FDI নীতিতে বড় বদলের প্রাথমিক ফল, ২৯টি বিদেশি বিনিয়োগ প্রস্তাবে ৪,৮৯৫ কোটি টাকা
নতুন FDI নিয়মের পরই বিনিয়োগের প্রস্তাব, ২০ আগস্ট পর্যন্ত ২৯টি প্রস্তাবে ৪,৮৯৫ কোটি টাকা
বিদেশি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে ভারতের সাম্প্রতিক নীতি পরিবর্তনের প্রাথমিক প্রভাব সামনে আসতে শুরু করেছে। সংশোধিত Foreign Direct Investment (FDI) কাঠামোর অধীনে ২০ আগস্ট ২০২৬ পর্যন্ত মোট ২৯টি বিদেশি বিনিয়োগের প্রস্তাব রিপোর্ট হয়েছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, এই প্রস্তাবগুলির সম্মিলিত মূল্য প্রায় ৪,৮৯৫.৬৫ কোটি টাকা, যা প্রায় ৫১১.৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের সমান। তবে এই অঙ্ককে সরাসরি ভারতে এসে পৌঁছে যাওয়া বিদেশি বিনিয়োগ হিসেবে দেখা ঠিক হবে না। এটি মূলত নতুন নিয়মের আওতায় রিপোর্ট হওয়া বিনিয়োগ প্রস্তাবের মোট মূল্য।
এই নীতি পরিবর্তনের কেন্দ্রে রয়েছে ভারতের সঙ্গে স্থলসীমান্ত ভাগ করা দেশগুলির বিনিয়োগ সংক্রান্ত FDI বিধি। মে ২০২৬-এ সংশোধিত কাঠামো কার্যকর হওয়ার পর নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করলে সীমান্তবর্তী দেশের বিনিয়োগকারীরা কোনও ভারতীয় সংস্থায় সর্বোচ্চ ১০ শতাংশ পর্যন্ত non-controlling বা নিয়ন্ত্রণহীন অংশীদারিত্ব automatic route-এর মাধ্যমে নিতে পারবেন। অর্থাৎ, নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে আগের মতো প্রতিটি বিনিয়োগের জন্য আলাদা করে সরকারের পূর্বানুমোদনের প্রয়োজন হচ্ছে না।
২০২০ সালে সীমান্তবর্তী দেশগুলির বিনিয়োগ নিয়ে ভারত সরকার যে কঠোর নিয়ম চালু করেছিল, নতুন কাঠামো তার তুলনায় একটি নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে প্রক্রিয়া সহজ করেছে। সেই ব্যবস্থায় কোনও ভারতীয় সংস্থার মালিকানা কাঠামোর সঙ্গে স্থলসীমান্ত ভাগ করা দেশের বিনিয়োগকারীর সম্পর্ক থাকলে, অংশীদারিত্ব কম হলেও সাধারণত সরকারি অনুমোদনের প্রয়োজন হতো। এর পেছনে অর্থনৈতিক নিরাপত্তার পাশাপাশি কৌশলগত ও জাতীয় নিরাপত্তার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ ছিল। নতুন নীতি সেই বিধিনিষেধ পুরোপুরি তুলে দেয়নি; বরং সীমিত এবং নিয়ন্ত্রণহীন অংশীদারিত্বের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট শর্তে অনুমোদন প্রক্রিয়া সরল করেছে।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, নতুন ব্যবস্থার আওতায় রিপোর্ট হওয়া ২৯টি প্রস্তাবের সঙ্গে Information Technology (IT), Artificial Intelligence (AI), Information and Communication, manufacturing, pharmaceuticals, data centres এবং transport services-এর মতো একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র যুক্ত রয়েছে। ফলে এই নীতি পরিবর্তনের মাধ্যমে শুধু বিদেশি মূলধন নয়, প্রযুক্তি, উৎপাদন ক্ষমতা এবং পরিষেবা খাতেও আন্তর্জাতিক অংশীদারিত্ব বাড়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
তবে বিনিয়োগের উৎস নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় রয়েছে। বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রকের তথ্য অনুযায়ী, এই ২৯টি প্রস্তাবের রিপোর্টিং হয়েছে মরিশাস, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, দক্ষিণ কোরিয়া, জাপান, সিঙ্গাপুর, লুক্সেমবার্গ এবং কেম্যান আইল্যান্ড-সহ বিভিন্ন jurisdiction থেকে। ফলে ৫১১.৫ মিলিয়ন ডলারের পুরো অর্থ কোনও একটি প্রতিবেশী দেশ থেকে সরাসরি ভারতে এসেছে—এমন দাবি করা সঠিক হবে না। বরং সংশোধিত নিয়ম কার্যকর হওয়ার পর বিভিন্ন আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ কাঠামোর মাধ্যমে প্রস্তাবগুলি সামনে এসেছে।
সরকারের যুক্তি, নতুন ব্যবস্থায় বিনিয়োগকারীদের জন্য নিয়ম আরও স্পষ্ট হবে, লেনদেনের সময় কমবে এবং ভারতে ব্যবসা করার প্রক্রিয়া সহজ হবে। বিশেষ করে AI, প্রযুক্তি, উৎপাদন, ওষুধ, ডেটা সেন্টার এবং পরিবহণের মতো দ্রুত সম্প্রসারিত ক্ষেত্রে বিদেশি মূলধন আকর্ষণে এটি সহায়ক হতে পারে।
অর্থনৈতিক দিক থেকে ২৯টি প্রস্তাবের মোট মূল্য ভারতের সামগ্রিক FDI প্রবাহের তুলনায় এখনও বড় অঙ্ক নয়। কিন্তু নীতিগত পরিবর্তনের প্রভাব বোঝার ক্ষেত্রে এর গুরুত্ব রয়েছে। আগামী দিনে এই প্রস্তাবগুলির কতগুলি বাস্তবে অনুমোদিত হয় এবং শেষ পর্যন্ত কত টাকা ভারতে আসে, সেটিই হবে এই সংস্কারের কার্যকারিতার বড় মাপকাঠি।
একই সঙ্গে সরকারের সামনে নিরাপত্তা সংক্রান্ত চ্যালেঞ্জও রয়েছে। প্রকৃত মালিকানা (beneficial ownership), sectoral cap এবং জাতীয় নিরাপত্তার শর্ত যথাযথভাবে যাচাই করা জরুরি। বিশেষ করে কৌশলগত প্রযুক্তি, ডেটা সেন্টার ও গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামোর ক্ষেত্রে সীমিত অংশীদারিত্বের আড়ালে পরোক্ষ নিয়ন্ত্রণ তৈরি হচ্ছে কি না, সেদিকেও নজর রাখতে হবে।
সব মিলিয়ে, ৪,৮৯৫.৬৫ কোটি টাকার ২৯টি প্রস্তাব সংশোধিত FDI নীতির প্রথম দিকের একটি গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত। এটি চূড়ান্ত বিনিয়োগের হিসাব নয়, তবে নীতি পরিবর্তনের পর আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের আগ্রহের একটি প্রাথমিক ছবি সামনে আনছে।

