পাকিস্তানি নাগরিক গ্রেফতার, ফোর্ট উইলিয়ামের ছবি ও মানচিত্র উদ্ধার
স্বাধীনতা দিবসের আগে হাবড়ায় STF-এর অভিযানে চাঞ্চল্য, সম্ভাব্য তথ্য সংগ্রহ ও সীমান্ত-যোগ খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা
স্বাধীনতা দিবসের প্রাক্কালে উত্তর ২৪ পরগনার হাবড়ায় পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (STF)-এর অভিযানে এক পাকিস্তানি নাগরিক-সহ দু’জনকে গ্রেফতারের ঘটনায় নিরাপত্তা মহলে চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। তদন্তকারীদের দাবি, ধৃতদের কাছ থেকে কলকাতার ফোর্ট উইলিয়ামের ছবি এবং একটি মানচিত্র উদ্ধার হয়েছে। ভারতীয় সেনার ইস্টার্ন কমান্ডের সদর দফতর হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ এই সামরিক স্থাপনার ছবি ও মানচিত্র কীভাবে তাঁদের হাতে এল, কেনই বা তা রাখা হয়েছিল, এখন সেটিই তদন্তের অন্যতম প্রধান প্রশ্ন।
STF সূত্র ও PTI-ভিত্তিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ধৃতদের নাম রানা রউফ খালিদ ওরফে ওয়াহাব আলম এবং মহম্মদ ইজাজ। মঙ্গলবার রাতে হাবড়া এলাকায় যশোর রোড ধরে বাংলাদেশ সীমান্তের দিকে যাওয়ার সময় তাঁদের আটক করা হয়। তদন্তকারীদের দাবি, রানা রউফ পাকিস্তানের ফয়সলাবাদের বাসিন্দা। নেপাল হয়ে অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশের অভিযোগও রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। তাঁর কাছে ভুয়ো ভারতীয় পরিচয়পত্র বা নথি ছিল কি না, কীভাবে সেগুলি তৈরি হয়েছিল, তা নিয়েও তদন্ত চলছে।
এই মামলায় সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে ফোর্ট উইলিয়ামের ছবি ও উদ্ধার হওয়া মানচিত্র। STF-এর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সামগ্রীগুলি কোথা থেকে সংগ্রহ করা হয়েছিল এবং কী উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হচ্ছিল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এগুলি কোনও ধরনের তথ্য সংগ্রহ (Information Gathering) বা রেকি (Reconnaissance)-র কাজে ব্যবহার করা হয়েছিল কি না, সেই সম্ভাবনাও তদন্তকারীরা খতিয়ে দেখছেন। তবে শুধুমাত্র ছবি ও মানচিত্র উদ্ধারের ভিত্তিতে কোনও নাশকতার পরিকল্পনা নিশ্চিত হয়েছে, এমন তথ্য এখনও সামনে আসেনি।
তদন্তে উঠে এসেছে আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য। ধৃতদের কাছ থেকে উদ্ধার হওয়া মোবাইল ফোনে পাকিস্তান, নেপাল, শ্রীলঙ্কা এবং বাংলাদেশের সঙ্গে যুক্ত ফোন নম্বর পাওয়া গিয়েছে বলে STF সূত্রের দাবি। বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়া চ্যাটও তদন্তকারীদের নজরে এসেছে। কিছু চ্যাট এবং ফোন নম্বর মুছে ফেলার চেষ্টা করা হয়েছিল বলেও জানা গিয়েছে। ফরেনসিক পদ্ধতিতে সেই তথ্য পুনরুদ্ধারের চেষ্টা চলছে। কার সঙ্গে তাঁদের যোগাযোগ ছিল, কী ধরনের কথাবার্তা হয়েছে এবং কোনও সংবেদনশীল তথ্য আদানপ্রদান করা হয়েছিল কি না, তা জানার চেষ্টা করছেন তদন্তকারীরা।
পাশাপাশি রানা রউফের সঙ্গে পাকিস্তানি গোয়েন্দা সংস্থা Inter-Services Intelligence বা ISI-এর কোনও যোগাযোগ ছিল কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সীমান্তবর্তী পেট্রাপোল ও ঘোজাডাঙা এলাকার নিরাপত্তা পরিকাঠামো সম্পর্কে কোনও তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছিল কি না, সেই প্রশ্নও তদন্তের আওতায় রয়েছে। তবে ISI-যোগের বিষয়টি এখনও তদন্তাধীন এবং আদালতে প্রমাণিত নয়।
আদালতে পেশ করার পর দু’জনকে ১৪ দিনের বিচারবিভাগীয় হেফাজতে পাঠানো হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁদের ভারতে প্রবেশের পথ, থাকার সময়কাল, নথি তৈরির প্রক্রিয়া এবং সম্ভাব্য যোগাযোগের নেটওয়ার্ক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তাঁদের সঙ্গে আরও কেউ যুক্ত ছিলেন কি না, সেটিও তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ দিক।
স্বাধীনতা দিবসের আগে এমন ঘটনায় কলকাতা ও সীমান্তবর্তী এলাকায় নিরাপত্তা নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই সতর্কতা বেড়েছে। তবে তদন্ত সম্পূর্ণ হওয়ার আগে কোনও সিদ্ধান্তে পৌঁছনোর বদলে উদ্ধার হওয়া সামগ্রী, ডিজিটাল তথ্য এবং যোগাযোগের নেটওয়ার্ক থেকে প্রমাণ সংগ্রহের দিকেই এখন নজর তদন্তকারীদের।

