Critical minerals-এর অনুসন্ধানে জোর, captive mines থেকে খনিজ বিক্রিতে বড় পরিবর্তন
দেশের critical minerals-এর উৎপাদন ও সরবরাহ বাড়াতে বড় পদক্ষেপ নিল কেন্দ্র। MMDR Amendment Bill 2026 সংসদের দুই কক্ষেই পাস হয়েছে। নতুন ব্যবস্থায় captive mines-এর end-use plant-এর প্রয়োজন মেটানোর পর অতিরিক্ত খনিজ বাজারে বিক্রির সুযোগ বাড়বে।
নয়াদিল্লি : দেশের খনিজ সম্পদ ব্যবস্থাপনা ও critical minerals-এর সরবরাহব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিল কেন্দ্র। Mines and Minerals (Development and Regulation) Amendment Bill, 2026 সংসদের দুই কক্ষেই পাস হয়েছে। লোকসভায় বিলটি ১২ আগস্ট পাস হওয়ার পর একদিনের ব্যবধানে রাজ্যসভাতেও অনুমোদন মিলেছে। এখন রাষ্ট্রপতির সম্মতি পেলেই এটি আইনে পরিণত হবে।
সরকারের বক্তব্য, সংশোধিত আইনের মূল লক্ষ্য হল দেশের খনিজ অনুসন্ধান ও উৎপাদন বাড়ানো, বিশেষ করে critical minerals-এর ক্ষেত্রে। Lithium, cobalt, nickel-এর মতো খনিজ আধুনিক শিল্প, বৈদ্যুতিক গাড়ি, ব্যাটারি, পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তি এবং উচ্চপ্রযুক্তি উৎপাদনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। ফলে এই খনিজগুলির দেশীয় উৎস বাড়ানোকে কেন্দ্র সরকার অর্থনৈতিক ও কৌশলগত নিরাপত্তার অংশ হিসেবেও দেখছে।
বিলটির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হল captive mines থেকে খনিজ বিক্রির ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধতা তুলে দেওয়া। আগে captive mines-কে মূলত সংশ্লিষ্ট শিল্প বা end-use plant-এর প্রয়োজন মেটানোর জন্য খনিজ ব্যবহার করতে হত এবং নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে উদ্বৃত্ত খনিজ বিক্রির সুযোগ ছিল। নতুন ব্যবস্থায় end-use plant-এর প্রয়োজন মেটানোর পর অতিরিক্ত খনিজ বাজারে বিক্রির সুযোগ আরও বাড়বে। এর ফলে খনিজ উৎপাদনকারীরা অব্যবহৃত সম্পদকে বাজারে আনতে পারবেন এবং উৎপাদন ব্যবস্থায় আরও নমনীয়তা আসবে বলে সরকারের আশা।
সরকারের যুক্তি, এই পরিবর্তনের ফলে খনিজ সম্পদের অপচয় কমবে এবং দেশের বাজারে গুরুত্বপূর্ণ খনিজের সরবরাহ বাড়বে। একই সঙ্গে খনি সংস্থাগুলির জন্য অতিরিক্ত রাজস্ব তৈরির সুযোগও তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে এমন খনিজ, যা কোনও captive plant-এ সম্পূর্ণভাবে ব্যবহার করা সম্ভব নয়, সেগুলি বাজারজাত করা সহজ হবে।
সংশোধনীতে mineral exchanges বা খনিজ-বাজার গড়ে তোলার ক্ষেত্রেও কেন্দ্রের ভূমিকা বাড়ানো হয়েছে। খনিজ, mineral concentrate এবং processed mineral products-এর লেনদেনের জন্য বাজারভিত্তিক ব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্য রয়েছে। সরকারের মতে, এর ফলে সরবরাহ ও চাহিদার ভিত্তিতে আরও স্বচ্ছভাবে দাম নির্ধারণ করা সম্ভব হবে এবং খনিজ শিল্পে বিনিয়োগের পরিবেশ উন্নত হতে পারে।
তবে বিলটি সংসদে পাশ হওয়ার প্রক্রিয়া নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্কও তৈরি হয়েছে। লোকসভায় বিরোধীদের প্রতিবাদের মধ্যেই বিলটি পাস হওয়ায় বিরোধী দলগুলির একাংশ পর্যাপ্ত সংসদীয় আলোচনার দাবি তুলেছে। কিছু প্রতিবেদনে রাজ্যগুলির খনিজ সম্পদের উপর কর বা অন্যান্য আর্থিক ক্ষমতা নিয়ে কেন্দ্র-রাজ্য সম্পর্কের প্রশ্নও উঠে এসেছে।
এই বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ ভারতের খনিজ সম্পদের বড় অংশ বিভিন্ন রাজ্যে অবস্থিত এবং খনির রয়্যালটি ও সংশ্লিষ্ট রাজস্ব রাজ্য অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ উৎস। ফলে খনিজ নীতিতে কেন্দ্রের ক্ষমতা বাড়লে রাজ্যগুলির আর্থিক স্বার্থ ও নীতিনির্ধারণের ভূমিকা নিয়ে ভবিষ্যতে আরও আলোচনা হতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের দৃষ্টিতে, critical minerals-এর ক্ষেত্রে ভারতের প্রধান চ্যালেঞ্জ শুধু খনিজের মজুত খুঁজে পাওয়া নয়, বরং অনুসন্ধান, উত্তোলন, পরিশোধন এবং প্রক্রিয়াকরণের সম্পূর্ণ সরবরাহশৃঙ্খল তৈরি করা। আমদানিনির্ভরতা কমাতে দেশীয় উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি প্রযুক্তি, পরিবেশগত অনুমোদন এবং পরিকাঠামো উন্নয়নও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।
সব মিলিয়ে MMDR Amendment Bill 2026 ভারতের খনিজ নীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। Critical minerals-এর অনুসন্ধান বাড়ানো, captive mines-এর উৎপাদিত খনিজের বাজারজাতকরণ সহজ করা এবং খনিজ লেনদেনে আরও বাজারভিত্তিক ব্যবস্থা তৈরি করা এই সংশোধনের প্রধান দিক। তবে বাস্তবে কতটা বিনিয়োগ আসে, উৎপাদন কতটা বাড়ে এবং কেন্দ্র-রাজ্যের মধ্যে সমন্বয় কীভাবে হয়, তার উপরই এই সংস্কারের সাফল্য অনেকটাই নির্ভর করবে।
গুরুত্বপূর্ণ: বিলটি সংসদের দুই কক্ষেই পাস হয়েছে, কিন্তু রাষ্ট্রপতির সম্মতি না পাওয়া পর্যন্ত এটি চূড়ান্ত আইন নয়।

