মাছ খাওয়া কি সবসময় নিরাপদ? বড় মাছ নিয়ে কেন সতর্ক করছেন বিশেষজ্ঞরা
বাঙালির প্রিয় মাছ কি সবসময়ই শরীরের জন্য নিরাপদ? বিষয়টি এতটা সরল নয়। মাছ প্রোটিন ও ওমেগা-৩-এর গুরুত্বপূর্ণ উৎস এবং স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের অংশ হতে পারে। তবে বড় শিকারি মাছের মধ্যে মিথাইলমারকারির মাত্রা তুলনামূলক বেশি থাকতে পারে।
বাঙালির পাতে মাছ না থাকলে যেন খাবারই অসম্পূর্ণ। প্রোটিন, ভিটামিন ও স্বাস্থ্যকর ফ্যাটি অ্যাসিডের গুরুত্বপূর্ণ উৎস হিসেবে মাছকে সাধারণত স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের অংশ হিসেবেই দেখা হয়। এমনকি নিয়মিত মাছ খাওয়ার সঙ্গে হৃদ্স্বাস্থ্যের সম্ভাব্য উপকারের কথাও উল্লেখ করেছে স্বাস্থ্যবিষয়ক বিভিন্ন নির্দেশিকা।
তবে সব মাছ একই রকম নয়। বিশেষ করে বড় এবং দীর্ঘজীবী শিকারি মাছের শরীরে খাদ্যশৃঙ্খলের মাধ্যমে মিথাইলমারকারি (Methylmercury) বেশি জমতে পারে। অতিরিক্ত পারদ শরীরের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। FDA-র তথ্য অনুযায়ী, প্রায় সব মাছেই অল্প পরিমাণে মিথাইলমারকারি থাকতে পারে, তবে বড় মাছ যারা অন্য মাছ খায়, তাদের মধ্যে মাত্রা তুলনামূলক বেশি হওয়ার প্রবণতা রয়েছে।
এই কারণেই মাছ বাছাইয়ের ক্ষেত্রে সচেতন হওয়া জরুরি। কিং ম্যাকারেল (King Mackerel), শার্ক, সোর্ডফিশ, মার্লিন এবং বিগআই টুনা-র মতো কয়েকটি বড় মাছ FDA-র তালিকায় সর্বোচ্চ পারদযুক্ত মাছের ‘Avoid’ শ্রেণিতে রয়েছে। অন্যদিকে সার্ডিন, অ্যাঞ্চোভি, হেরিং, স্যালমন এবং আটলান্টিক ম্যাকারেলের মতো মাছ তুলনামূলক কম পারদের ‘Best Choices’ তালিকায় রয়েছে।
তবে এর অর্থ এই নয় যে ফার্মের মাছ খেলেই হার্টের অসুখ বা ডায়াবেটিস হবে। মাছ চাষ করা হয়েছে নাকি সমুদ্র থেকে এসেছে, শুধু এই একটি বিষয় দিয়ে তার স্বাস্থ্যগত মান নির্ধারণ করা যায় না। মাছের প্রজাতি, উৎস, খাবার, প্রস্তুত করার পদ্ধতি এবং সামগ্রিক খাদ্যাভ্যাসও গুরুত্বপূর্ণ।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শের মূল কথা তাই মাছ বন্ধ করা নয়, বরং বিভিন্ন ধরনের মাছ বেছে খাওয়া এবং উচ্চ পারদযুক্ত মাছ অতিরিক্ত না খাওয়া। অতিরিক্ত নুনযুক্ত প্রসেসড বা ক্যানড মাছের ক্ষেত্রেও সোডিয়ামের মাত্রা দেখে নেওয়া ভালো। সুষম খাবারের পাশাপাশি নিয়মিত শরীরচর্চা ও স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনই হৃদ্স্বাস্থ্য রক্ষার গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

