হরমনপ্রীত-সাভিতাদের সামনে হকি বিশ্বকাপ
Nations Cup জয়ের আত্মবিশ্বাস সঙ্গে নিয়ে বিশ্বকাপে নামছে ভারতীয় দল, পদকের স্বপ্ন দেখছেন সাভিতা
আর মাত্র দু’দিন। ১৫ আগস্ট থেকে বেলজিয়াম ও নেদারল্যান্ডসে শুরু হচ্ছে ২০২৬ সালের FIH হকি বিশ্বকাপ। একই সঙ্গে পুরুষ ও মহিলা বিশ্বকাপের আসর বসতে চলেছে। ভারতীয় মহিলা দলের সামনে তাই অপেক্ষা করছে বড় পরীক্ষা। সাম্প্রতিক FIH Nations Cup জয়ের আত্মবিশ্বাস সঙ্গে নিয়ে বিশ্বমঞ্চে নামতে চলেছে ভারত। অভিজ্ঞ গোলরক্ষক সাভিতা পুনিয়ার বিশ্বাস, এবার ভারত শুধু অংশ নিতে নয়, বিশ্বের সেরা দলগুলিকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে পদকের লড়াইয়ে পৌঁছতে পারে।
সাভিতার এই আত্মবিশ্বাসের পিছনে বড় কারণ সাম্প্রতিক সাফল্য। ২০২৬ সালের Nations Cup-এ ভারতীয় মহিলা দল শিরোপা জিতে বিশ্বকাপের আগে নিজেদের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছে। সেই সাফল্য দলের আত্মবিশ্বাস অনেকটাই বাড়িয়েছে বলে মনে করছেন অভিজ্ঞ গোলরক্ষক। তাঁর মতে, বড় টুর্নামেন্টের আগে একটি ট্রফি জয় দলের মানসিক শক্তি বাড়ায় এবং গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে নিজেদের উপর বিশ্বাস রাখার ক্ষমতা তৈরি করে।
ভারতীয় দলের অন্যতম বড় শক্তি অভিজ্ঞতা ও তারুণ্যের মিশ্রণ। সাভিতা পুনিয়ার মতো দীর্ঘদিন আন্তর্জাতিক হকিতে খেলা অভিজ্ঞ খেলোয়াড় যেমন রয়েছেন, তেমনই দলে রয়েছেন একঝাঁক তরুণ প্রতিভা। সাভিতা নিজেও এবারের বিশ্বকাপে নিজের তৃতীয় উপস্থিতি নিশ্চিত করেছেন। তাঁর অভিজ্ঞতা গোলপোস্টের সামনে ভারতীয় দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ হতে চলেছে।
তবে একটি বিষয় স্পষ্ট করা জরুরি। পুরুষ ও মহিলা দলের নেতৃত্ব এখানে আলাদা। সালিমা টেটে ভারতীয় মহিলা দলের অধিনায়ক, আর হরমনপ্রীত সিং পুরুষ দলের অধিনায়ক। ফলে ‘হরমনপ্রীত-সাভিতা’ বললে দুই ভারতীয় দলের দুই গুরুত্বপূর্ণ মুখকে বোঝায়। মহিলা দলের নেতৃত্বে সালিমা টেটে থাকলেও সাভিতার অভিজ্ঞতা দলকে বড় ম্যাচে বিশেষ সুবিধা দিতে পারে।
বিশ্বকাপের গ্রুপপর্বেও ভারতের সামনে কঠিন লড়াই। ভারত রয়েছে চিন, দক্ষিণ আফ্রিকা ও ইংল্যান্ডের সঙ্গে। ফলে শুরু থেকেই প্রতিটি ম্যাচ গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে রক্ষণভাগের সংগঠন, পেনাল্টি কর্নার এবং গোলরক্ষকের পারফরম্যান্স ম্যাচের ফল নির্ধারণে বড় ভূমিকা নিতে পারে।
ভারতের বিশ্বকাপ অভিযান শুরু হওয়ার আগে তাই নজর থাকবে সাভিতা, অধিনায়ক সালিমা টেটে এবং দলের তরুণ খেলোয়াড়দের উপর। Nations Cup-এর সাফল্যকে এবার বিশ্বকাপের বড় মঞ্চে কতটা কাজে লাগানো যায়, সেটিই হবে আসল পরীক্ষা।
অন্যদিকে, বিশ্বকাপের আসর বসছে ১৫ থেকে ২৯ আগস্ট। মহিলাদের ম্যাচ হবে নেদারল্যান্ডসের আমস্টেলভিনের Wagener Stadion এবং বেলজিয়ামের Wavre-এর Belfius Arena-সহ নির্ধারিত ভেন্যুগুলিতে। বিশ্বের শীর্ষ দলগুলির উপস্থিতিতে এবারের প্রতিযোগিতা যে কঠিন হতে চলেছে, তা বলাই যায়।
সব মিলিয়ে ভারতের সামনে লক্ষ্য পরিষ্কার। Nations Cup-এর আত্মবিশ্বাসকে বিশ্বকাপের মঞ্চে নিয়ে গিয়ে দীর্ঘদিনের অপেক্ষা শেষ করা। সাভিতা ইতিমধ্যেই জানিয়ে দিয়েছেন, পদক জয়ের বাস্তব সুযোগ রয়েছে ভারতের। এখন সেই বিশ্বাসকে মাঠের পারফরম্যান্সে পরিণত করাই সালিমা টেটেদের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

