DVC-এর জলছাড়ায় বাড়ছে উদ্বেগ, দামোদর অববাহিকার নিচু এলাকায় নজর প্রশাসনের
ঝাড়খণ্ডে বৃষ্টি, জল ছাড়ছে DVC—দামোদরের তীরবর্তী এলাকায় কেন বাড়ছে উদ্বেগ?
ঝাড়খণ্ডের ক্যাচমেন্ট এলাকায় টানা বৃষ্টির প্রভাবে মাইথন ও পাঞ্চেত জলাধারে জলের চাপ বাড়ছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে দামোদর ভ্যালি কর্পোরেশন (DVC) জল ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর প্রভাব পড়তে পারে পশ্চিমবঙ্গের দামোদর অববাহিকার একাধিক এলাকায়। বিশেষ করে পশ্চিম বর্ধমান-সহ নদী তীরবর্তী এবং নিচু এলাকাগুলির পরিস্থিতির উপর নজর রাখছে প্রশাসন।
মাইথন ও পাঞ্চেত জলাধার থেকে অতিরিক্ত জল ছাড়া হলে সেই জল দামোদর নদ দিয়ে পশ্চিমবঙ্গের দিকে নেমে আসে। ফলে নদীর জলস্তর বৃদ্ধির পাশাপাশি নিচু এলাকায় জল জমার আশঙ্কাও তৈরি হয়। পশ্চিম বর্ধমানের ক্ষেত্রে বিষয়টি বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ, কারণ জেলার ভৌগোলিক অবস্থানের সঙ্গে এই দুই জলাধারের সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে।
তবে পরিস্থিতি বিচার করার ক্ষেত্রে শুধুমাত্র জলাধার থেকে জলছাড়াকে আলাদা করে দেখা ঠিক হবে না। ঝাড়খণ্ড ও পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন এলাকায় সাম্প্রতিক বৃষ্টিপাত, নদীর বর্তমান জলস্তর এবং স্থানীয় নিকাশি ব্যবস্থার অবস্থাও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। অর্থাৎ, জলাধার থেকে নেমে আসা অতিরিক্ত জল এবং স্থানীয় বৃষ্টির জল একই সময়ে নদী ও খালগুলিতে চাপ তৈরি করলে পরিস্থিতি দ্রুত বদলাতে পারে।
আবহাওয়া পরিস্থিতিও এই উদ্বেগের অন্যতম কারণ। ভারতের আবহাওয়া দফতর (IMD)-এর ৪ সেপ্টেম্বরের পূর্বাভাস অনুযায়ী গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে এবং বজ্রবিদ্যুৎ-সহ ঝড়বৃষ্টির সতর্কতাও জারি রয়েছে। কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন এলাকায় ৪ সেপ্টেম্বর বিক্ষিপ্তভাবে বৃষ্টি বা বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির সম্ভাবনার কথা জানিয়েছে IMD।
ফলে আগামী কয়েক ঘণ্টায় পরিস্থিতি কোন দিকে যায়, তা অনেকটাই নির্ভর করবে ঝাড়খণ্ডের ক্যাচমেন্ট এলাকায় বৃষ্টির তীব্রতা এবং DVC-এর জলাধারগুলির জলপ্রবাহের উপর। জলাধার থেকে জলছাড়ার পরিমাণ বাড়লে তার প্রভাব ধীরে ধীরে দামোদরের নিম্ন অববাহিকায় পৌঁছতে পারে। সেই কারণে নদী তীরবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের সতর্ক থাকা গুরুত্বপূর্ণ।
পশ্চিম বর্ধমানের পাশাপাশি পূর্ব বর্ধমান, বাঁকুড়া, হুগলি এবং হাওড়ার মতো দামোদর অববাহিকার নিচের দিকের এলাকাগুলিও পরিস্থিতির প্রভাবের আওতায় আসতে পারে। যদিও সব এলাকায় একই মাত্রায় জল জমবে বা বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হবে—এমন সিদ্ধান্ত এখনই নেওয়া যায় না। জলস্তর, বৃষ্টিপাত এবং স্থানীয় ভূপ্রকৃতির উপর তার প্রভাব আলাদা হতে পারে।
প্রশাসনের জন্য এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল নদীর জলস্তরের নিয়মিত নজরদারি, বাঁধ ও নদী সংলগ্ন এলাকার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ এবং প্রয়োজন হলে দ্রুত স্থানীয় বাসিন্দাদের সতর্ক করা। নিচু এলাকায় বসবাসকারী মানুষকেও নদী বা জলাধারের কাছাকাছি অপ্রয়োজনে না যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হতে পারে।
এই মুহূর্তে পরিস্থিতি উদ্বেগের হলেও তা সরাসরি বড় বন্যার পূর্বাভাস—এমনটা বলা ঠিক হবে না। আগামী কয়েক ঘণ্টায় DVC-এর জলছাড়ার পরিমাণ, ঝাড়খণ্ডের বৃষ্টিপাত এবং পশ্চিমবঙ্গের আবহাওয়া—এই তিনটি বিষয়ই নির্ধারণ করবে দামোদর অববাহিকায় পরিস্থিতি কতটা জটিল হয়।


