Public Grievance Hearing: সপ্তাহে দু’দিন জনঅভিযোগ শুনবেন সরকারি আধিকারিকরা, জানুন নতুন নিয়ম

NEWS INDIA বাংলা
0

মঙ্গলবার-বৃহস্পতিবার শুনতে হবে জনঅভিযোগ, সরকারি আধিকারিকদের জন্য সময় বেঁধে দিল রাজ্য সরকার

এবার সপ্তাহে দু’দিন সরাসরি সরকারি আধিকারিককে অভিযোগ জানাতে পারবেন সাধারণ মানুষ

পশ্চিমবঙ্গ সরকারের Public Grievance Hearing-এ সাধারণ মানুষের অভিযোগ শোনার প্রতীকী ছবি


সাধারণ মানুষের প্রশাসনিক সমস্যা ও অভিযোগ দ্রুত শোনা এবং তার নিষ্পত্তিতে গতি আনার লক্ষ্যে নতুন উদ্যোগ নিল পশ্চিমবঙ্গ সরকার। সরকারি আধিকারিকদের জন্য নির্দিষ্ট সময় বেঁধে দিয়ে সপ্তাহে দু’দিন Public Grievance Hearing চালুর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নতুন ব্যবস্থায় প্রতি মঙ্গলবার ও বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা ৩০ মিনিট থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত সাধারণ মানুষের অভিযোগ ও সমস্যার কথা শুনতে হবে সরকারি আধিকারিকদের।

সরকারি পরিষেবা পেতে গিয়ে বিভিন্ন সময় নানা ধরনের সমস্যার মুখে পড়তে হয় সাধারণ মানুষকে। প্রশাসনিক জটিলতা, নথিপত্র সংক্রান্ত সমস্যা, সরকারি প্রকল্পের সুবিধা না পাওয়া কিংবা স্থানীয় স্তরে পরিষেবা নিয়ে অভিযোগ—একাধিক বিষয় নিয়ে মানুষকে সংশ্লিষ্ট দফতর বা প্রশাসনের দ্বারস্থ হতে হয়। অনেক ক্ষেত্রে অভিযোগ জানানো হলেও তার নিষ্পত্তি হতে দীর্ঘ সময় লেগে যায়। ফলে অভিযোগের অগ্রগতি সম্পর্কে অনিশ্চয়তাও তৈরি হয়।

নতুন নির্দেশের মাধ্যমে এই সমস্যার মোকাবিলায় নির্দিষ্ট দিনে নির্দিষ্ট সময়ে সাধারণ মানুষের সঙ্গে সরকারি আধিকারিকদের সরাসরি যোগাযোগের সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। মঙ্গলবার এবং বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত আধিকারিকদের সাধারণ মানুষের অভিযোগ শুনতে হবে। অর্থাৎ সপ্তাহে মোট পাঁচ ঘণ্টা নির্দিষ্টভাবে জনঅভিযোগ শোনার জন্য সময় বরাদ্দ থাকবে।

তবে শুধু অভিযোগ গ্রহণ করাই এই ব্যবস্থার মূল লক্ষ্য নয়। অভিযোগের ধরন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়ের Follow-up-এর উপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। কোনও সমস্যা সমাধানের জন্য অন্য দফতর বা আধিকারিকের হস্তক্ষেপের প্রয়োজন হলে বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানোর পাশাপাশি তার অগ্রগতির দিকেও নজর রাখার কথা বলা হয়েছে।

প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে সাধারণ মানুষের অভিযোগ পৌঁছলেও অনেক সময় সংশ্লিষ্ট দফতরের মধ্যে সমন্বয়ের অভাবে সমস্যা মেটাতে দেরি হয়। নতুন ব্যবস্থায় সরাসরি আধিকারিকের কাছে অভিযোগ জানানোর সুযোগ থাকলে সেই জটিলতা কিছুটা কমতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। একইসঙ্গে কোন এলাকায় বা কোন সরকারি পরিষেবায় বেশি সমস্যা তৈরি হচ্ছে, সে সম্পর্কেও প্রশাসনের কাছে বাস্তব চিত্র স্পষ্ট হতে পারে।

এই উদ্যোগের মাধ্যমে প্রশাসনকে আরও Citizen-centric বা নাগরিকমুখী করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে জেলা ও স্থানীয় প্রশাসনের ক্ষেত্রে অভিযোগ দ্রুত চিহ্নিত করে সংশ্লিষ্ট দফতরকে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া গেলে সাধারণ মানুষের হয়রানি কমতে পারে। সরকারি পরিষেবা সংক্রান্ত ছোটখাটো সমস্যা দ্রুত সমাধান হলে প্রশাসনের উপর মানুষের আস্থাও বাড়তে পারে।

তবে এই ব্যবস্থার কার্যকারিতা নির্ভর করবে অভিযোগ শোনার পর কত দ্রুত বাস্তব পদক্ষেপ করা হচ্ছে তার উপর। নির্দিষ্ট সময়ে মানুষের কথা শোনা হলেও যদি অভিযোগের নিষ্পত্তি দীর্ঘদিন ঝুলে থাকে, তাহলে উদ্যোগটির উদ্দেশ্য পুরোপুরি সফল হবে না। তাই অভিযোগ গ্রহণের পাশাপাশি tracking, follow-up এবং time-bound disposal-এর ব্যবস্থা কার্যকর করা গুরুত্বপূর্ণ।

সব মিলিয়ে, সপ্তাহে দু’দিন নির্দিষ্ট সময়ে Public Grievance Hearing চালুর নির্দেশ প্রশাসন ও সাধারণ মানুষের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগের একটি নতুন কাঠামো তৈরি করতে পারে। এখন দেখার বিষয়, রাজ্যের বিভিন্ন সরকারি দফতর ও প্রশাসনিক স্তরে এই নির্দেশ কতটা কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হয় এবং সাধারণ মানুষের অভিযোগ নিষ্পত্তিতে বাস্তবে কতটা গতি আসে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন (0)

#buttons=(Ok, Go it!) #days=(20)

Our website uses cookies to enhance your experience. Check Now
Ok, Go it!