ইরান-আমেরিকা সংঘাতের মধ্যেই সমঝোতার বার্তা পেজেশকিয়ানের, ফের আলোচনার দরজা খোলার ইঙ্গিত
‘যুদ্ধও নয়, শান্তিও নয়’—অচলাবস্থা কাটাতে আমেরিকার সঙ্গে MoU-তেই ভরসা পেজেশকিয়ানের
ইরানের সরকারি সংবাদমাধ্যম IRNA-তে প্রকাশিত বক্তব্যে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে হওয়া Memorandum of Understanding (MoU)-কে দীর্ঘস্থায়ী অচলাবস্থা কাটানোর সবচেয়ে কার্যকর পথ হিসেবে তুলে ধরেছেন। তবে এর অর্থ নতুন কোনও চুক্তি স্বাক্ষর হয়ে যাওয়া নয়। বরং ইতিমধ্যে তৈরি হওয়া সমঝোতার কাঠামোকে ভিত্তি করে ফের আলোচনার পথ খোলার পক্ষে বার্তা দিয়েছেন তিনি।
পেজেশকিয়ানের বক্তব্যে বর্তমান পরিস্থিতিকে ‘যুদ্ধও নয়, শান্তিও নয়’—এমন এক অচল অবস্থার সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে। তাঁর দাবি, ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সদস্যরাও মনে করেন, মর্যাদা, বিচক্ষণতা এবং জাতীয় স্বার্থের ভিত্তিতে তৈরি MoU-ই এই পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসার সবচেয়ে উপযুক্ত পথ। তিনি আরও বলেছেন, ওই সমঝোতায় এমন কোনও শর্ত নেই, যা ইরানের আত্মসমর্পণ হিসেবে ব্যাখ্যা করা যায়।
জুনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে হওয়া এই MoU-তে ৬০ দিনের মধ্যে যুদ্ধের অবসান এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে বৃহত্তর সমঝোতায় পৌঁছনোর লক্ষ্য নির্ধারিত হয়েছিল। কিন্তু সেই সময়সীমা গত সপ্তাহে শেষ হয়ে গেলেও দুই দেশের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলিতে সমঝোতা হয়নি। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালী (Strait of Hormuz) পুনরায় খোলা এবং নিষেধাজ্ঞা ও অর্থনৈতিক চাপ কমানোর প্রশ্নে দুই পক্ষের অবস্থান এখনও অনেক দূরে।
এই অচলাবস্থার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত ইরানের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি। পেজেশকিয়ান সতর্ক করেছেন, অনিশ্চয়তা থাকলে দেশে বিনিয়োগ ও মূলধন আসা কঠিন। দীর্ঘ সংঘাত, মার্কিন নিষেধাজ্ঞা এবং সামুদ্রিক অবরোধ ইতিমধ্যেই ইরানের অর্থনীতিতে চাপ বাড়িয়েছে। বিশেষ করে তেল রফতানি এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের উপর চাপ দেশের অর্থনৈতিক ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে তুলছে।
তবে তেহরানের বার্তায় কূটনীতির পাশাপাশি কঠোর অবস্থানের ইঙ্গিতও রয়েছে। ইরানের নতুন শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তা মোহসেন রেজাই প্রতিবেশী দেশগুলিকে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করতে সহায়তা না করার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। অর্থাৎ, পেজেশকিয়ান আলোচনার দরজা খোলা রাখলেও ইরানের নিরাপত্তা কাঠামোর একটি অংশ এখনও চাপের বিরুদ্ধে পাল্টা অবস্থানের বার্তা দিচ্ছে।
এদিকে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের তেহরান সফরও কূটনৈতিক তৎপরতায় নতুন মাত্রা যোগ করছে। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তিনি সোমবার তেহরান সফর করবেন। আঞ্চলিক পরিস্থিতি এবং দুই দেশের সম্পর্কের পাশাপাশি এই সফরে মার্কিন-ইরান অচলাবস্থা কমানোর বিষয়ও গুরুত্ব পেতে পারে।
ফলে পেজেশকিয়ানের সর্বশেষ বক্তব্যকে আপাতত কূটনৈতিক দরজা খোলা রাখার স্পষ্ট সংকেত হিসেবে দেখা হচ্ছে। কিন্তু এটিকে নতুন শান্তিচুক্তি বা যুদ্ধ শেষ হওয়ার ঘোষণা বলা যাবে না। হরমুজ প্রণালী, নিষেধাজ্ঞা, সামরিক চাপ এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির মতো মূল প্রশ্নে সমাধান না হলে এই উদ্যোগ বাস্তবে কতটা এগোবে, সেটিই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।

