নারী ক্ষমতায়ন নিয়ে রাহুলকে পাল্টা স্মৃতি ইরানি, ৩৩% মহিলা সংরক্ষণ কার্যকরের দাবি
‘নারী ক্ষমতায়ন’-এর বক্তব্যের পরই রাহুলকে বার্তা স্মৃতি ইরানির, সামনে এল ৩৩% সংরক্ষণের প্রশ্ন
স্বাধীনতা দিবসের পরদিনই নারী ক্ষমতায়ন ইস্যুতে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীকে নিশানা করলেন বিজেপির জাতীয় সাধারণ সম্পাদক স্মৃতি ইরানি। রবিবার, ২৩ আগস্ট, রাহুল গান্ধীর সাম্প্রতিক বক্তব্যের প্রসঙ্গ তুলে তাঁর কাছে সংসদ ও বিধানসভায় মহিলাদের জন্য ৩৩ শতাংশ সংরক্ষণ কার্যকর করার বিষয়ে স্পষ্ট অবস্থান নেওয়ার আবেদন জানান ইরানি। একই সঙ্গে কংগ্রেস সদর দফতরে ‘বন্দে মাতরম’-এর পূর্ণাঙ্গ সংস্করণ গাওয়ার পক্ষেও অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
বিতর্কের সূত্রপাত রাহুল গান্ধীর শনিবারের ‘ছাত্রদের গুঞ্জন’ (Chhatron Ki Goonj) কর্মসূচি থেকে। পুণেতে মহিলা শিক্ষার্থীদের নিয়ে আয়োজিত ওই অনুষ্ঠানে লোকসভায় বিরোধী দলনেতা নারী স্বাধীনতা, সামাজিক নিয়ন্ত্রণ এবং পিতৃতান্ত্রিক মানসিকতার বিরুদ্ধে সরব হন। রাহুল বলেন, মহিলারা নিজেদের কাছে নিজেরাই দায়বদ্ধ এবং তাঁদের পরিচয় বাবার, স্বামীর বা ছেলের সঙ্গে নির্ধারিত হওয়া উচিত নয়। তিনি নারীদের ভারতের অন্যতম বড় শক্তি হিসেবেও তুলে ধরেন।
রাহুলের বক্তব্যে ‘মনুস্মৃতি’ এবং তার সঙ্গে যুক্ত পিতৃতান্ত্রিক সামাজিক ধারণার সমালোচনাও উঠে আসে। তাঁর অভিযোগ, এই ধরনের মানসিকতা মহিলাদের জীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে পুরুষের কর্তৃত্বের অধীনে রাখার ধারণাকে উৎসাহিত করে। মহিলাদের নিজেদের সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার এবং সামাজিক স্বাধীনতার পক্ষে বক্তব্য রাখেন তিনি।
এই বক্তব্যের পরেই পাল্টা রাজনৈতিক আক্রমণ শুরু করে বিজেপি। স্মৃতি ইরানির বক্তব্যের মূল প্রশ্ন, রাহুল গান্ধী যদি সত্যিই নারী ক্ষমতায়নের পক্ষে থাকেন, তাহলে ৩৩ শতাংশ মহিলা সংরক্ষণ বাস্তবায়নের ক্ষেত্রেও তাঁর অবস্থান স্পষ্ট হওয়া উচিত। তিনি ‘নরী শক্তি বন্দন অধিনিয়ম’ (Nari Shakti Vandan Adhiniyam)-এর বাস্তবায়নে সমর্থনের আহ্বান জানান।
২০২৩ সালে সংসদে পাস হওয়া সাংবিধানিক সংশোধনীর মাধ্যমে লোকসভা ও রাজ্য বিধানসভায় মহিলাদের জন্য এক-তৃতীয়াংশ আসন সংরক্ষণের বিধান করা হয়। তবে এর বাস্তবায়ন Census এবং পরবর্তী Delimitation প্রক্রিয়ার সঙ্গে সাংবিধানিকভাবে যুক্ত। ফলে আইন পাস হলেও সংরক্ষণ কবে কার্যকর হবে, তা নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক এখনও রয়েছে।
নারী সংরক্ষণের পাশাপাশি ‘বন্দে মাতরম’ নিয়েও রাহুল গান্ধীকে বার্তা দেন ইরানি। তাঁর বক্তব্য, কংগ্রেস সদর দফতরে জাতীয়তাবাদী এই গানের পূর্ণাঙ্গ সংস্করণ গাওয়ার ব্যবস্থা করা উচিত। বিশেষ করে গানের যে অংশে দেবী দুর্গার বন্দনা রয়েছে, সেটিরও উল্লেখ করেন তিনি। এই প্রসঙ্গকে নারীশক্তির সঙ্গে যুক্ত করেই রাহুলের কাছে বার্তা দেন বিজেপি নেত্রী।
ফলে একই ইস্যুকে ঘিরে দুই দলের রাজনৈতিক অবস্থান স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। রাহুল গান্ধী যেখানে নারীর স্বাধীনতা, সামাজিক নিয়ন্ত্রণ এবং পিতৃতন্ত্রের বিরুদ্ধে বক্তব্য রাখছেন, বিজেপি সেখানে মহিলা সংরক্ষণ কার্যকর করার প্রশ্ন সামনে আনছে। একই সঙ্গে ‘বন্দে মাতরম’ নিয়েও কংগ্রেসের অবস্থানকে রাজনৈতিক বিতর্কের অংশ করা হচ্ছে।
এই সংঘাত আগামী দিনে আরও তীব্র হতে পারে। কারণ নারী প্রতিনিধিত্ব, মহিলা ভোটার এবং জাতীয়তাবাদ—তিনটি বিষয়ই দেশের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ। তবে রাহুল গান্ধী বা কংগ্রেসের মহিলা সংরক্ষণ নিয়ে নির্দিষ্ট অবস্থান কী, তা আলাদা রাজনৈতিক প্রশ্ন; স্মৃতি ইরানির বক্তব্যকে সেই অবস্থানের চূড়ান্ত প্রমাণ হিসেবে উপস্থাপন করা যাবে না। আপাতত দুই দলের পাল্টাপাল্টি বক্তব্যেই রাজনৈতিক বিতর্কের তাপ বাড়ছে।

