কলকাতা-হাওড়ায় বাড়ছে পুরসভার ওয়ার্ড, আজ বিধানসভায় সংশোধনী বিল
কলকাতায় ১৪৪ থেকে ২০৯, হাওড়ায় ৫০ থেকে ৬৮ ওয়ার্ড করার প্রস্তাব, পুরভোটের আগে প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস ঘিরে রাজনৈতিক চাপানউতোর
নিউজ ইন্ডিয়া ডেস্ক: কলকাতা ও হাওড়ার পুর প্রশাসনে বড় ধরনের পরিবর্তনের পথে রাজ্য সরকার। আজ, বুধবার ১২ আগস্ট পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার বিশেষ অধিবেশনে কলকাতা ও হাওড়া পুরসভার ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাস সংক্রান্ত দুটি সংশোধনী বিল পেশ করার কথা। প্রস্তাবিত Kolkata Municipal Corporation (Amendment) Bill, 2026 এবং Howrah Municipal Corporation (Amendment) Bill, 2026-এর মাধ্যমে কলকাতা পুরসভার নির্বাচিত কাউন্সিলরের সংখ্যা ১৪৪ থেকে বাড়িয়ে ২০৯ এবং হাওড়া পুরসভার ক্ষেত্রে ৫০ থেকে ৬৮ করার প্রস্তাব রয়েছে। বিল দুটির উপর আলোচনা এবং পরবর্তী বিধানিক প্রক্রিয়ার দিকেই এখন নজর রাজনৈতিক মহলের।
কলকাতার ক্ষেত্রে প্রস্তাব কার্যকর হলে মোট ৬৫টি নতুন ওয়ার্ড যুক্ত হবে। এর ফলে শহরের পুর প্রশাসনের বর্তমান মানচিত্রে বড় পরিবর্তন আসতে পারে। ওয়ার্ডের সীমানা পুনর্নির্ধারণের পাশাপাশি বেশ কিছু এলাকার পুরনো ওয়ার্ড নম্বর ও ভৌগোলিক বিন্যাসও বদলে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ইতিমধ্যেই ২০৯টি প্রস্তাবিত ওয়ার্ডের তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে।
এই পুনর্বিন্যাসের অন্যতম আলোচিত এলাকা কসবা। প্রস্তাবিত কাঠামোয় সেখানে ওয়ার্ডের সংখ্যা ৬ থেকে বেড়ে ১৭ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। অর্থাৎ একাধিক নতুন ওয়ার্ড তৈরি হওয়ার পাশাপাশি স্থানীয় নাগরিক প্রতিনিধিত্বের কাঠামোও বদলাতে পারে।
রাজ্য সরকারের যুক্তি, জনসংখ্যার বিন্যাস ও প্রশাসনিক প্রয়োজনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাস জরুরি। কলকাতার বিভিন্ন ওয়ার্ডে ভোটারের সংখ্যার মধ্যে বর্তমানে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য রয়েছে। নতুন কাঠামোয় সেই ভারসাম্য আরও উন্নত করার লক্ষ্য রয়েছে বলে প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে।
অন্যদিকে, এই সিদ্ধান্তের রাজনৈতিক গুরুত্বও যথেষ্ট। পুরভোটের আগে এত বড় আকারের সীমানা পুনর্বিন্যাসকে ঘিরে স্বাভাবিকভাবেই শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতোর। বিরোধীদের একাংশের প্রশ্ন, প্রশাসনিক প্রয়োজনের কথা বলা হলেও এত বড় পরিবর্তনের আগে সংশ্লিষ্ট এলাকার মানুষের মতামত এবং রাজনৈতিক দলগুলির সঙ্গে পর্যাপ্ত আলোচনা হয়েছে কি না। সরকার অবশ্য জনসংখ্যা ও প্রশাসনিক ভারসাম্যের যুক্তিকেই সামনে রাখছে।
তবে ওয়ার্ডের সংখ্যা বাড়ানোর প্রস্তাব পেশ হলেই সঙ্গে সঙ্গে পুরভোটের নতুন কাঠামো কার্যকর হয়ে যাচ্ছে না। প্রথমে বিধানসভায় বিলের অনুমোদন, এরপর প্রয়োজনীয় সরকারি বিজ্ঞপ্তি এবং চূড়ান্ত সীমানা নির্ধারণের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে হবে। তারপরই নতুন ওয়ার্ড কাঠামোয় পুরনির্বাচনের পরবর্তী পদক্ষেপ স্পষ্ট হবে।
সব মিলিয়ে, কলকাতায় ১৪৪ থেকে ২০৯ এবং হাওড়ায় ৫০ থেকে ৬৮ ওয়ার্ড করার প্রস্তাব দুই শহরের নাগরিক প্রশাসনে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। আজকের বিধানসভা অধিবেশনের সিদ্ধান্তের পর নতুন ওয়ার্ডের সীমানা, প্রশাসনিক বিন্যাস এবং পুরভোটের সম্ভাব্য সময়সূচি নিয়ে পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে নজর থাকবে রাজনৈতিক মহল থেকে সাধারণ নাগরিক, সকলেরই।

