নির্মলের পর সঞ্জীব, আরজি করের সেই রাতের সৎকার নিয়ে ফের বাড়ল তদন্তের চাপ

NEWS INDIA বাংলা
0

 

আরজি কর-কাণ্ডে নতুন গ্রেফতার, নির্মলের পর সঞ্জীব

তড়িঘড়ি দেহ সৎকারের অভিযোগে প্রাক্তন কাউন্সিলর সঞ্জীব মুখোপাধ্যায়কে গ্রেফতার, তদন্তে আরও এক অভিযুক্তের খোঁজ

আরজি কর মামলায় গ্রেফতার সঞ্জীব মুখোপাধ্যায় ও নির্মল ঘোষ


কলকাতা, ১৪ আগস্ট: আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে তরুণী চিকিৎসকের ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় নতুন করে তদন্তের গতি বাড়ল। মৃতদেহ তড়িঘড়ি সৎকার এবং সেই প্রক্রিয়ায় তথ্যপ্রমাণ নষ্ট বা তদন্তকে প্রভাবিত করার অভিযোগের পৃথক মামলায় এবার গ্রেফতার হলেন প্রাক্তন কাউন্সিলর সঞ্জীব মুখোপাধ্যায়। তাঁর গ্রেফতারের কয়েক ঘণ্টা আগেই ওড়িশা থেকে গ্রেফতার করা হয় পানিহাটির প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক নির্মল ঘোষকে। ফলে ২০২৪ সালের আরজি কর-কাণ্ড ঘিরে দ্রুত সৎকারের অভিযোগের তদন্তে নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে।

তদন্ত ও সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মৃত চিকিৎসকের পরিবারের পক্ষ থেকে দ্রুত সৎকারের ঘটনায় নির্মল ঘোষ, সঞ্জীব মুখোপাধ্যায় এবং সোমনাথ দে-র ভূমিকা নিয়ে অভিযোগ তোলা হয়েছিল। অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছে মৃতদেহ দ্রুত দাহ করা, দ্বিতীয় ময়নাতদন্তের সম্ভাবনা নষ্ট হওয়া এবং ঘটনাটির সঙ্গে যুক্ত নথি বা তথ্যপ্রমাণ নিয়ে প্রশ্ন। পরিবারের পক্ষ থেকে আদালতের দ্বারস্থ হয়ে এই তিনজনের ভূমিকা তদন্তের আওতায় আনার আবেদনও করা হয়েছিল।

২০২৪ সালের ৯ আগস্ট আরজি কর হাসপাতালের সেমিনার হল থেকে তরুণী চিকিৎসকের দেহ উদ্ধারের পর গোটা দেশে তীব্র ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। মূল ধর্ষণ ও খুনের মামলায় তদন্ত করে সিবিআই। সেই মামলায় সঞ্জয় রায় দোষী সাব্যস্ত হয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড পেয়েছেন। তবে মৃতদেহ কীভাবে হাসপাতাল থেকে বের করে দ্রুত পানিহাটি শ্মশানে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল এবং সৎকারের প্রক্রিয়ায় কারা কী ভূমিকা নিয়েছিলেন, সেই প্রশ্নকে ঘিরে আলাদা তদন্ত শুরু হয়েছে।

পরিবারের অভিযোগ, তাঁদের পূর্ণ সম্মতি ছাড়াই দেহ দ্রুত সৎকার করা হয়েছিল। এর ফলে দ্বিতীয়বার ময়নাতদন্তের সম্ভাবনা কার্যত শেষ হয়ে যায় বলে পরিবারের তরফে দাবি করা হয়েছে। সৎকার সংক্রান্ত নথিতে পরিবারের সদস্যদের পরিবর্তে অন্যদের স্বাক্ষর থাকার বিষয়টিও তদন্তকারীদের নজরে এসেছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এই মামলায় তদন্তকারীরা সৎকারের সিদ্ধান্ত কীভাবে নেওয়া হয়েছিল, কার নির্দেশে প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করা হয়েছিল এবং সেই সময় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মধ্যে কী ধরনের যোগাযোগ হয়েছিল, তা খতিয়ে দেখছেন। জুন মাসে এই ঘটনাকে ঘিরে তদন্তের অগ্রগতি নিয়ে আদালতে স্ট্যাটাস রিপোর্ট জমা পড়ার কথাও প্রকাশ্যে আসে। পাশাপাশি পানিহাটি শ্মশানের নথি ও রেজিস্টার খতিয়ে দেখার বিষয়টি সামনে আসে।

নির্মল ঘোষকে প্রযুক্তিগত তথ্যের সূত্র ধরে ওড়িশা থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে জানা গিয়েছে। অন্যদিকে, সঞ্জীব মুখোপাধ্যায়ও এই মামলায় পুলিশের হাতে ধরা পড়লেন। মামলায় নাম থাকা সোমনাথ দে-র ভূমিকা নিয়েও তদন্ত চলছে।

তবে আইনি দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, এই গ্রেফতারগুলি তদন্তের অংশ। আদালতে দোষ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত কোনও অভিযুক্তকেই অপরাধী হিসেবে চূড়ান্তভাবে বিবেচনা করা যায় না। দ্রুত সৎকার সংক্রান্ত মামলা এবং মূল ধর্ষণ ও খুনের মামলা পৃথক আইনি প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে।

আরজি কর-কাণ্ডের দুই বছর পর মৃতদেহ সৎকারের ঘটনাকে ঘিরে নতুন করে গ্রেফতারি সেই রাতের ঘটনাপ্রবাহ, সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং তথ্যপ্রমাণ সংরক্ষণের প্রশ্নকে ফের সামনে নিয়ে এসেছে। এখন তদন্তে আরও কী তথ্য উঠে আসে এবং আদালতে তার কী প্রভাব পড়ে, সেদিকেই নজর থাকবে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন (0)

#buttons=(Ok, Go it!) #days=(20)

Our website uses cookies to enhance your experience. Check Now
Ok, Go it!