ভারতে আসছে পলিমার নোট, বদলাতে পারে টাকার চেহারা
ভারতে এখনও প্লাস্টিক নোট চালু হয়নি, তবে তার প্রস্তুতি শুরু করেছে RBI। RBI-এর নোট ছাপার সংস্থা BRBNMPL পলিমার সাবস্ট্রেটের জন্য গ্লোবাল EOI ডেকেছে। প্রাথমিকভাবে দুইটি denomination নিয়ে field trial-এর প্রস্তুতি চলছে। বিভিন্ন রিপোর্টে ₹১০ ও ₹২০ নোটের কথা উঠে এসেছে।
UPI ও ডিজিটাল পেমেন্টের দাপট বাড়লেও ভারতের দৈনন্দিন জীবনে নগদ টাকার গুরুত্ব এখনও যথেষ্ট। বাস-অটো ভাড়া থেকে শুরু করে ছোট দোকানের কেনাকাটা, বহু ক্ষেত্রেই পকেটের নোটই শেষ ভরসা। আর সেই নোট যদি ভিজে যায়, দুমড়ে যায় বা ছিঁড়ে যায়, তাহলে তৈরি হয় সমস্যা। এবার সেই পুরনো সমস্যার সমাধানে নতুন পথে হাঁটতে চলেছে ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাংক (RBI)।
তবে এখনও সাধারণ মানুষের হাতে প্লাস্টিক নোট পৌঁছে যায়নি। তার আগে শুরু হবে পরীক্ষামূলক পর্যায় (field trial)। RBI-এর সম্পূর্ণ মালিকানাধীন সংস্থা Bharatiya Reserve Bank Note Mudran Private Limited (BRBNMPL) ইতিমধ্যেই পলিমার নোট তৈরির উপযোগী বিশেষ সাবস্ট্রেট (polymer substrate) সংগ্রহের জন্য বিশ্বজুড়ে সংস্থাগুলির কাছে Expression of Interest বা EOI চেয়েছে। ১৭ জুলাই প্রকাশিত এই EOI-তে ৬৮ হাজার রিম পলিমার সাবস্ট্রেটের প্রাথমিক প্রয়োজনের কথা বলা হয়েছে।
প্রতিটি রিমে ৫০০টি শিট থাকে। দুইটি denomination-এর জন্য ৩৪ হাজার করে রিমের প্রাথমিক চাহিদা রাখা হয়েছে। অর্থাৎ, প্রথম ধাপে সীমিত পরিসরে পরীক্ষামূলক নোট ছাপানোর প্রস্তুতি চলছে। বিভিন্ন রিপোর্টে সম্ভাব্য প্রথম denomination হিসেবে ₹১০ ও ₹২০ নোটের কথা উঠে এসেছে। তবে RBI এখনও চূড়ান্তভাবে কোন কোন নোট দিয়ে ট্রায়াল শুরু হবে, তা আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেনি।
পলিমার নোটের অন্যতম বড় সুবিধা হল এর স্থায়িত্ব। কাগজের নোটের তুলনায় এই ধরনের নোট সাধারণত জল, আর্দ্রতা ও দৈনন্দিন ব্যবহারে ক্ষয়ক্ষতির বিরুদ্ধে বেশি প্রতিরোধী। ফলে বারবার নোট বদলে নতুন নোট ছাপানোর প্রয়োজন কমতে পারে। ভারতেও দীর্ঘদিন ধরে নোটের আয়ু বাড়ানোর জন্য বিকল্প সাবস্ট্রেট নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে। ২০১৯ সালেও BRBNMPL প্লাস্টিক-ভিত্তিক সাবস্ট্রেট নিয়ে নমুনা সংগ্রহ করেছিল।
নতুন প্রযুক্তির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হল নিরাপত্তা। চলতি EOI-তে পলিমার সাবস্ট্রেটে clear window, metallic numeral, magnetic pseudo thread, shadow image এবং iridescent pattern-এর মতো নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্যের কথা বলা হয়েছে। এর ফলে নোট জাল করা আরও কঠিন করার সম্ভাবনা রয়েছে।
খরচের বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। RBI-এর বার্ষিক তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে নোট ছাপাতে খরচ হয়েছে প্রায় ৪,৮৭৫ কোটি টাকা। একই সময়ে দেশের মোট currency in circulation বেড়ে ৪১.২৩ লক্ষ কোটি টাকায় পৌঁছেছে। অর্থাৎ ডিজিটাল লেনদেন বাড়লেও নগদের চাহিদা এখনও যথেষ্ট।
তবে পলিমার নোট মানেই যে সঙ্গে সঙ্গে কাগজের সব নোট বাতিল হয়ে যাবে, এমন নয়। প্রথমে হবে পরীক্ষামূলক ব্যবহার। সেই পরীক্ষায় নোটের স্থায়িত্ব, নিরাপত্তা, ছাপার প্রযুক্তি এবং সাধারণ মানুষের ব্যবহারযোগ্যতা যাচাই করা হবে। ট্রায়াল সফল হলে ভবিষ্যতে আরও denomination-এ পলিমার নোট তৈরির দিকে এগোতে পারে RBI।
বিশ্বের ৫০টিরও বেশি দেশে ইতিমধ্যেই পলিমার নোট ব্যবহৃত হচ্ছে। এবার সেই প্রযুক্তি ভারতের বাজারে কতটা কার্যকর হয়, তা দেখার অপেক্ষা। সফল হলে পকেটে ভাঁজ হয়ে যাওয়া, জলে ভিজে নষ্ট হওয়া কিংবা দ্রুত ছিঁড়ে যাওয়া নোটের সমস্যা অনেকটাই কমতে পারে। একই সঙ্গে নোটের আয়ু বাড়িয়ে দীর্ঘমেয়াদে মুদ্রা ব্যবস্থাপনার খরচ কমানোর সম্ভাবনাও তৈরি হবে।

