তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র-র আবেদনে সুরাহা দিল না সুপ্রিম কোর্ট। ‘হেট স্পিচ’ (Hate Speech) মামলায় পুলিশের তদন্তে সশরীরে হাজির হওয়ার কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে শীর্ষ আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন কৃষ্ণনগরের সাংসদ। শুক্রবার, ৭ অগস্ট, বিচারপতি দীপঙ্কর দত্ত ও বিচারপতি শীল নাগুর বেঞ্চ সেই আবেদন গ্রহণ করেনি।
শুনানির সময় মহুয়ার আইনজীবীর তরফে তাঁর বিরুদ্ধে অতীতে ডিম ছোড়ার ঘটনার প্রসঙ্গ তুলে নিরাপত্তাজনিত আশঙ্কার কথা জানানো হয়। সেই প্রসঙ্গেই বিচারপতি দীপঙ্কর দত্ত প্রশ্ন করেন, রাজনীতিতে এসে ডিমকে ভয় পাওয়ার কারণ কী। স্বাধীনতা সংগ্রামীদের গুলি সহ্য করার প্রসঙ্গও আদালতে উঠে আসে। এরপর মহুয়ার আইনজীবী আবেদনটি প্রত্যাহার করে নেন।
কী নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে গিয়েছিলেন মহুয়া?
নদিয়ার হোগলবেড়িয়া থানায় নথিভুক্ত একটি মামলার তদন্তে মহুয়া মৈত্রকে হাজির হওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল পুলিশ। কলকাতা হাইকোর্টও তাঁকে তদন্তে সহযোগিতা করতে এবং তদন্তকারী আধিকারিকের সামনে হাজির হয়ে জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি হতে বলেছিল। মহুয়ার পক্ষ থেকে শারীরিকভাবে থানায় হাজির হওয়ার পরিবর্তে ভার্চুয়ালি জিজ্ঞাসাবাদে অংশ নেওয়ার অনুমতি চাওয়া হয়েছিল।
ডিম ছোড়ার প্রসঙ্গ কেন উঠল?
মহুয়ার আইনজীবী আদালতে জানান, অতীতে রাজনৈতিক কর্মসূচিতে তাঁর দিকে ডিম ছোড়ার ঘটনা ঘটেছিল। জুলাই মাসে নদিয়ায় এমন একটি ঘটনার অভিযোগও সামনে এসেছিল। মহুয়া সেই ঘটনায় বিজেপি কর্মীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছিলেন, যদিও বিজেপির পক্ষ থেকে অভিযোগ অস্বীকার করে পাল্টা তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের দাবি করা হয়েছিল।
কলকাতা হাইকোর্ট কী নির্দেশ দিয়েছিল?
২১ জুলাই কলকাতা হাইকোর্ট মহুয়া মৈত্রকে হেট স্পিচ মামলায় অন্তর্বর্তী সুরক্ষা দিয়েছিল। আদালত নির্দেশ দেয়, তদন্তে সহযোগিতা করতে হবে এবং ১৪ অগস্ট তদন্তকারী আধিকারিকের সামনে হাজির হয়ে জিজ্ঞাসাবাদে অংশ নিতে হবে। একইসঙ্গে নির্দিষ্ট শর্ত মেনে চললে ৫ অক্টোবর পর্যন্ত, অথবা পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত, তাঁর বিরুদ্ধে কোনও জবরদস্তিমূলক পদক্ষেপ না নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।
এখন কী হবে?
সুপ্রিম কোর্টে ভার্চুয়াল হাজিরার আবেদন প্রত্যাহার হয়ে যাওয়ায় আপাতত কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশই কার্যকর থাকছে। অর্থাৎ, মহুয়া মৈত্রকে তদন্তে সহযোগিতা করতে হবে এবং নির্ধারিত সময়ে তদন্তকারী আধিকারিকের সামনে হাজির হতে হবে।
তবে এই শুনানিতে তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা ‘হেট স্পিচ’ অভিযোগ সত্যি না মিথ্যা, সেই বিষয়ে সুপ্রিম কোর্ট কোনও সিদ্ধান্ত দেয়নি। শুক্রবারের শুনানির মূল বিষয় ছিল তদন্তে তাঁর হাজিরার পদ্ধতি।

