স্বাধীনতা দিবসের আগে ‘বন্দে মাতরম’কে ঘিরে বিশেষ প্রস্তুতি
১৫ আগস্ট লালকেল্লায় প্রথমবারের মতো বিশেষ পরিবেশনার সম্ভাবনা, ১৫০ বছরের স্মরণে দেশজুড়ে উদ্যাপন
নয়াদিল্লি, : স্বাধীনতা দিবসের আর মাত্র দু’দিন বাকি। তার আগে এ বছরের ১৫ আগস্টের জাতীয় অনুষ্ঠানকে ঘিরে সামনে এসেছে একটি বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ কর্মসূচি। জাতীয় সঙ্গীতের পাশাপাশি স্বাধীনতা আন্দোলনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দেশাত্মবোধক গান **‘বন্দে মাতরম’**কে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ২০২৬ সালে গানটির ১৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে সারা দেশে বছরব্যাপী কর্মসূচি চলছে। সেই আবহেই স্বাধীনতা দিবসে লালকেল্লার মূল অনুষ্ঠানে ‘বন্দে মাতরম’ পরিবেশনের প্রস্তুতি নিয়ে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে। সাম্প্রতিক একাধিক প্রতিবেদনে এটিকে লালকেল্লার স্বাধীনতা দিবস অনুষ্ঠানের একটি বিশেষ সংযোজন হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।
এ বছরের অনুষ্ঠানটির তাৎপর্য আরও বাড়ছে কারণ ২০২৬ সালে ‘বন্দে মাতরম’-এর ১৫০ বছর পূর্তি উদ্যাপন করছে কেন্দ্র। সংস্কৃতি মন্ত্রকের তথ্য অনুযায়ী, গানটির ঐতিহাসিক ভূমিকা এবং স্বাধীনতা আন্দোলনে এর প্রভাবকে সামনে রেখে বছরজুড়ে বিভিন্ন কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। সরকারের উদ্যোগের লক্ষ্য শুধু গানটির ঐতিহাসিক স্মৃতি তুলে ধরা নয়, নতুন প্রজন্মের কাছেও এর ঐতিহ্য ও স্বাধীনতা সংগ্রামের সঙ্গে সম্পর্ককে তুলে ধরা।
‘বন্দে মাতরম’-এর ইতিহাস ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত। বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের রচনায় এর জন্ম এবং পরে স্বাধীনতা সংগ্রামের বিভিন্ন পর্যায়ে গানটি আন্দোলনকারীদের মধ্যে দেশাত্মবোধ ও ঐক্যের বার্তা ছড়িয়েছিল। সংস্কৃতি মন্ত্রকের প্রকাশিত তথ্যেও গানটিকে স্বাধীনতা সংগ্রামের সময় একটি ঐক্যবদ্ধ আহ্বান হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
২০২৬ সালের শুরুতেই কেন্দ্র ‘বন্দে মাতরম’-এর ১৫০ বছর পূর্তিকে সামনে রেখে একাধিক জাতীয় কর্মসূচি শুরু করেছিল। প্রজাতন্ত্র দিবসের কুচকাওয়াজেও গানটিকে কেন্দ্রীয় থিমের অংশ করা হয়। প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ২৬ জানুয়ারির অনুষ্ঠানে ‘স্বাধীনতার মন্ত্র—বন্দে মাতরম’ এবং ‘সমৃদ্ধির মন্ত্র—আত্মনির্ভর ভারত’ থিমে একাধিক ট্যাবলো ও সাংস্কৃতিক উপস্থাপনা ছিল। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে সশস্ত্র বাহিনী ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর ব্যান্ডের পরিবেশনার কর্মসূচিও নেওয়া হয়েছিল। এমনকি পশ্চিমবঙ্গের নৈহাটিতে বঙ্কিমচন্দ্রের জন্মস্থান ও বাসভবনেও এই কর্মসূচির অংশ হিসেবে পরিবেশনার আয়োজন করা হয়।
