নেপালে ভয়াবহ বন্যায় মৃত ১,১১৪, নিখোঁজ ৩,৯১৬! সুড়ঙ্গে আটকে বহু প্রাণ, জোরকদমে উদ্ধার অভিযান
নেপালের বন্যায় ভয়াবহ পরিস্থিতি, ১,১১৪ মৃত্যু ও প্রায় ৪ হাজার নিখোঁজ; সুড়ঙ্গে জীবিতদের খোঁজে অভিযান
নেপালে ভয়াবহ হড়পা বান (Flash Flood) ও ভূমিধসের ঘটনায় মৃতের সংখ্যা আরও বেড়েছে। বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত সর্বশেষ সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২৬ অগস্টের বিপর্যয়ের পর নেপালে এখনও পর্যন্ত ১,১১৪টি মৃতদেহ উদ্ধার হয়েছে। একই সঙ্গে ৩,৯১৬ জন এখনও নিখোঁজ। নেপালের National Disaster Risk Reduction and Management Authority (NDRRMA) জানিয়েছে, দুর্গত এলাকাগুলিতে উদ্ধার ও তল্লাশি অভিযান এখনও জোরকদমে চলছে।
২৬ অগস্ট হিমালয় অঞ্চলে বরফ ও পাথরের ধসের পর আচমকা বিপুল জলপ্রবাহ তৈরি হয়। তার জেরে Bhotekoshi ও Trishuli নদী-সহ একাধিক নদীতে দ্রুত জলস্তর বেড়ে যায়। প্রবল স্রোত, কাদা ও ধ্বংসাবশেষের ধাক্কায় নেপালের একাধিক জনপদ, রাস্তা, সেতু এবং গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামো কার্যত বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। সীমান্তের ওপারে তিব্বতেও এর প্রভাব পড়েছে। চিনা কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, সেখানে আরও ১৬ জনের মৃত্যু এবং ৫৪৬ জন নিখোঁজ রয়েছেন। ফলে নেপাল ও তিব্বত মিলিয়ে মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১,১৩০ এবং নিখোঁজ ৪,৪৬২।
নেপালের সরকারি তথ্য বলছে, এখনও পর্যন্ত প্রায় ১১,৯৯৩ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। তল্লাশি ও উদ্ধারকাজে Nepal Police, Nepal Army এবং Armed Police Force-এর মোট ২১,৩১৪ জন সদস্য মোতায়েন রয়েছেন। দুর্গত এলাকায় ৩৭টি ট্রাক ও ৩৭টি ছোট গাড়িতে জরুরি খাদ্যসামগ্রী পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি হেলিকপ্টারের মাধ্যমে ত্রাণ পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে।
তবে উদ্ধারকারী দলগুলির সামনে এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ নিখোঁজদের সন্ধান। বিশেষ করে একাধিক Hydropower Project-এর সুড়ঙ্গে কর্মীরা আটকে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা রয়েছে। Reuters-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিভিন্ন জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে আটকে পড়া মানুষের সন্ধানে বিশেষ উদ্ধারকারী দল কাজ করছে। কিছু সুড়ঙ্গে এখনও বাতাস ও প্রয়োজনীয় সরবরাহ পৌঁছনোর সম্ভাবনা থাকায় সেখানে জীবিতদের উদ্ধারের আশা পুরোপুরি শেষ হয়ে যায়নি।
এদিকে মৃতদেহ শনাক্ত করাও প্রশাসনের কাছে বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। NDRRMA-র তথ্য অনুযায়ী, উদ্ধার হওয়া ১,১১৪টি দেহের মধ্যে মাত্র ৯৫টি শনাক্ত করে পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া সম্ভব হয়েছে। ফলে বহু পরিবার এখনও প্রিয়জনের খোঁজে অপেক্ষা করছে। নিখোঁজদের ফিরে পাওয়ার আশা ক্রমশ ক্ষীণ হওয়ায় কিছু পরিবার প্রতীকী শেষকৃত্যও শুরু করেছে।
বিপর্যয়ের জেরে নেপালের যোগাযোগ ব্যবস্থা, বিদ্যুৎ ও পরিবহণ পরিকাঠামোরও ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। রসুওয়া, নুওয়াকোট ও ধাদিং এলাকায় জ্বালানি সরবরাহ এবং যোগাযোগ পরিষেবা পুনরুদ্ধারের কাজ চলছে। একই সঙ্গে ত্রাণ ও পুনর্বাসনের জন্য সরকার দুর্গত স্থানীয় প্রশাসনগুলিকে অর্থ বরাদ্দ করেছে।
এই বিপর্যয় হিমালয় অঞ্চলে Glacier-related disaster এবং আকস্মিক বন্যার ঝুঁকি নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। আপাতত উদ্ধার অভিযানই অগ্রাধিকার। তবে তল্লাশি শেষ হওয়ার পর বিপুল ক্ষতিগ্রস্ত পরিকাঠামো পুনর্গঠন, নিখোঁজদের পরিচয় নির্ধারণ এবং দুর্গত পরিবারগুলির পুনর্বাসনই নেপাল সরকারের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হতে চলেছে।


