চড়া Crude Oil, বাড়ছে US Bond Yield, ধাক্কা বিশ্ববাজারে! চাপে Sensex-Nifty
Hormuz ঘিরে উত্তেজনা ও বিশ্বজুড়ে বাড়তে থাকা Bond Yield-এ বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগ, টানা সপ্তম সেশনে পতন Nifty-র
নিউজ ইন্ডিয়া ওয়েব ডেস্কঃ বিশ্ববাজারে বাড়তে থাকা অস্থিরতার প্রভাব বুধবার ভারতীয় শেয়ার বাজারেও স্পষ্ট। অপরিশোধিত তেলের (Crude Oil) দাম ফের ৯১ ডলারের উপরে উঠে যাওয়া, বিশ্বের বড় অর্থনীতিগুলির সরকারি বন্ডের ফলন (Bond Yield) বৃদ্ধি এবং মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনা বিনিয়োগকারীদের ঝুঁকি নেওয়ার প্রবণতায় চাপ তৈরি করেছে। এর জেরে Sensex ও Nifty দু’টিই দুর্বল হয়েছে। Reuters-এর তথ্য অনুযায়ী, বুধবার সকালে Nifty 50 প্রায় ০.৩৫ শতাংশ কমে ২৪,০৭০.৬৫ পয়েন্টে এবং BSE Sensex ০.৩২ শতাংশ নেমে ৭৬,৯৯১.৩৩ পয়েন্টে দাঁড়ায়। Nifty-র এটি টানা সপ্তম সেশনের পতন।
বাজার খোলার সময়ও ছবিটা খুব একটা স্বস্তিদায়ক ছিল না। Sensex ৭৭,২১৮.০৫ এবং Nifty ২৪,১৫২.০৫ পয়েন্টে প্রায় সমতল অবস্থায় দিনের লেনদেন শুরু করে। কিন্তু আন্তর্জাতিক বাজারের চাপ এবং তেলের দামের ঊর্ধ্বগতির কারণে পরে বিক্রির চাপ বাড়তে থাকে। Reuters-এর হিসাবে, ১৬টি প্রধান সেক্টরের মধ্যে ১৩টিই পতনের মুখে পড়ে। Small-cap এবং Mid-cap সূচকও প্রায় ০.৫ শতাংশ করে কমেছে।
এই পরিস্থিতির অন্যতম বড় কারণ আন্তর্জাতিক অপরিশোধিত তেলের বাজার। বুধবার Brent crude প্রায় ৯১.৪৪ ডলার প্রতি ব্যারেলে পৌঁছয়। টানা চতুর্থ দিন তেলের দাম বাড়ল। Strait of Hormuz দিয়ে তেল পরিবহণ নিয়ে অনিশ্চয়তা এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের পরস্পরবিরোধী অবস্থান বাজারে সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। Reuters জানিয়েছে, Hormuz দিয়ে জাহাজ চলাচলও উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। ফলে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহণপথ ঘিরে পরিস্থিতি বাজারের জন্য বড় ঝুঁকি হয়ে উঠেছে।
ভারতের ক্ষেত্রে এই পরিস্থিতির প্রভাব আরও গুরুত্বপূর্ণ। কারণ দেশটি অপরিশোধিত তেলের চাহিদার একটি বড় অংশ আমদানির মাধ্যমে পূরণ করে। দীর্ঘ সময় ধরে তেলের দাম ৯০ ডলারের উপরে থাকলে আমদানি ব্যয় বাড়তে পারে। এর প্রভাব পড়তে পারে মূল্যস্ফীতি, বাণিজ্য ঘাটতি এবং টাকার দামের উপর। একই সঙ্গে জ্বালানি খরচ বাড়লে বিভিন্ন শিল্প ও পরিবহণ খাতের ব্যয়ের উপরও চাপ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
তেলের পাশাপাশি বিশ্বজুড়ে Bond Yield বৃদ্ধিও বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগ বাড়িয়েছে। বিশেষ করে দীর্ঘমেয়াদি মার্কিন Treasury Yield বৃদ্ধির ফলে উন্নয়নশীল দেশের শেয়ারের তুলনায় নিরাপদ সরকারি বন্ডে বিনিয়োগের আকর্ষণ বাড়তে পারে। Reuters-এর বিশ্লেষণে দেখা গিয়েছে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, জার্মানি ও জাপানের দীর্ঘমেয়াদি ঋণের খরচ বৃদ্ধিও Emerging Market Equity-র উপর চাপ তৈরি করছে।
শুধু ভারত নয়, এশিয়ার অন্যান্য বাজারেও একই ধরনের সতর্কতা দেখা যাচ্ছে। ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা এবং প্রযুক্তি সংক্রান্ত শেয়ারে বিক্রির চাপের মধ্যে জাপানের Nikkei ও দক্ষিণ কোরিয়ার Kospi-তেও বড় পতন হয়েছে। বিশ্বজুড়ে বিনিয়োগকারীরা এখন মূলত তেলের দাম, Bond Yield, ডলার-রুপি বিনিময় হার এবং Middle East পরিস্থিতির দিকে নজর রাখছেন।
এদিকে Federal Reserve-এর পরবর্তী নীতিগত অবস্থান নিয়েও বাজারে জল্পনা রয়েছে। তেলের দাম দীর্ঘ সময় উঁচু থাকলে মূল্যস্ফীতির আশঙ্কা বাড়তে পারে, যা বিশ্বজুড়ে সুদের হার কমানোর সম্ভাবনাকেও প্রভাবিত করতে পারে। ফলে একদিকে ভূ-রাজনৈতিক ঝুঁকি, অন্যদিকে মুদ্রাস্ফীতির আশঙ্কা, এই দুইয়ের চাপেই আপাতত বিশ্ববাজারে সতর্কতার পরিবেশ।
সব মিলিয়ে বুধবার ভারতীয় শেয়ার বাজারের সামনে প্রধান তিনটি ঝুঁকি হল Crude Oil, Global Bond Yield এবং Geopolitical Tension। Hormuz পরিস্থিতি আরও খারাপ হলে তেলের বাজারে নতুন করে অস্থিরতা তৈরি হতে পারে। ফলে আগামী দিনে Sensex-Nifty কোন দিকে যাবে, তা অনেকটাই নির্ভর করবে আন্তর্জাতিক তেলের দাম এবং মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতির উপর।