স্বাধীনতা দিবসের আগে ‘বন্দে মাতরম’কে ঘিরে আরও একটি দেশব্যাপী কর্মসূচি চলছে। সরকারি উদ্যোগে ‘Har Ghar Tiranga 2026’ কর্মসূচি ৯ থেকে ১৭ আগস্ট পর্যন্ত পালিত হচ্ছে। বিদেশে ভারতীয় দূতাবাসগুলিকেও এই কর্মসূচিতে যুক্ত করা হয়েছে। কাজাখস্তানে ভারতীয় দূতাবাসের প্রকাশিত নির্দেশনায় নাগরিকদের তেরঙ্গার সঙ্গে ছবি তুলে অংশগ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছে এবং সেখানে ‘বন্দে মাতরম’-এর অনুমোদিত কথা ও অডিও ব্যবহারের ব্যবস্থার কথাও বলা হয়েছে।
এবারের স্বাধীনতা দিবস ভারতের জন্য আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। ২০২৬ সালে দেশ ৮০তম স্বাধীনতা দিবস পালন করবে। ১৯৪৭ সালে স্বাধীনতা অর্জনের পর আট দশকের এই যাত্রায় স্বাধীনতা সংগ্রামের স্মৃতি, সংবিধান, গণতন্ত্র এবং দেশের ভবিষ্যৎ উন্নয়নের লক্ষ্যকে সামনে রেখে জাতীয় অনুষ্ঠান সাজানো হচ্ছে। সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে এবারের স্বাধীনতা দিবসের থিম হিসেবে যুবশক্তি ও উন্নত ভারতের লক্ষ্যকে গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
তবে ‘বন্দে মাতরম’ নিয়ে এবারের বিশেষ আয়োজনকে শুধুমাত্র একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হিসেবে দেখলে এর ঐতিহাসিক গুরুত্বের একটি অংশ বাদ পড়ে যায়। গানটি স্বাধীনতা আন্দোলনের ইতিহাসের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। একই সঙ্গে এটি ভারতের জাতীয় সঙ্গীত নয়, বরং জাতীয় গান। ফলে সরকারি অনুষ্ঠানে এর বিশেষ পরিবেশনা জাতীয় ঐতিহ্য ও স্বাধীনতা সংগ্রামের স্মৃতিকে নতুন করে সামনে আনার একটি সাংস্কৃতিক উদ্যোগ হিসেবেও দেখা হচ্ছে।
স্বাধীনতা দিবসের মূল অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী লালকেল্লার প্রাচীর থেকে জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেবেন। পতাকা উত্তোলনের পাশাপাশি সাংস্কৃতিক ও সামরিক আনুষ্ঠানিকতার মধ্য দিয়ে দিনটি উদ্যাপিত হবে। এই আবহে ‘বন্দে মাতরম’-এর বিশেষ পরিবেশনা যোগ হলে এবারের অনুষ্ঠানের ঐতিহাসিক মাত্রা আরও বাড়বে বলেই মনে করা হচ্ছে।
সব মিলিয়ে, ১৫ আগস্ট ২০২৬-এর অনুষ্ঠান শুধু স্বাধীনতার ৮০তম বর্ষ উদ্যাপন নয়, ‘বন্দে মাতরম’-এর ১৫০ বছরের ঐতিহাসিক যাত্রাকেও স্মরণ করার একটি গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় উপলক্ষ। স্বাধীনতা আন্দোলনের স্মৃতি থেকে বর্তমান প্রজন্মের কাছে দেশাত্মবোধের বার্তা পৌঁছে দেওয়া, এবং ভবিষ্যৎ ভারতের নির্মাণে তরুণ প্রজন্মকে সামনে আনা, এবারের উদ্যাপনের মূল বার্তাগুলির অন্যতম হয়ে উঠছে।

