ মাসে দ্বিগুণ হয়ে যায়।


উদাহরণ হিসেবে ধরা যাক—


যদি কেউ ১ লক্ষ টাকা বিনিয়োগ করেন, তাহলে নির্ধারিত মেয়াদ শেষে পাবেন ২ লক্ষ টাকা।

৩ লক্ষ টাকা বিনিয়োগ করলে মেয়াদ শেষে মিলবে ৬ লক্ষ টাকা।

আর যদি ৫ লক্ষ টাকা জমা রাখা হয়, তাহলে প্রায় ৯ বছর ৭ মাস পরে সেই অর্থ বেড়ে হবে ১০ লক্ষ টাকা।

অর্থাৎ আগে থেকেই জানা থাকবে কখন এবং কত টাকা হাতে আসবে। এই নিশ্চিত রিটার্নই KVP-কে অন্যান্য অনেক বিনিয়োগ মাধ্যমের থেকে আলাদা করে দিয়েছে।



এই স্কিমে বিনিয়োগ করতে বড় অঙ্কের অর্থের প্রয়োজন নেই। মাত্র ১,০০০ টাকা দিয়েই কিষাণ বিকাশ পত্রে বিনিয়োগ শুরু করা যায়। এরপর ১,০০০ টাকার গুণিতকে যত খুশি টাকা বিনিয়োগ করা সম্ভব। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, এই প্রকল্পে বিনিয়োগের কোনও সর্বোচ্চ সীমা নেই। অর্থাৎ আপনার আর্থিক সামর্থ্য অনুযায়ী যত খুশি টাকা জমা রাখতে পারবেন।

ভারতের যে কোনও প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিক এই প্রকল্পে বিনিয়োগ করতে পারেন।

এই স্কিমে—


একক (Single) অ্যাকাউন্ট খোলা যায়।

দুই বা ততোধিক ব্যক্তির নামে যৌথ (Joint) অ্যাকাউন্টও করা যায়।

১০ বছর বা তার বেশি বয়সী নাবালকের নামেও অ্যাকাউন্ট খোলা সম্ভব। প্রয়োজন হলে অভিভাবক তাঁর হয়ে অ্যাকাউন্ট পরিচালনা করতে পারেন।

ফলে সন্তানদের উচ্চশিক্ষা, ভবিষ্যতের সঞ্চয় বা দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক পরিকল্পনার ক্ষেত্রেও এই প্রকল্প কার্যকর হতে পারে।



বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমানে অনেকেই এমন একটি বিনিয়োগ মাধ্যম খুঁজছেন যেখানে বাজারের ওঠানামার কোনও প্রভাব থাকবে না।


KVP-র ক্ষেত্রে—


মূলধনের নিরাপত্তা রয়েছে।

নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে নিশ্চিত রিটার্ন পাওয়া যায়।

সরকারি গ্যারান্টি থাকায় ঝুঁকি অত্যন্ত কম।

বিনিয়োগের কোনও সর্বোচ্চ সীমা নেই।

সহজেই দেশের প্রায় সব পোস্ট অফিস থেকেই এই স্কিমে বিনিয়োগ করা যায়।

এই সব কারণেই গ্রামীণ এলাকা থেকে শুরু করে শহরের মধ্যবিত্ত পরিবার—সকলের মধ্যেই কিষাণ বিকাশ পত্রের জনপ্রিয়তা দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে।



যদিও KVP একটি নিরাপদ বিনিয়োগ প্রকল্প, তবুও এটি মূলত দীর্ঘমেয়াদি সঞ্চয়ের জন্য উপযুক্ত। যাঁদের অল্প সময়ের মধ্যে টাকার প্রয়োজন হতে পারে, তাঁদের আগে নিজের আর্থিক পরিকল্পনা ভালোভাবে বিবেচনা করা উচিত।এছাড়া সরকার সময় সময় সুদের হার পরিবর্তন করতে পারে। তাই নতুন বিনিয়োগের আগে পোস্ট অফিস বা সরকারি বিজ্ঞপ্তি থেকে সর্বশেষ সুদের হার ও নিয়ম জেনে নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ।



বর্তমান অনিশ্চিত আর্থিক পরিস্থিতিতে এমন একটি প্রকল্প, যেখানে সরকার নিজেই নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দিচ্ছে এবং নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে টাকা দ্বিগুণ হওয়ার সুযোগ রয়েছে, তা নিঃসন্দেহে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছে আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে। যাঁরা দীর্ঘমেয়াদে নিরাপদ সঞ্চয়ের পরিকল্পনা করছেন এবং ঝুঁকিমুক্ত বিনিয়োগে বিশ্বাসী, তাঁদের জন্য পোস্ট অফিসের কিষাণ বিকাশ পত্র (KVP) এখনও অন্যতম নির্ভরযোগ্য বিকল্প হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। তবে যে কোনও বিনিয়োগের আগে নিজের আর্থিক লক্ষ্য, প্রয়োজন এবং মেয়াদ বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়াই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন (0)

#buttons=(Ok, Go it!) #days=(20)

Our website uses cookies to enhance your experience. Check Now
Ok, Go it!