আজ বাজারে দুর্বল শুরুর আশঙ্কা
GIFT Nifty-র ইঙ্গিত, চড়া অপরিশোধিত তেল ও ভূরাজনৈতিক অনিশ্চয়তায় সতর্ক বিনিয়োগকারীরা
সপ্তাহের চতুর্থ ট্রেডিং সেশনে ভারতীয় শেয়ারবাজারে সতর্কতার আবহ তৈরি হয়েছে। বৃহস্পতিবার বাজার খোলার আগে GIFT Nifty-র গতিবিধি দুর্বল সূচনার ইঙ্গিত দিয়েছে। এর সঙ্গে আন্তর্জাতিক বাজারের মিশ্র প্রবণতা এবং অপরিশোধিত তেলের চড়া দাম ভারতীয় বাজারের উপর চাপ বাড়াচ্ছে। ফলে আজকের সেশনে Sensex ও Nifty 50-তে শুরুতেই কিছুটা বিক্রির চাপ দেখা দিতে পারে বলে বাজার বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করছেন।
এর আগে বুধবারের সেশনেও ভারতীয় বাজারে দুর্বলতা দেখা গিয়েছিল। Nifty 50 প্রায় ৩৫.৭৫ পয়েন্ট বা ০.১৫ শতাংশ কমে ২৪,৪৩৫.৯৫-এ দিন শেষ করে। এই পতনের পিছনে মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা, অপরিশোধিত তেলের দাম বৃদ্ধি এবং Tata Group-এর একাধিক শেয়ারে বিক্রির চাপ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছে।
বৃহস্পতিবারের বাজারে সবচেয়ে বড় নজর থাকবে ক্রুড অয়েলের দামের দিকে। মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি এবং হরমুজ প্রণালী নিয়ে অনিশ্চয়তা অব্যাহত থাকায় আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামে ঊর্ধ্বমুখী চাপ রয়েছে। ভারত বিশ্বের অন্যতম বড় অপরিশোধিত তেল আমদানিকারক দেশ হওয়ায় তেলের দাম দীর্ঘ সময় উঁচু থাকলে আমদানি ব্যয়, মুদ্রাস্ফীতি, রুপির বিনিময়মূল্য এবং কর্পোরেট সংস্থাগুলির উৎপাদন খরচের উপর প্রভাব পড়তে পারে। Reuters-এর বাজার প্রতিবেদনে মঙ্গলবারও উচ্চ তেলের দাম ভারতীয় শেয়ার সূচকগুলির উপর চাপ তৈরি করার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে বাজারের ছবিটি সম্পূর্ণ নেতিবাচক নয়। আন্তর্জাতিক বাজারে কিছু ইতিবাচক সংকেতও রয়েছে। এশিয়ার কয়েকটি বাজারে ওঠানামা থাকলেও মার্কিন বাজারের সাম্প্রতিক প্রবণতা এবং কিছু শক্তিশালী কর্পোরেট ফলাফল ভারতীয় বাজারকে নির্দিষ্ট কিছু ক্ষেত্রে সমর্থন দিতে পারে। ফলে আজকের সেশনে সূচকের পাশাপাশি স্টক-নির্দিষ্ট লেনদেন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
বিনিয়োগকারীদের নজরে থাকবে ব্যাংকিং, আইটি, তেল ও গ্যাস, অটোমোবাইল এবং বড় কর্পোরেট সংস্থার শেয়ার। বিশেষ করে তেলের দামের পরিবর্তন সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে এমন পরিবহণ, রাসায়নিক, পেইন্ট, টায়ার ও অন্যান্য আমদানিনির্ভর শিল্পের শেয়ারে ওঠানামা দেখা যেতে পারে। অন্যদিকে তেল উৎপাদন ও সংশ্লিষ্ট সংস্থার শেয়ার তুলনামূলকভাবে ভিন্ন প্রতিক্রিয়া দেখাতে পারে।
বাজারের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল Nifty-এর ২৪,৫০০ স্তর। বুধবার সূচকটি এই গুরুত্বপূর্ণ মনস্তাত্ত্বিক স্তরের নিচে বন্ধ হওয়ায় বৃহস্পতিবার বাজারের প্রথম দিকের লেনদেনে এই স্তর পুনরুদ্ধার করতে পারা বা না-পারা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। তবে কোনও নির্দিষ্ট স্তরকে নিশ্চিত সাপোর্ট বা রেজিস্ট্যান্স হিসেবে ধরে নেওয়ার আগে দিনের লেনদেনের প্রবণতা দেখা জরুরি।
সব মিলিয়ে বৃহস্পতিবারের বাজারে চড়া তেলের দাম, হরমুজ-সংক্রান্ত ভূরাজনৈতিক ঝুঁকি এবং GIFT Nifty-র দুর্বল সংকেত বিনিয়োগকারীদের সতর্ক রাখছে। তবে বাজার খোলার পর বিদেশি ও দেশীয় প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগ, ডলার-রুপি বিনিময় হার, তেলের দাম এবং আন্তর্জাতিক সূচকের গতিপথই শেষ পর্যন্ত দিনের দিক নির্ধারণে বড় ভূমিকা নেবে।
বিশেষজ্ঞদের সাধারণ পরামর্শ, এমন অনিশ্চিত বাজারে শুধুমাত্র প্রাক-বাজার সংকেত দেখে বড় সিদ্ধান্ত না নিয়ে ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা ও কোম্পানিভিত্তিক মৌলিক তথ্যকে গুরুত্ব দেওয়া উচিত। GIFT Nifty দুর্বল সূচনার ইঙ্গিত দিলেও এটি ভারতীয় বাজারের দিনের শেষ ফলাফল নিশ্চিত করে না।

