সার্কিট হাউস বিতর্কে সুপ্রিম কোর্টে মহুয়া মৈত্র, জরুরি শুনানির আবেদনেও মেলেনি স্বস্তি
রাতে সার্কিট হাউস ছাড়ার নির্দেশ, এবার সুপ্রিম কোর্টে মহুয়া মৈত্র—জরুরি শুনানি হল না
নদিয়ার কৃষ্ণনগর সার্কিট হাউস থেকে রাতে ঘর ছাড়ার নির্দেশ ঘিরে তৈরি হওয়া বিতর্ক এবার সুপ্রিম কোর্টে পৌঁছল। তৃণমূল কংগ্রেসের কৃষ্ণনগরের সাংসদ মহুয়া মৈত্র ২৪ আগস্ট শীর্ষ আদালতের দ্বারস্থ হয়ে ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানান। তবে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ এই পর্যায়ে তাঁর মামলাটি জরুরি ভিত্তিতে তালিকাভুক্ত করতে রাজি হয়নি। ফলে সার্কিট হাউসের ঘটনাকে কেন্দ্র করে তৈরি আইনি ও রাজনৈতিক বিতর্ক আপাতত জিইয়ে রইল।
ঘটনার সূত্রপাত ১৪ আগস্ট রাতে। মহুয়া মৈত্রর দাবি, সংসদের অধিবেশন শেষে নিজের লোকসভা কেন্দ্র কৃষ্ণনগরে ফিরে তিনি নদিয়া সার্কিট হাউসে ওঠেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, তাঁকে একটি ঘর বরাদ্দ করা হয়েছিল এবং সেখানে পৌঁছে চা ও রাতের খাবারও পরিবেশন করা হয়। কিন্তু রাত সাড়ে ৯টা থেকে পৌনে ১০টার মধ্যে জেলা প্রশাসনের তরফে তাঁকে ঘরটি ছেড়ে দিতে বলা হয়। কারণ জানতে চাইলে ‘উপরমহলের নির্দেশ’-এর কথা জানানো হয় বলে তাঁর অভিযোগ।
মহুয়ার দাবি, পরে তাঁকে জানানো হয়েছিল যে রক্ষণাবেক্ষণ ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজের জন্য ১৪ আগস্ট সন্ধ্যা থেকে সার্কিট হাউস বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে তাঁর প্রশ্ন, যদি এমন নির্দেশ আগেই কার্যকর হয়ে থাকে, তাহলে বুকিংয়ের সময় বা ঘরে ওঠার পর তাঁকে তা জানানো হল না কেন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েই মূলত প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।
শুধু প্রশাসনের নির্দেশ নয়, সার্কিট হাউসের বাইরে জমায়েত নিয়েও অভিযোগ করেছেন তৃণমূল সাংসদ। তাঁর দাবি, তাঁকে ঘর ছাড়ার জন্য চাপ দেওয়ার সময় বাইরে বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের একটি দল জড়ো হয়েছিল এবং তাঁর বিরুদ্ধে স্লোগান দেওয়া হয়। প্রশাসন সেই জমায়েতের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়নি বলেও অভিযোগ করেন তিনি। তবে এই অভিযোগগুলির প্রতিটি দিক স্বাধীনভাবে যাচাই করা এখনও বাকি।
এর আগে এই ঘটনায় লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার হস্তক্ষেপও চেয়েছিলেন মহুয়া। নদিয়ার কয়েকজন প্রশাসনিক আধিকারিকের আচরণ তাঁর সংসদীয় অধিকার ও মর্যাদার সঙ্গে যুক্ত বলে দাবি করে privilege-এর বিষয়ও তোলা হয়েছে বলে প্রতিবেদন রয়েছে।
এরপর সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করেন তিনি। তাঁর আইনজীবী প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি ভি মোহনার বেঞ্চের সামনে বিষয়টি তুলে ধরে দ্রুত শুনানির আবেদন জানান। আইনজীবীর বক্তব্য ছিল, একজন নির্বাচিত সাংসদকে রাতের বেলা তাঁর নির্বাচনী এলাকার সরকারি আবাসন থেকে সরানোর অভিযোগ গুরুতর এবং বিষয়টির সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামো ও স্বাধীন তদন্তের প্রশ্ন জড়িত।
তবে আদালত সেই মুহূর্তে মামলাটিকে জরুরি ভিত্তিতে শুনতে রাজি হয়নি। অর্থাৎ, শীর্ষ আদালত এই পর্যায়ে মহুয়ার অভিযোগের সত্যতা বা প্রশাসনের সিদ্ধান্ত আইনসঙ্গত কি না, সে বিষয়ে কোনও চূড়ান্ত রায় দেয়নি। বরং জরুরি তালিকাভুক্তির আবেদন গ্রহণ না করার মধ্যেই ২৪ আগস্টের শুনানি শেষ হয়।
ফলে এখন নজর থাকবে মামলাটি পরবর্তী পর্যায়ে আদালতের সামনে কীভাবে এগোয়, পাশাপাশি জেলা প্রশাসনের বক্তব্য, সার্কিট হাউসের বুকিং সংক্রান্ত নথি এবং ১৪ আগস্ট রাতের ঘটনায় থাকা অন্যান্য তথ্য প্রকাশ্যে আসে কি না, তার দিকে। রাজনৈতিক চাপানউতোরের বাইরে এই নথি ও প্রমাণই শেষ পর্যন্ত বিতর্কটির প্রকৃত আইনি ভিত্তি স্পষ্ট করতে পারে।

