পশ্চিম এশিয়ার সংঘাতের আঁচ এবার আকাশপথ ও তেল সরবরাহে, বাড়ছে বিশ্ববাজারের উদ্বেগ
মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত ছড়াল বিশ্ববাজারে, বিমানপথ থেকে তেল সরবরাহ, কী প্রভাব পড়তে পারে ভারতে?
পশ্চিম এশিয়ায় চলমান সংঘাত ফের তীব্র হওয়ায় তার প্রভাব এখন আর শুধু মধ্যপ্রাচ্যের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকছে না। আন্তর্জাতিক বিমান চলাচল, জ্বালানি পরিবহণ এবং বিশ্ববাজার—তিন ক্ষেত্রেই নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে গুরুত্বপূর্ণ আকাশসীমা ও সমুদ্রপথের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ায় আন্তর্জাতিক বিমান সংস্থা এবং জ্বালানি সরবরাহকারীদের সামনে বাড়ছে operational চাপ। ভারতের ক্ষেত্রেও এর প্রভাব নজরে রাখছে নীতিনির্ধারকরা।
সংঘাতের অন্যতম বড় প্রভাব পড়ছে বিমান চলাচলে। পশ্চিম এশিয়ার আকাশসীমা ইউরোপ-এশিয়া-আফ্রিকার বহু আন্তর্জাতিক উড়ানের গুরুত্বপূর্ণ transit route। নিরাপত্তার কারণে কোনও আকাশপথ এড়িয়ে চলতে হলে বিমান সংস্থাগুলিকে দীর্ঘ বিকল্প রুট বেছে নিতে হচ্ছে। এতে উড়ানের সময় বাড়ছে, বাড়ছে জ্বালানি খরচ এবং পরিচালন ব্যয়ও। সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে ইউরোপীয় বিমান নিরাপত্তা সংস্থা EASA পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের একাধিক আকাশপথ নিয়ে সতর্কতা জারি রেখেছে এবং ইরান, ইরাক ও লেবাননের আকাশসীমা নিয়ে কড়া নির্দেশনা বহাল রয়েছে।
এর প্রভাব ভারতীয় বিমান পরিষেবাতেও পড়ছে। পশ্চিম এশিয়ার সংঘাতের কারণে ভারত ও ইউরোপের মধ্যে চলাচলকারী উড়ানগুলিকে একাধিক ক্ষেত্রে বিকল্প পথে যেতে হচ্ছে। দীর্ঘ রুটের কারণে যাত্রার সময় ও বিমান জ্বালানির খরচ বাড়ছে। পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে টিকিটের দাম, ফ্লাইটের সময়সূচি এবং আন্তর্জাতিক বিমান সংস্থাগুলির পরিচালন ব্যয়ের উপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হতে পারে।
তবে শুধু আকাশপথ নয়, সবচেয়ে বড় উদ্বেগ তৈরি হয়েছে জ্বালানি পরিবহণকে ঘিরে। পশ্চিম এশিয়ার গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথগুলির মধ্যে Strait of Hormuz অন্যতম। বিশ্বব্যাপী তেল সরবরাহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথে সাম্প্রতিক উত্তেজনার জেরে জাহাজ চলাচল উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। ২ সেপ্টেম্বরের তথ্য অনুযায়ী, ওই জলপথ দিয়ে পণ্যবাহী জাহাজের চলাচল ১০ দিনের গড়ের তুলনায় অনেক নিচে নেমে গিয়েছিল।
এরই মধ্যে দুটি তেলবাহী ট্যাঙ্কারে হামলার খবর পরিস্থিতিকে আরও উদ্বেগজনক করেছে। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা বেড়েছে। এর প্রভাব পড়ছে অপরিশোধিত তেলের দামে। সাম্প্রতিক লেনদেনে Brent crude-এর দাম ৯০ ডলারের উপরে উঠে গেছে এবং সংঘাত আরও বাড়লে দামের উপর নতুন করে ঊর্ধ্বমুখী চাপ তৈরি হতে পারে।
ভারতের জন্য এই পরিস্থিতি বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। দেশটি অপরিশোধিত তেলের বড় আমদানিকারক হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে দীর্ঘ সময় তেলের দাম বেশি থাকলে আমদানি ব্যয় বাড়তে পারে। এর প্রভাব পরিবহণ, শিল্প উৎপাদন, মুদ্রাস্ফীতি এবং সামগ্রিক অর্থনীতিতে পড়ার সম্ভাবনা থাকে। তবে ভারতের তেল আমদানির উৎসের বৈচিত্র্য এবং কৌশলগত মজুত পরিস্থিতির ধাক্কা সামলানোর ক্ষেত্রে কিছুটা সুরক্ষা দিতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মূল উদ্বেগ তাই এখন সংঘাত কতটা দীর্ঘায়িত হয় এবং গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্র ও আকাশপথ কতটা স্বাভাবিক থাকে, তা নিয়ে। এখনই দীর্ঘমেয়াদি বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সংকট নিশ্চিত বলা যায় না। কিন্তু Hormuz-এর মতো গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যপথে দীর্ঘস্থায়ী অচলাবস্থা তৈরি হলে তার প্রভাব জ্বালানি থেকে বিমান পরিষেবা, পণ্য পরিবহণ এবং বিশ্ববাজার—সব ক্ষেত্রেই ছড়িয়ে পড়তে পারে।


