আজ থেকে বাংলায় কড়া Civic Rules! রাস্তায় থুতু, আবর্জনা ফেললেই জরিমানা—জানুন কোন অপরাধে কত টাকা
১ সেপ্টেম্বর থেকে বদলে গেল শহরের নিয়ম, থুতু-আবর্জনা ফেললে এবার দিতে হবে জরিমানা
আজ, মঙ্গলবার ১ সেপ্টেম্বর থেকে পশ্চিমবঙ্গের শহরাঞ্চলে আরও কড়া হচ্ছে নাগরিক বিধি (Civic Rules)। প্রকাশ্যে থুতু বা পানের পিক ফেলা, যত্রতত্র আবর্জনা ফেলা, প্রকাশ্যে প্রস্রাব বা মলত্যাগ এবং নিষিদ্ধ প্লাস্টিক ক্যারি ব্যাগ ব্যবহারের মতো ঘটনায় এবার সরাসরি জরিমানা দিতে হবে। রাজ্যের পুরসভা, পুরনিগম এবং নোটিফায়েড এরিয়া অথরিটির আওতাধীন শহরাঞ্চলে পরিচ্ছন্নতা, স্বাস্থ্যবিধি ও নাগরিক শৃঙ্খলা বজায় রাখতেই এই ব্যবস্থা কার্যকর করা হয়েছে।
নতুন নিয়ম অনুযায়ী, প্রকাশ্যে থুতু বা পানের পিক ফেললে ১০০ টাকা জরিমানা দিতে হবে। অন্যদিকে প্রকাশ্যে প্রস্রাব বা মলত্যাগ, রাস্তা বা জনসাধারণের জায়গায় আবর্জনা ফেলা, বেআইনিভাবে বর্জ্য ফেলা এবং নিষিদ্ধ প্লাস্টিক ক্যারি ব্যাগ ব্যবহার করলে ২০০ টাকা জরিমানা ধার্য করা হয়েছে। ফলে শহরের রাস্তাঘাট ও জনবহুল এলাকায় নাগরিক নিয়ম ভাঙার ক্ষেত্রে এবার আর শুধুমাত্র সচেতনতা প্রচারের উপর নির্ভর করছে না প্রশাসন।
এই নতুন ব্যবস্থার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হল স্পট ফাইন (Spot Fine) আদায়ের প্রক্রিয়া। নিয়ম ভাঙার ঘটনা চোখে পড়লে অনুমোদিত আধিকারিকরা ঘটনাস্থলেই জরিমানা আদায় করতে পারবেন। জরিমানা গ্রহণের ক্ষেত্রে ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থাকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। QR Code বা অন্যান্য Digital Payment-এর মাধ্যমে টাকা নেওয়ার ব্যবস্থা থাকায় লেনদেনের রেকর্ডও তৈরি হবে। প্রশাসনের কাছে এই পদ্ধতি জরিমানা আদায়কে আরও স্বচ্ছ ও নথিভুক্ত করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
নজরদারির আওতায় থাকবে শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ও জনবহুল এলাকা। বাজার, হাসপাতাল, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় স্থান, সরকারি ভবন, রাস্তা, নর্দমা এবং জলাশয়ের আশপাশে পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার উপর বিশেষ নজর দেওয়া হবে। পাশাপাশি যেখানে বেআইনিভাবে বর্জ্য ফেলা হচ্ছে বা নিষিদ্ধ প্লাস্টিক ব্যবহার করা হচ্ছে, সেখানেও নিয়ম অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তবে এই নিয়ম একেবারে নতুন করে গোটা রাজ্যে শুরু হচ্ছে না। এর আগে পাহাড়ি পুর এলাকাগুলিতে ১ জুলাই থেকে প্রথম পর্যায়ে এই ধরনের নিয়ম কার্যকর করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। এবার ১ সেপ্টেম্বর থেকে রাজ্যের বাকি পুরসভা, পুরনিগম এবং নোটিফায়েড এরিয়া এলাকাতেও এর পরিধি বাড়ানো হয়েছে। ফলে রাজ্যের অধিকাংশ শহরাঞ্চলে নাগরিকদের দৈনন্দিন আচরণের উপর নিয়মভিত্তিক নজরদারি আরও বাড়তে চলেছে।
প্রশাসনের মূল বক্তব্য, এই উদ্যোগের উদ্দেশ্য শুধুমাত্র জরিমানা আদায় করা নয়। দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন পুরসভা ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে পরিচ্ছন্নতা নিয়ে সচেতনতা প্রচার চালানো হলেও প্রকাশ্যে বর্জ্য ফেলা, থুতু ফেলা কিংবা নিষিদ্ধ প্লাস্টিক ব্যবহারের মতো সমস্যা পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। এবার আর্থিক জরিমানার মাধ্যমে সেই নিয়মগুলি বাস্তবে কার্যকর করার উপর জোর দেওয়া হচ্ছে।
এর ফলে শহরাঞ্চলে নাগরিকদের দৈনন্দিন অভ্যাসেও পরিবর্তন আনার চেষ্টা করা হচ্ছে। নির্দিষ্ট জায়গায় আবর্জনা ফেলা, প্রকাশ্য স্থান পরিষ্কার রাখা এবং নিষিদ্ধ প্লাস্টিক এড়িয়ে চলার মতো বিষয়গুলি এখন শুধুমাত্র সামাজিক দায়িত্ব নয়, প্রশাসনিক নিয়মেরও অংশ।
অর্থাৎ, ১ সেপ্টেম্বর থেকে রাস্তায় থুতু, আবর্জনা বা নিষিদ্ধ প্লাস্টিক—নিয়ম ভাঙলে দিতে হতে পারে সরাসরি জরিমানা। এখন দেখার বিষয়, বিভিন্ন পুরসভা ও পুরনিগম এলাকায় এই নিয়ম কতটা ধারাবাহিকভাবে প্রয়োগ করা হয় এবং তার ফলে শহরের পরিচ্ছন্নতা ও নাগরিক শৃঙ্খলায় বাস্তবে কতটা পরিবর্তন আসে।


