নিউ ফরাক্কায় ফের ধস, উত্তরবঙ্গের রেল যোগাযোগে বড় ধাক্কা! বাতিল একের পর এক গুরুত্বপূর্ণ ট্রেন
মেরামতির মধ্যেই নিউ ফরাক্কায় ফের ধস, শুক্রবারও বাতিল একাধিক উত্তরবঙ্গগামী ট্রেন
নিউ ফরাক্কায় ফের ধস, উত্তরবঙ্গের সঙ্গে রেল যোগাযোগে বড়সড় বিঘ্ন। প্রবল বৃষ্টির জেরে মালদহ ডিভিশনের তিলডাঙা-নিউ ফরাক্কা সেকশনে রেললাইনের নীচের মাটি বসে যাওয়ার পর মেরামতির কাজ চলছিল। তার মধ্যেই বৃহস্পতিবার রাতে নতুন করে ধস নামায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে। শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বরও একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দূরপাল্লার ট্রেন বাতিল করা হয়েছে। কিছু ট্রেনকে আবার বিকল্প পথে ঘুরিয়ে চালানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে পূর্ব রেল।
রেল সূত্র অনুযায়ী, নিউ ফরাক্কা ও কালিয়াদিঘা/তিলডাঙার মধ্যবর্তী অংশে প্রবল বৃষ্টির কারণে ট্র্যাকের নীচের মাটি দুর্বল হয়ে এই ভূমিধসের ঘটনা ঘটে। শুক্রবার রাত ১টা ২০ মিনিট থেকে আপ লাইনে ট্রেন চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত অংশে পাথরকুচি, বোল্ডার এবং অন্যান্য উপকরণ দিয়ে মাটি শক্ত করার কাজ চলছে। প্রায় ১৫ থেকে ২০ মিটার অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
মেরামতির কাজ চলার মধ্যেই নতুন করে ধস নামায় রেলের উদ্বেগ আরও বেড়েছে। এর সঙ্গে একটি ওভারহেড বৈদ্যুতিক খুঁটি হেলে পড়ার খবরও সামনে এসেছে। ফলে শুধু রেললাইন মেরামত নয়, বিদ্যুৎ পরিকাঠামোকেও নিরাপদ করার কাজ করতে হচ্ছে। রেলকর্মী, ইঞ্জিনিয়ার এবং আধিকারিকদের একটি বড় দল ঘটনাস্থলে থেকে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করছে।
পরিস্থিতির সরাসরি প্রভাব পড়েছে উত্তরবঙ্গ ও উত্তর-পূর্ব ভারতের সঙ্গে দক্ষিণবঙ্গের রেল যোগাযোগে। শুক্রবার একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ট্রেন বাতিল হয়েছে। বাতিলের তালিকায় রয়েছে হাওড়া-নিউ জলপাইগুড়ি বন্দে ভারত এক্সপ্রেস, দার্জিলিং মেল, পদাতিক এক্সপ্রেস, কাঞ্চনকন্যা এক্সপ্রেস-সহ একাধিক দূরপাল্লার ট্রেন। বিভিন্ন প্রতিবেদনে ৪ সেপ্টেম্বরের জন্য ২০টির বেশি ট্রেন বাতিলের কথা জানানো হয়েছে, যদিও পৃথক তালিকায় বাতিলের সংখ্যা ও ট্রেনের তালিকায় কিছু পার্থক্য রয়েছে।
শুধু ট্রেন বাতিল নয়, বেশ কিছু পরিষেবার রুটও পরিবর্তন করা হয়েছে। দক্ষিণ ভারত থেকে উত্তরবঙ্গগামী কয়েকটি ট্রেনকে নলহাটি-আজিমগঞ্জের মতো বিকল্প রুট দিয়ে চালানো হচ্ছে। এর ফলে যাত্রাপথ বাড়ছে এবং গন্তব্যে পৌঁছতে অতিরিক্ত সময় লাগছে।
রেল পরিষেবা ব্যাহত হওয়ায় বিকল্প পরিবহণের উপরও চাপ বেড়েছে। উত্তরবঙ্গ থেকে কলকাতাগামী বাসে যাত্রীসংখ্যা বেড়েছে বলে খবর। সরকারি বাসের পাশাপাশি বেসরকারি বাসেও চাহিদা বেড়েছে এবং কিছু ক্ষেত্রে ভাড়া বৃদ্ধির অভিযোগ উঠেছে।
এখন মূল লক্ষ্য দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত অংশ মেরামত করে নিরাপদভাবে ট্রেন চলাচল শুরু করা। তবে নতুন করে ধস নামায় পুরো পরিষেবা কবে স্বাভাবিক হবে, তা নিশ্চিত নয়। রেল কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতির উপর নজর রাখছে এবং যুদ্ধকালীন তৎপরতায় কাজ চালাচ্ছে। যাত্রীদের স্টেশনে রওনা হওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট ট্রেনের live status যাচাই করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।


