কলম্বো টেস্টে চাপে শ্রীলঙ্কা, প্রসিদ্ধ-সুতারদের দাপটে নিয়ন্ত্রণ ভারতের
৮ উইকেট হারিয়েও লড়াই শ্রীলঙ্কার, কলম্বো টেস্টে ফলো-অন এড়ানোর চেষ্টায় স্বাগতিকরা
কলম্বোয় ভারত-শ্রীলঙ্কা দ্বিতীয় টেস্টের তৃতীয় দিন শেষে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ এখনও ভারতের হাতেই। প্রথম ইনিংসে ৫০৩/৯ রানে ডিক্লেয়ার করার পর শ্রীলঙ্কাকে চাপে ফেলেছে ভারতের বোলিং আক্রমণ। দিনের শেষে ৮৩.৪ ওভারে ২৬৫/৮ রান করেছে স্বাগতিকরা। ফলে ভারতের থেকে এখনও ২৩৮ রানে পিছিয়ে শ্রীলঙ্কা। বৃষ্টিবিঘ্নিত ম্যাচে ভারত ফলো-অন করাতে পারবে কি না, এখন সেটিই অন্যতম বড় প্রশ্ন।
দিনের শুরুতে শ্রীলঙ্কা ৮/২ অবস্থায় ব্যাট করতে নামে। দ্রুত উইকেট হারানোর পর অবশ্য পাসিন্দু সূরিয়াবন্দরারা এবং কামিন্দু মেন্ডিসের ব্যাটে কিছুটা প্রতিরোধ গড়ে ওঠে। সূরিয়াবন্দরা দীর্ঘ সময় ভারতীয় বোলারদের সামলে রাখেন। শেষ পর্যন্ত তাঁর লড়াই থামে ৮০ রানে। রবীন্দ্র জাদেজার বলে তাঁর উইকেট ভারতকে গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য এনে দেয়। এরপর নীরোশন ডিকওয়েলাকেও মহম্মদ সিরাজ ফিরিয়ে দিলে শ্রীলঙ্কার ইনিংসে ফের চাপ তৈরি হয়।
ভারতের পেস আক্রমণে সবচেয়ে বেশি নজর কাড়েন প্রসিদ্ধ কৃষ্ণ। নতুন বলে এবং পরের স্পেলগুলিতেও নিয়ন্ত্রিত লাইন-লেংথে তিনি শ্রীলঙ্কার ব্যাটারদের সমস্যায় ফেলেন। দিনের বিভিন্ন পর্যায়ে তাঁর বোলিং থেকে গুরুত্বপূর্ণ উইকেট আসে। ভারতীয় আক্রমণে তাঁকে যথাযথভাবে সহায়তা করেন বাঁহাতি স্পিনার মনব সুতার এবং রবীন্দ্র জাদেজা। সুতারের সঠিক লেংথ শ্রীলঙ্কার ব্যাটারদের অস্বস্তিতে রাখে এবং অধিনায়ক ধনঞ্জয়া ডি সিলভাকেও তিনি ফিরিয়ে দেন।
তবে শ্রীলঙ্কার লোয়ার অর্ডার ভারতকে প্রত্যাশার চেয়ে বেশি সময় আটকে রাখে। বিশেষ করে সোনাল দিনুষা অসাধারণ ধৈর্য দেখিয়ে অপরাজিত ৮৫ রানে দিন শেষ করেন। তাঁর সঙ্গে লাহিরু কুমারাও ক্রিজে ছিলেন। এই জুটি শ্রীলঙ্কাকে আরও কিছুটা এগিয়ে নিয়ে যায় এবং ফলো-অন এড়ানোর সম্ভাবনাও তৈরি করে। দিনের শেষ পর্যন্ত ভারতের সামনে দ্রুত বাকি দুই উইকেট তুলে নেওয়ার চ্যালেঞ্জ রয়ে যায়।
ভারতের বড় স্কোরের ভিত তৈরি হয়েছিল দ্বিতীয় দিনেই। ধ্রুব জুরেলের অপরাজিত ১১৫ এবং ঋষভ পন্থের ৬৩ রানের আক্রমণাত্মক ইনিংস ভারতকে ৫০০ পেরিয়ে যেতে সাহায্য করে। দেবদত্ত পাডিক্কালও ১১৭ রান করে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন। জুরেলের শতরান ছিল তাঁর দ্বিতীয় টেস্ট সেঞ্চুরি এবং বিদেশের মাটিতে প্রথম। পন্থের সঙ্গে তাঁর ১১২ রানের জুটি ভারতের ইনিংসকে আরও শক্তিশালী করে। এরপর ভারত ৫০৩/৯ রানে ইনিংস ঘোষণা করে।
ম্যাচে বৃষ্টিও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। দ্বিতীয় দিনের মতো তৃতীয় দিনেও আবহাওয়ার কারণে খেলা কিছুটা প্রভাবিত হয়েছে। ফলে ভারতের বোলারদের হাতে শ্রীলঙ্কাকে দ্রুত অলআউট করার জন্য সময়ের চাপ রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে ফলো-অন করানো নাকি দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করে লিড আরও বাড়ানো—ভারতের কৌশল কী হবে, তা নিয়েও আগ্রহ তৈরি হয়েছে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে ভারত স্পষ্টভাবে এগিয়ে। তবে শ্রীলঙ্কার লোয়ার অর্ডারের প্রতিরোধ এবং কলম্বোর আবহাওয়া ম্যাচের ফল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। চতুর্থ দিনের শুরুতেই যদি ভারত বাকি দুই উইকেট তুলে নিতে পারে, তাহলে ম্যাচে তাদের নিয়ন্ত্রণ আরও শক্ত হবে। অন্যদিকে শ্রীলঙ্কা যদি দ্রুত ২৯০-৩০০ রানের কাছাকাছি পৌঁছতে পারে, তাহলে ভারতের সামনে কৌশলগত সিদ্ধান্তের চাপ বাড়বে।

