ভারতের ক্রীড়ায় নতুন ভাবনা, নীরজ চোপড়া ও পুল্লেলা গোপীচাঁদের হাত ধরে কোচ তৈরির বিশেষ উদ্যোগ

NEWS INDIA বাংলা
0

 

নীরজ চোপড়া ও পুল্লেলা গোপীচাঁদের নতুন উদ্যোগ

ভারতীয় ক্রীড়ায় কোচিংয়ের মান বদলাতে ‘Indian School of Coaching Excellence’

নীরজ চোপড়া ও পুল্লেলা গোপীচাঁদের Indian School of Coaching Excellence উদ্যোগ


ভারতের ক্রীড়াক্ষেত্রে অ্যাথলিট তৈরির পাশাপাশি এবার কোচ তৈরির উপরেও জোর দেওয়ার উদ্যোগ নিলেন অলিম্পিক ও বিশ্বচ্যাম্পিয়ন জ্যাভলিন তারকা নীরজ চোপড়া এবং দেশের অন্যতম সফল ব্যাডমিন্টন কোচ পুল্লেলা গোপীচাঁদ। তাঁদের উদ্যোগে চালু হল Indian School of Coaching Excellence (ISCE)। ১৩ আগস্ট কলকাতায় এই নতুন উদ্যোগের ঘোষণা করা হয়। নীরজ চোপড়া ফাউন্ডেশন, পুল্লেলা গোপীচাঁদের Badminton Gurukul এবং AISTS India-র যৌথ উদ্যোগে তৈরি এই প্রতিষ্ঠানটির মূল লক্ষ্য, ভারতে বিশ্বমানের কোচ তৈরির জন্য একটি শক্তিশালী ও দীর্ঘমেয়াদি প্রশিক্ষণ ব্যবস্থা গড়ে তোলা।

ভারতের আন্তর্জাতিক ক্রীড়া সাফল্যের পিছনে কোচদের ভূমিকা যে কতটা গুরুত্বপূর্ণ, নীরজ চোপড়ার নিজের কেরিয়ারই তার বড় উদাহরণ। এবার সেই অভিজ্ঞতাকে বৃহত্তর ক্রীড়া ব্যবস্থার কাজে লাগাতে চাইছেন তিনি। এই উদ্যোগের ভাবনায় রয়েছে, একজন অ্যাথলিটের উন্নতির পাশাপাশি তাঁর কোচেরও নিয়মিত শেখা, নতুন জ্ঞান অর্জন এবং আধুনিক ক্রীড়াবিজ্ঞানের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলা জরুরি।

ISCE-র প্রশিক্ষণ শুধুমাত্র কোনও নির্দিষ্ট খেলার প্রযুক্তিগত দিকের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। Physical literacy, sports science, sports education, technology এবং career development-এর মতো বিষয়ও কোচিং শিক্ষার অংশ হবে। অর্থাৎ মাঠের কৌশল জানার পাশাপাশি একজন কোচকে অ্যাথলিটের শারীরিক সক্ষমতা, বিজ্ঞানভিত্তিক প্রশিক্ষণ, প্রযুক্তির ব্যবহার এবং দীর্ঘমেয়াদি কেরিয়ার পরিকল্পনা সম্পর্কেও দক্ষ করে তোলার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।

এই উদ্যোগের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হল multidisciplinary approach। কোনও একটি খেলার মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে বিভিন্ন ক্রীড়াক্ষেত্রের কোচদের জন্য জ্ঞান, প্রশিক্ষণ এবং অভিজ্ঞতা বিনিময়ের সুযোগ তৈরি করতে চায় ISCE। এর ফলে অ্যাথলেটিক্স, ব্যাডমিন্টন, হকি, ক্রিকেট-সহ বিভিন্ন খেলায় ব্যবহৃত প্রশিক্ষণ পদ্ধতি ও ক্রীড়াবিজ্ঞানের অভিজ্ঞতা বৃহত্তর পরিসরে কাজে লাগতে পারে।

