বিমানবন্দরের কাছে গাড়ির শোরুমে ভয়াবহ আগুন, পুড়ে ছাই বহু গাড়ি! মধ্যমগ্রামে চাঞ্চল্য
ভোররাতে হঠাৎ আগুন, মুহূর্তে ছড়িয়ে পড়ল শোরুমজুড়ে—মধ্যমগ্রামে পুড়ল একাধিক গাড়ি
কলকাতা বিমানবন্দরের কাছে ভোররাতে গাড়ির শোরুম ও সার্ভিস সেন্টারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডকে ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। সোমবার, ২৪ আগস্ট ভোরে উত্তর ২৪ পরগনার মধ্যমগ্রাম এলাকার যশোর রোডের কাছে একটি গাড়ির শোরুমে আচমকাই আগুন লাগে। মুহূর্তের মধ্যে আগুন শোরুমের ভিতরে থাকা একাধিক গাড়িতে ছড়িয়ে পড়ে। আগুনের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে শোরুমের একটি বড় অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে। তবে এখনও পর্যন্ত কোনও প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ভোররাতের দিকে শোরুমের দিক থেকে আগুনের লেলিহান শিখা এবং ঘন কালো ধোঁয়া দেখতে পান এলাকার বাসিন্দারা। দ্রুত খবর দেওয়া হয় দমকল বিভাগে। পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে একাধিক দমকলের ইঞ্জিন ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার কাজ শুরু করে। আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় দমকলকর্মীদের বেশ কিছুটা সময় ধরে লড়াই করতে হয়। প্রায় দুই থেকে তিন ঘণ্টার চেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে বলে বিভিন্ন রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে।
আগুন নিয়ন্ত্রণে আসার পরও দমকলের পক্ষ থেকে শোরুমের ভিতরে কুলিং ডাউন (Cooling Down) প্রক্রিয়া চালানো হয়। আগুন পুরোপুরি নিভে যাওয়ার পরও কোথাও গরম অংশ, আগুনের আঁচ বা ধিকিধিকি জ্বলন থেকে ফের আগুন ছড়ানোর সম্ভাবনা রয়েছে কি না, তা পরীক্ষা করা হয়। বিপুল সংখ্যক গাড়ি একসঙ্গে থাকায় আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার অন্যতম কারণ কী ছিল, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
অগ্নিকাণ্ডে গাড়ির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবর সামনে এসেছে। প্রাথমিক রিপোর্ট অনুযায়ী, প্রায় ৩০টি গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে ঠিক কতগুলি গাড়ি সম্পূর্ণ পুড়ে গিয়েছে এবং কতগুলি আংশিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তা নিয়ে বিভিন্ন প্রতিবেদনে কিছুটা পার্থক্য রয়েছে। একটি রিপোর্টে ২২টি নতুন গাড়ি সম্পূর্ণ পুড়ে যাওয়ার পাশাপাশি আরও আটটি গাড়ি গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কথা বলা হয়েছে। অন্যদিকে, কিছু প্রতিবেদনে প্রায় ৩০টি গাড়ি পুড়ে যাওয়ার উল্লেখ রয়েছে। ফলে চূড়ান্ত ক্ষয়ক্ষতির হিসাব তদন্ত এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পরিদর্শনের পরই নিশ্চিত হবে।
অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ এখনও স্পষ্ট নয়। বৈদ্যুতিক গোলযোগ বা শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি শোরুমের বৈদ্যুতিক পরিকাঠামো, অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা এবং নিরাপত্তা বিধি মেনে চলা হয়েছিল কি না, সেগুলিও তদন্তের আওতায় আসতে পারে। আগুন লাগার সময় শোরুমের ভিতরে কোনও কর্মী বা অন্য কেউ ছিলেন কি না, সেই বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ।
ঘটনাস্থল কলকাতা বিমানবন্দরের তুলনামূলকভাবে কাছাকাছি হওয়ায় প্রথমে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়। তবে এখনও পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই অগ্নিকাণ্ডের কারণে কলকাতা বিমানবন্দরের বিমান ওঠানামায় কোনও উল্লেখযোগ্য ব্যাঘাত ঘটেনি।
এই ঘটনা শহর ও শহরতলির বড় বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে Fire Safety ব্যবস্থা নিয়ে ফের প্রশ্ন তুলেছে। বিশেষ করে একসঙ্গে বহু গাড়ি যেখানে রাখা হয়, সেখানে বৈদ্যুতিক নিরাপত্তা, অগ্নিনির্বাপণ সরঞ্জাম এবং জরুরি নির্গমন ব্যবস্থা কতটা কার্যকর, তা নিয়ে নজরদারি গুরুত্বপূর্ণ।
এখন তদন্তকারীদের মূল লক্ষ্য আগুনের উৎস এবং দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার কারণ নির্ধারণ করা। একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত গাড়ির সংখ্যা ও আর্থিক ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণও নির্ধারণ করা হবে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত অগ্নিকাণ্ডের কারণ নিয়ে কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছনো ঠিক হবে না।

