Sensex ও Nifty-তে পতন
Tata Group-এ বিক্রির চাপ, চড়া তেলের দাম ও ভূরাজনৈতিক অনিশ্চয়তায় সতর্ক বাজার
টানা দ্বিতীয় দিনের মতো বুধবার, ১২ আগস্ট, পতনের মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে ভারতীয় শেয়ারবাজারের লেনদেন। দিনভর ওঠানামার পর BSE Sensex ১৮৭.৯০ পয়েন্ট বা ০.২৪ শতাংশ কমে ৭৭,৯৬৬.৩৫ পয়েন্টে থেমেছে। অন্যদিকে NSE Nifty ৫০ ৩৫.৭৫ পয়েন্ট বা ০.১৫ শতাংশ নেমে ২৪,৪৩৫.৯৫ পয়েন্টে বন্ধ হয়েছে। ফলে Nifty ২৪,৪৫০-এর গুরুত্বপূর্ণ স্তরের নিচে দিন শেষ করে।
তবে দিনের শুরু থেকে বাজারের পরিস্থিতি আরও চাপের ছিল। এক সময় Sensex প্রায় ৬৫৬ পয়েন্ট পর্যন্ত নেমে ৭৭,৪৯৭.৯৩-তে পৌঁছেছিল। পরে নিচের স্তর থেকে কিছুটা ঘুরে দাঁড়ানোয় শেষ পর্যন্ত সূচকের ক্ষতি তুলনামূলকভাবে সীমিত হয়। Nifty-ও দিনের নিম্নস্তর থেকে পুনরুদ্ধার করে ২৪,৪৩৫.৯৫-এ স্থির হয়।
Tata Group-এ বিক্রির চাপ
বুধবারের বাজারে সবচেয়ে বড় আলোচনার বিষয় ছিল Tata Group-এর শেয়ারগুলিতে বিক্রির চাপ। Tata Sons-এর চেয়ারম্যান N. Chandrasekaran ঘোষণা করেছেন, তাঁর বর্তমান মেয়াদ শেষ হওয়ার পর তিনি আর পুনর্নিয়োগ চাইবেন না। তাঁর মেয়াদ ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারিতে শেষ হওয়ার কথা। এই ঘোষণার পর Tata Group-এর বিভিন্ন তালিকাভুক্ত সংস্থার শেয়ারে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়।
সবচেয়ে বেশি চাপ দেখা যায় Tata Consultancy Services বা TCS-এ। দিনের এক পর্যায়ে TCS-এর শেয়ার প্রায় ৬ শতাংশ পর্যন্ত নেমেছিল। শেষ পর্যন্ত TCS-সহ Tata Steel, Tata Motors Passenger Vehicles এবং Titan-এর মতো একাধিক Tata Group সংস্থার শেয়ার দুর্বল থাকে। Reuters-এর বিশ্লেষণেও Chandrasekaran-এর সিদ্ধান্তের পর Tata Group-এর শেয়ারে ব্যাপক বিক্রির কথা উঠে এসেছে।
তেলের দামও বাড়িয়েছে উদ্বেগ
শুধু Tata Group-এর নেতৃত্ব পরিবর্তনই বাজারের পতনের কারণ নয়। আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দামও বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগ বাড়িয়েছে। হরমুজ প্রণালী ঘিরে ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা এবং মার্কিন-ইরান আলোচনার ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তার কারণে তেলের সরবরাহ নিয়ে আশঙ্কা রয়েছে। বুধবার লেনদেনের শেষে Brent crude সামান্য কমে প্রায় ৮৮.৭৬ ডলার প্রতি ব্যারেল ছিল।
ভারত বিশ্বের অন্যতম বড় তেল আমদানিকারক হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বাড়লে আমদানি ব্যয়, মূল্যস্ফীতি, বাণিজ্য ঘাটতি এবং কর্পোরেট সংস্থাগুলির খরচের উপর চাপ তৈরি হতে পারে। সেই কারণেই তেলের দামের গতিবিধি বর্তমানে ভারতীয় বাজারের জন্য বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
IT ও অন্যান্য সেক্টরেও চাপ
বুধবারের লেনদেনে Nifty IT সূচক প্রায় ১.৫৪ শতাংশ কমে দিনের সবচেয়ে দুর্বল খাতগুলির একটিতে পরিণত হয়। TCS-এর পাশাপাশি Infosys-সহ বেশ কিছু বড় IT শেয়ারে বিক্রির চাপ ছিল। Auto, FMCG এবং কিছু স্বাস্থ্য পরিষেবা সংস্থার শেয়ারেও দুর্বলতা দেখা যায়।
অন্যদিকে সব ক্ষেত্রেই পতন দেখা যায়নি। Nifty Midcap 100 প্রায় ০.৩০ শতাংশ বেড়েছে, অর্থাৎ বৃহৎ সূচকের দুর্বলতার মধ্যেও মাঝারি আকারের কিছু সংস্থায় বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বজায় ছিল। PSU ব্যাংক এবং কয়েকটি ধাতু সংস্থার শেয়ারও বাজারকে কিছুটা সমর্থন দিয়েছে।
সামনে কী দেখবে বাজার?
বাজার বিশেষজ্ঞদের কাছে এখন তিনটি বিষয় বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। প্রথমত, Tata Sons-এর পরবর্তী নেতৃত্ব নিয়ে স্পষ্টতা। দ্বিতীয়ত, হরমুজ পরিস্থিতি এবং তার প্রভাবে অপরিশোধিত তেলের দাম। তৃতীয়ত, ভারত ও আমেরিকার মূল্যস্ফীতির পরিসংখ্যান এবং ভবিষ্যৎ সুদের হার নিয়ে প্রত্যাশা। এই বিষয়গুলিই আগামী দিনে বিনিয়োগকারীদের ঝুঁকি নেওয়ার প্রবণতাকে প্রভাবিত করতে পারে।
সব মিলিয়ে বুধবারের পতন খুব বড় মাত্রার না হলেও বাজারের বার্তা স্পষ্ট: দেশীয় কর্পোরেট নেতৃত্বের অনিশ্চয়তা এবং আন্তর্জাতিক ভূরাজনৈতিক ঝুঁকি একসঙ্গে কাজ করলে বিনিয়োগকারীরা দ্রুত সতর্ক হয়ে উঠছেন। তবে বৃহত্তর বাজারের কিছু অংশ তুলনামূলক শক্তিশালী থাকায় এটিকে একতরফা বাজার ধস হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। আগামী কয়েকটি সেশনে Tata Group-এর শেয়ারের গতিবিধি, তেলের দাম এবং বৈশ্বিক বাজারের সংকেত ভারতীয় সূচকের পরবর্তী দিক নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে।

