সোনা-রুপোর দামে নজর, মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা ও সুদের হারের প্রত্যাশায় বাজারে অস্থিরতা
সোনা-রুপোর বাজারে কেন এত ওঠানামা? মধ্যপ্রাচ্য থেকে Fed-এর সুদের হার, নজরে একাধিক কারণ
কলকাতা, ১৬ আগস্ট: আন্তর্জাতিক বাজারে ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা, মার্কিন ডলারের গতিবিধি এবং মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভের (Federal Reserve) সুদের হার নিয়ে প্রত্যাশার প্রভাব পড়ছে সোনা ও রুপোর বাজারে। রবিবার, ১৬ আগস্ট মূল্যবান ধাতুর দামের দিকে নজর রয়েছে সাধারণ ক্রেতা থেকে বিনিয়োগকারী, দু’পক্ষেরই। নিরাপদ সম্পদ (Safe Haven) হিসেবে সোনার চাহিদা এখনও শক্তিশালী। একই সঙ্গে শিল্পক্ষেত্রে রুপোর ব্যবহার বাড়ায় এই ধাতুর দামেও দেখা যাচ্ছে উল্লেখযোগ্য ওঠানামা।
দেশীয় বাজারে সোনা ও রুপোর খুচরো দামে বিভিন্ন সূত্রে কিছুটা পার্থক্য দেখা যাচ্ছে। কলকাতায় ২২ ক্যারেট ও ২৪ ক্যারেট সোনার দাম নির্দিষ্ট বিক্রেতা, বাজারের সময় এবং স্থানীয় হিসাব অনুযায়ী বদলাতে পারে। গয়নার ক্ষেত্রে এর সঙ্গে জিএসটি (GST), মেকিং চার্জ এবং অন্যান্য খরচ যুক্ত হওয়ায় চূড়ান্ত দাম আরও বাড়তে পারে। ফলে গয়না কেনার আগে সংশ্লিষ্ট দোকান বা স্বীকৃত বুলিয়ন ব্যবসায়ীর কাছ থেকে দিনের আপডেটেড রেট যাচাই করা গুরুত্বপূর্ণ।
কমোডিটি বাজারেও সোনা ও রুপোর ফিউচার দামে অস্থিরতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ১৬ আগস্টের বাজার আপডেটগুলিতে MCX-এ সোনা ও রুপোর দাম আগের তুলনায় ঊর্ধ্বমুখী ছিল। দিনের বিভিন্ন সময়ে ট্রেডিংয়ের কারণে একই দিনে দামে পরিবর্তন হওয়ায় বাজারের সর্বশেষ দর এবং খুচরো বাজারের দরের মধ্যে ফারাকও দেখা যেতে পারে। বিশেষ করে রুপোর ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক চাহিদা, শিল্পক্ষেত্রের ব্যবহার এবং বিনিয়োগের প্রবণতা একসঙ্গে দামের উপর প্রভাব ফেলছে।
আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দামের অন্যতম প্রধান নিয়ামক মার্কিন সুদের নীতি। সুদের হার কমার সম্ভাবনা তৈরি হলে সাধারণত ডলার এবং মার্কিন ট্রেজারি ইয়িল্ডের উপর চাপ পড়তে পারে। তখন সুদ না দেওয়া সম্পদ হিসেবে সোনার আকর্ষণ বাড়ে। অন্যদিকে সুদের হার দীর্ঘ সময় বেশি থাকলে সোনার দামের উপর চাপ তৈরি হতে পারে। তাই আগামী দিনে ফেডের নীতিগত অবস্থান মূল্যবান ধাতুর বাজারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
এর পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতিও বাজারকে প্রভাবিত করছে। হরমুজ প্রণালীকে ঘিরে উত্তেজনা এবং জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তা আন্তর্জাতিক বাজারে ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে বিনিয়োগকারীদের একাংশ নিরাপদ সম্পদের দিকে ঝুঁকতে পারেন, যা সোনার চাহিদা বাড়াতে পারে। তবে তেলের দাম বাড়লে মূল্যস্ফীতির আশঙ্কাও বাড়ে। সেক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলির সুদের হার নিয়ে অবস্থান আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
রুপোর ক্ষেত্রে ছবিটা কিছুটা আলাদা। সোনার মতো বিনিয়োগের ধাতু হওয়ার পাশাপাশি রুপো ইলেকট্রনিক্স, সৌরবিদ্যুৎ, শিল্প উৎপাদন-সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়। ফলে বিশ্ব অর্থনীতির গতি এবং শিল্পক্ষেত্রের চাহিদাও রুপোর দামের উপর সরাসরি প্রভাব ফেলে।
বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, এক দিনের দামের ওঠানামা দেখে বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়া ঠিক নয়। আন্তর্জাতিক বাজারের প্রবণতা, ডলারের গতিবিধি, ফেডের সুদের নীতি, তেলের দাম এবং ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি একসঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন। সাধারণ ক্রেতাদের ক্ষেত্রেও গয়না কেনার সময় সোনার মূল দামের পাশাপাশি মেকিং চার্জ, জিএসটি এবং হলমার্কের বিষয়টি যাচাই করা জরুরি।