পুল্লেলা গোপীচাঁদের দীর্ঘ কোচিং অভিজ্ঞতা এই উদ্যোগকে আরও তাৎপর্যপূর্ণ করে তুলেছে। ভারতীয় ব্যাডমিন্টনে তাঁর প্রশিক্ষণ ব্যবস্থার মাধ্যমে একাধিক আন্তর্জাতিক মানের খেলোয়াড় উঠে এসেছেন। অন্যদিকে নীরজ চোপড়ার আন্তর্জাতিক অ্যাথলেটিক্স অভিজ্ঞতা এই উদ্যোগে যোগ করছে একজন বিশ্বমানের অ্যাথলিটের দৃষ্টিভঙ্গি। দুই ক্ষেত্রের অভিজ্ঞতা একত্রিত করে ভারতের কোচিং ব্যবস্থাকে আরও পেশাদার করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।

ISCE সরকারি সংস্থা, Sports Authority of India বা SAI, বিভিন্ন ক্রীড়া ফেডারেশন ও অ্যাসোসিয়েশন, high-performance centre, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং বেসরকারি ক্ষেত্রের সঙ্গে সহযোগিতায় কাজ করার পরিকল্পনা করেছে। অর্থাৎ শুধু প্রশিক্ষণ দেওয়া নয়, দেশের সামগ্রিক sports ecosystem-কে শক্তিশালী করার জন্য একটি সহযোগিতামূলক প্ল্যাটফর্ম গড়ে তোলাই এই উদ্যোগের বড় লক্ষ্য।

ভারতের ক্রীড়াক্ষেত্রে প্রতিভার অভাব নেই। কিন্তু প্রতিভাবান খেলোয়াড়কে আন্তর্জাতিক মানের চ্যাম্পিয়নে পরিণত করতে দক্ষ কোচিং, sports science, চোট ব্যবস্থাপনা, মানসিক প্রস্তুতি এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সেই কারণেই কোচদের মান ও সংখ্যা বাড়ানো ভবিষ্যতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিনিয়োগ হতে পারে।

নীরজ চোপড়া মনে করেন, একজন অ্যাথলিটের যাত্রাপথে কোচ শুধু প্রশিক্ষক নন, তাঁর পথপ্রদর্শকও। একজন ক্রীড়াবিদের মানুষ হিসেবে বিকাশেও কোচের ভূমিকা থাকে। আর গোপীচাঁদের বক্তব্যেও উঠে এসেছে শক্তিশালী কোচিং ইকোসিস্টেম তৈরির প্রয়োজনীয়তা।

সব মিলিয়ে, Indian School of Coaching Excellence-এর লক্ষ্য শুধু কয়েকজন দক্ষ কোচ তৈরি করা নয়। দীর্ঘমেয়াদে এমন একটি পরিবেশ তৈরি করা, যেখানে কোচরা নিয়মিত শিখবেন, নিজেদের প্রশিক্ষণ পদ্ধতি উন্নত করবেন এবং পরবর্তী প্রজন্মের ভারতীয় অ্যাথলিটদের আন্তর্জাতিক মঞ্চে সফল হওয়ার জন্য আরও ভালোভাবে প্রস্তুত করতে পারবেন।

ভারত যদি বিশ্ব ক্রীড়াক্ষেত্রে আরও বড় শক্তি হিসেবে উঠে আসতে চায়, তাহলে চ্যাম্পিয়ন তৈরির পাশাপাশি সেই চ্যাম্পিয়নদের তৈরি করা কোচদেরও বিশ্বমানের করে তোলা জরুরি। নীরজ চোপড়া ও পুল্লেলা গোপীচাঁদের এই উদ্যোগ সেই লক্ষ্যেই একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হতে পারে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন (0)

#buttons=(Ok, Go it!) #days=(20)

Our website uses cookies to enhance your experience. Check Now
Ok, Go it!