RBI-এর রেপো রেট ৫.২৫%-এই অপরিবর্তিত
মূল্যস্ফীতির ঝুঁকি ও বিশ্ব অর্থনীতির অনিশ্চয়তার মধ্যে সতর্ক অবস্থানে কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক
মূল্যস্ফীতির ঝুঁকি, অপরিশোধিত তেলের দামের অস্থিরতা এবং আন্তর্জাতিক ভূরাজনৈতিক অনিশ্চয়তার মধ্যে সুদের হার অপরিবর্তিত রাখল ভারতের রিজার্ভ ব্যাঙ্ক (RBI)। আগস্টের মুদ্রানীতি কমিটির (MPC) বৈঠকে রেপো রেট ৫.২৫ শতাংশে রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বৈঠকটি ৩ থেকে ৫ আগস্ট অনুষ্ঠিত হয় এবং ৫ আগস্ট সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা হয়। MPC-র সব সদস্যই রেট অপরিবর্তিত রাখার পক্ষে ভোট দেন।
রেপো রেট হল সেই সুদের হার, যে হারে বাণিজ্যিক ব্যাঙ্কগুলি স্বল্পমেয়াদে RBI-এর কাছ থেকে অর্থ ধার করে। ফলে এই হার অপরিবর্তিত থাকায় ঋণের সুদে তাৎক্ষণিক বড় পরিবর্তনের সম্ভাবনা কম। গৃহঋণ, গাড়ির ঋণ, ব্যক্তিগত ঋণ থেকে শুরু করে ব্যবসায়িক ঋণের ক্ষেত্রেও আপাতত স্থিতিশীলতা বজায় থাকতে পারে।
RBI-এর এই সিদ্ধান্তের অন্যতম কারণ মূল্যস্ফীতি নিয়ে সতর্কতা। আগস্টের নীতিগত সিদ্ধান্তে FY27-এ গড় খুচরো মূল্যস্ফীতির পূর্বাভাস ৫ শতাংশে নামানো হয়েছে। একই সঙ্গে মূল মূল্যস্ফীতির (core inflation) পূর্বাভাস ৪.৩ শতাংশ রাখা হয়েছে বলে বিভিন্ন রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে খাদ্যদ্রব্যের দাম, জ্বালানি এবং আন্তর্জাতিক পণ্যমূল্যের ওঠানামা নিয়ে ঝুঁকি এখনও রয়েছে।
অন্যদিকে অর্থনৈতিক বৃদ্ধির ক্ষেত্রে RBI তুলনামূলকভাবে আশাবাদী। FY27-এ ভারতের প্রকৃত GDP বৃদ্ধির পূর্বাভাস ৬.৭ শতাংশে উন্নীত করা হয়েছে। অর্থনীতির অভ্যন্তরীণ চাহিদা এবং সামগ্রিক স্থিতিস্থাপকতা এই আশাবাদের অন্যতম কারণ।
তবে আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি RBI-এর সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে রয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা এবং অপরিশোধিত তেলের দামের ওঠানামা ভারতের মতো তেল আমদানিনির্ভর অর্থনীতিতে সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে। তেলের দাম দীর্ঘ সময় বেশি থাকলে পরিবহণ, উৎপাদন ও বিভিন্ন পণ্যের খরচ বাড়তে পারে। এর প্রভাব মূল্যস্ফীতিতেও পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। সাম্প্রতিক বাজার বিশ্লেষণেও উচ্চ অপরিশোধিত তেলের দাম ও ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতিকে ভারতের অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ ঝুঁকি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে দ্রুত সুদের হার বাড়ালে মূল্যস্ফীতির চাপ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করতে পারে, কিন্তু ঋণের খরচ বেড়ে গিয়ে বিনিয়োগ ও ভোগের উপর চাপ তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আবার দ্রুত হার কমালে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে গতি এলেও মূল্যস্ফীতির ঝুঁকি বাড়তে পারে। ফলে আপাতত RBI-এর অবস্থানকে তথ্যনির্ভর এবং সতর্ক ‘wait and watch’ নীতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
আগামী দিনে তেলের দাম, খাদ্য মূল্যস্ফীতি, বর্ষার পরিস্থিতি এবং রুপির গতিবিধি RBI-এর পরবর্তী সিদ্ধান্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে। Reuters-এর সাম্প্রতিক বিশ্লেষণেও তেলের দাম ও মূল্যস্ফীতিকে ভবিষ্যৎ সুদের হারের অন্যতম প্রধান নির্ধারক হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।
সাধারণ মানুষের জন্য আপাতত সবচেয়ে বড় বার্তা হল, ঋণের সুদের হারে হঠাৎ বড় পরিবর্তনের সম্ভাবনা কম। তবে আন্তর্জাতিক বাজারে বড় ধরনের পরিবর্তন হলে RBI ভবিষ্যতে তার নীতিগত অবস্থান বদলাতে পারে।
সব মিলিয়ে, ৫.২৫ শতাংশে রেপো রেট অপরিবর্তিত রেখে RBI আপাতত স্থিতিশীলতার বার্তাই দিয়েছে। মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং একই সঙ্গে অর্থনৈতিক বৃদ্ধির গতি বজায় রাখার মধ্যে ভারসাম্য রাখাই আগামী দিনে কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কের সবচেয়ে বড় পরীক্ষা হতে চলেছে।

