নয় বছর পর টাটার শীর্ষ পদে বদল, চন্দ্রশেখরনের পর কে?

NEWS INDIA বাংলা
0

 N. চন্দ্রশেখরনের বিদায়ের ঘোষণা, টাটার শীর্ষ নেতৃত্বে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত

২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারিতে শেষ হবে বর্তমান মেয়াদ, পুনর্নিয়োগ চাইবেন না Tata Sons-এর চেয়ারম্যান

N Chandrasekaran Tata Sons chairman leadership change Tata Group


 নিউজ ইন্ডিয়া ডেস্ক: ভারতের অন্যতম বৃহৎ শিল্পগোষ্ঠী টাটার শীর্ষ নেতৃত্বে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলেছে। Tata Sons-এর চেয়ারম্যান N. চন্দ্রশেখরন জানিয়েছেন, তাঁর বর্তমান মেয়াদ শেষ হওয়ার পর তিনি আর পুনর্নিয়োগ চাইবেন না। তাঁর বর্তমান মেয়াদ ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারিতে শেষ হওয়ার কথা। ফলে তার আগেই Tata Sons-কে নতুন চেয়ারম্যান বেছে নিতে হবে।

চন্দ্রশেখরনের সিদ্ধান্তের নেপথ্যে Tata Sons-এর বোর্ডে তাঁর পুনর্নিয়োগ নিয়ে সর্বসম্মত সমর্থনের অভাব গুরুত্বপূর্ণ কারণ হিসেবে উঠে এসেছে। Reuters-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, Tata Trusts-এর সঙ্গে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে দীর্ঘদিন ধরে মতপার্থক্য চলছিল। Tata Trusts Tata Sons-এর প্রায় ৬৬ শতাংশ মালিকানা ধরে রাখে এবং টাটা গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণ কাঠামোয় তাদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

চন্দ্রশেখরনের বক্তব্য অনুযায়ী, Sir Dorabji Tata Trust এবং Sir Ratan Tata Trust তাঁর আরও পাঁচ বছরের মেয়াদ বৃদ্ধির পক্ষে সুপারিশ করেছিল। কিন্তু ২০২৬ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারির বোর্ড বৈঠকে পুনর্নিয়োগের প্রস্তাব সর্বসম্মত সমর্থন পায়নি। এরপর বিষয়টি ঝুলে থাকে। প্রায় ছয় মাসেও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না হওয়ায় চন্দ্রশেখরন আর পুনর্নিয়োগের অপেক্ষায় না থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নেন।

তবে এটি তাৎক্ষণিকভাবে চেয়ার ছেড়ে দেওয়ার ঘটনা নয়। চন্দ্রশেখরন বর্তমান মেয়াদ শেষ হওয়া পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করবেন। একইসঙ্গে Tata Sons-এর বোর্ডকে দ্রুত তাঁর উত্তরসূরি বেছে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন, যাতে নেতৃত্ব পরিবর্তনের সময় কোনও প্রশাসনিক শূন্যতা তৈরি না হয়।

২০১৭ সালে Tata Sons-এর চেয়ারম্যান হওয়ার পর চন্দ্রশেখরনের নেতৃত্বে টাটা গোষ্ঠী একাধিক ব্যবসায়িক পুনর্গঠন ও সম্প্রসারণের মধ্য দিয়ে গিয়েছে। Tata Steel, Tata Motors, Air India, তথ্যপ্রযুক্তি, বিমান পরিষেবা-সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে গোষ্ঠীর কৌশলগত অবস্থান পুনর্গঠনে তাঁর ভূমিকা ছিল গুরুত্বপূর্ণ। Reuters-এর বিশ্লেষণেও তাঁর নয় বছরের নেতৃত্বে বিভিন্ন ব্যবসার পুনরুদ্ধার এবং শেয়ারহোল্ডারদের জন্য শক্তিশালী রিটার্নের কথা উঠে এসেছে।

তবে তাঁর মেয়াদের শেষ পর্যায়ে গোষ্ঠীর বিভিন্ন বিষয়ে চাপও তৈরি হয়েছে। Tata Sons-এর সম্ভাব্য তালিকাভুক্তি (listing), Air India-র আর্থিক ক্ষতি, সংখ্যালঘু শেয়ারহোল্ডারের প্রস্থান এবং বোর্ডে প্রতিনিধিত্বের মতো বিষয়ে Tata Trusts-এর সঙ্গে মতপার্থক্য সামনে এসেছে।

চন্দ্রশেখরনের সরে দাঁড়ানোর ঘোষণার পর বাজারেও তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। বুধবার Tata Group-এর একাধিক তালিকাভুক্ত সংস্থার শেয়ারে পতন হয়। TCS-এর শেয়ার প্রায় ৩.৯ শতাংশ কমে যায়। Tata Motors Passenger Vehicles, Titan এবং Tata Steel-এর শেয়ারও দুর্বল হয়। বিনিয়োগকারীদের মধ্যে মূল উদ্বেগ ছিল নেতৃত্ব পরিবর্তনকে ঘিরে অনিশ্চয়তা।

Tata Sons শুধু একটি সংস্থা নয়, গোটা Tata Group-এর মূল holding company। তথ্যপ্রযুক্তি, গাড়ি, ইস্পাত, বিমান পরিষেবা, বিদ্যুৎ, খুচরো ব্যবসা, ভোক্তা পণ্য, সেমিকন্ডাক্টর এবং আর্থিক পরিষেবা-সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে এর মালিকানা ও নিয়ন্ত্রণ রয়েছে। ফলে নতুন চেয়ারম্যান কে হবেন, তাঁর ব্যবসায়িক দৃষ্টিভঙ্গি কী হবে এবং Tata Trusts ও বোর্ডের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক কেমন হবে, তা আগামী দিনের কৌশলের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

তাই চন্দ্রশেখরনের বিদায়কে শুধুমাত্র ব্যবসায়িক ব্যর্থতার ফল হিসেবে দেখা ঠিক হবে না। প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, পুনর্নিয়োগ নিয়ে বোর্ডে সর্বসম্মত সমর্থনের অভাব এবং Tata Trusts-এর সঙ্গে দীর্ঘদিনের মতপার্থক্যই সিদ্ধান্তের কেন্দ্রে রয়েছে। এখন নজর Tata Sons-এর পরবর্তী চেয়ারম্যান নির্বাচনের দিকে। নতুন নেতৃত্ব শুধু একটি পদ পূরণ করবে না, বরং টাটা গোষ্ঠীর পরবর্তী অধ্যায়ের কৌশল ও প্রশাসনিক দিকও অনেকটাই নির্ধারণ করবে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন (0)

#buttons=(Ok, Go it!) #days=(20)

Our website uses cookies to enhance your experience. Check Now
Ok, Go it!