সেকেন্ড হ্যান্ড জিনিস কিনে ঘরে আনছেন? বাস্তু মতে কেন সতর্ক হওয়া জরুরি
কম দামে পুরোনো আসবাব বা ঘর সাজানোর জিনিস কিনছেন? বাস্তুবিশ্বাস অনুযায়ী, ব্যবহৃত সামগ্রীর সঙ্গে আগের পরিবেশের নেতিবাচক প্রভাব জড়িয়ে থাকতে পারে বলে মনে করা হয়।
কম খরচে ঘর সাজাতে পুরোনো বা সেকেন্ড হ্যান্ড (Second-hand) আসবাব কেনার প্রবণতা এখন অনেকটাই বেড়েছে। পুরোনো ফার্নিচার, ইলেকট্রনিক্স কিংবা ঘর সাজানোর সামগ্রী তুলনামূলক কম দামে পাওয়া যায় বলেই অনেকের কাছে এগুলি আকর্ষণীয়। তবে বাস্তুশাস্ত্রে ব্যবহৃত জিনিস ঘরে আনার ক্ষেত্রে কিছু সতর্কতার কথা বলা হয়েছে।
বাস্তুবিশ্বাস অনুযায়ী, কোনও বস্তু দীর্ঘদিন একজন মানুষের ব্যবহারে থাকলে তার সঙ্গে সেই ব্যক্তির মানসিক অবস্থা ও পরিবেশের একটি ‘শক্তি’ বা প্রভাব জড়িয়ে থাকতে পারে। সেই কারণেই আগের ব্যবহারকারীর জীবনে দীর্ঘস্থায়ী অশান্তি, অসুস্থতা বা আর্থিক সমস্যার মতো নেতিবাচক পরিস্থিতি থাকলে ওই জিনিস ঘরে আনার আগে সতর্ক হওয়া উচিত বলে মনে করেন বাস্তুবিশ্বাসীরা।
বিশেষ করে পুরোনো খাট, তোশক এবং লোহার আসবাব নিয়ে বাড়তি সতর্কতার কথা বলা হয়। বাস্তু মতে, দীর্ঘদিনের ব্যবহারে জীর্ণ বা মরচে ধরা লোহার সামগ্রী ঘরের পরিবেশে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে এবং শনির সঙ্গে যুক্ত অশুভ প্রভাবের আশঙ্কা তৈরি করতে পারে বলে বিশ্বাস রয়েছে।
তবে এখানে একটি বিষয় মনে রাখা জরুরি, নেতিবাচক শক্তি বা কোনও ব্যবহৃত জিনিসের মাধ্যমে অশুভ প্রভাব ছড়িয়ে পড়ার দাবির পক্ষে বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই। এগুলি মূলত বাস্তুশাস্ত্র ও লোকবিশ্বাসের অংশ।
বাস্তু মেনে চলেন এমন ব্যক্তিরা অবশ্য কয়েকটি প্রতীকী ও পরিচ্ছন্নতার নিয়ম অনুসরণ করেন। ব্যবহৃত কোনও সামগ্রী ঘরে আনার আগে ভালোভাবে পরিষ্কার করা, রোদে রাখা এবং প্রয়োজনে নুন-জল দিয়ে মুছে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। কেউ কেউ গঙ্গাজল ছিটিয়ে বা ধূপ-ধুনো ব্যবহার করেও শুদ্ধিকরণের প্রথা পালন করেন।
ইলেকট্রনিক্স সামগ্রীর ক্ষেত্রেও বাস্তুশাস্ত্রে দক্ষিণ-পূর্ব দিক বা অগ্নিকোণকে উপযুক্ত বলে মনে করা হয়। তবে টিভি, ফ্রিজ বা অন্যান্য বৈদ্যুতিন যন্ত্র কোথায় রাখা হবে, তা নির্ধারণের সময় ঘরের নকশা, নিরাপত্তা, বৈদ্যুতিক সংযোগ এবং প্রস্তুতকারকের নির্দেশিকাকেও অবশ্যই গুরুত্ব দেওয়া উচিত।
অর্থাৎ, সেকেন্ড হ্যান্ড জিনিস কেনার ক্ষেত্রে বাস্তুশাস্ত্রের বিশ্বাস মানুন বা না মানুন, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, জিনিসটির অবস্থা এবং নিরাপত্তা যাচাই করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

