বিশ্ববাজারে ফের অস্থিরতা, $93-এর কাছে Brent crude! ভারতের বাজারে সতর্ক বিনিয়োগকারীরা
Brent crude ফের ৯৩ ডলারের কাছে, রুপি ও মূল্যস্ফীতি নিয়ে কেন বাড়ছে ভারতের চিন্তা?
বিশ্ববাজারে ফের বাড়ল অস্থিরতা। মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন-ইরান সংঘাত ঘিরে সরবরাহ পরিস্থিতি নিয়ে অনিশ্চয়তা এবং আন্তর্জাতিক বন্ড বাজারে ওঠানামার মধ্যে বৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট, Brent crude-এর দাম তিন সপ্তাহের সর্বোচ্চ স্তরে পৌঁছেছে। Reuters-এর তথ্য অনুযায়ী, অক্টোবর ডেলিভারির Brent crude futures ১.২০ ডলার বা ১.৩ শতাংশ বেড়ে ব্যারেল-পিছু ৯২.৮২ ডলারে উঠেছে। একই সময়ে WTI crude futures ৯২ সেন্ট বেড়ে ৮৬.৭৫ ডলারে পৌঁছয়। দুই বেঞ্চমার্কই টানা পঞ্চম সেশনে বেড়েছে।
তেলের এই ঊর্ধ্বগতির নেপথ্যে মূল কারণ মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সংঘাতের সমাধানের সম্ভাবনা এখনও অনিশ্চিত। বিশেষ করে Strait of Hormuz দিয়ে তেল পরিবহণ নিয়ে পরস্পরবিরোধী অবস্থান বাজারের উদ্বেগ বাড়িয়েছে। এই জলপথ দিয়ে সংঘাতের আগে বিশ্বের মোট তেল ব্যবহারের প্রায় এক-পঞ্চমাংশের সমপরিমাণ সরবরাহ যাতায়াত করত। বর্তমানে সেই প্রবাহ স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় অনেক কম বলে Reuters-এর প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
ভারতের জন্য crude oil-এর এই উত্থান বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। কারণ দেশটি তার অপরিশোধিত তেলের প্রয়োজনের প্রায় ৯০ শতাংশ আমদানি করে। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম দীর্ঘ সময় উঁচু থাকলে আমদানি ব্যয় বাড়ার পাশাপাশি রুপির উপর চাপ, মূল্যস্ফীতির ঝুঁকি এবং বিভিন্ন শিল্পের উৎপাদন খরচ বাড়তে পারে। RBI-এর সাম্প্রতিক নীতিনির্ধারণী আলোচনাতেও মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত থেকে তেলের দাম বৃদ্ধির কারণে inflation risk নিয়ে সতর্কতা প্রকাশ করা হয়েছে।
এরই মধ্যে ভারতীয় মুদ্রাতেও চাপ দেখা গিয়েছে। ১৯ আগস্ট রুপি ডলারের বিপরীতে ৯৫.৭৫২৫ স্তরে বন্ধ হয়, যা প্রায় তিন সপ্তাহের সর্বনিম্ন। Reuters-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, crude oil-এর দাম বৃদ্ধি এবং ডলারের চাহিদা রুপির উপর চাপ তৈরি করেছে। তবে RBI-এর বাজারে হস্তক্ষেপে পতন কিছুটা নিয়ন্ত্রিত হয়েছে।
অন্যদিকে, টানা সাতটি সেশনের পতনের পর বৃহস্পতিবার ভারতীয় শেয়ারবাজারে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে। আগের দিন Nifty 50 সাত দিনের ধারাবাহিক পতনে মোট ২.১ শতাংশ নেমে ২৪,০৭৮.৩০-এ বন্ধ হয়েছিল। একই সময়ে Sensex-ও ছয়টি সেশনের মধ্যে পাঁচটিতে পতন দেখেছে এবং প্রায় ২.১ শতাংশ দুর্বল হয়েছে।
তবে বৃহস্পতিবারের বাজারের ঘুরে দাঁড়ানোকে এখনও নিশ্চিত recovery হিসেবে দেখছেন না বাজার পর্যবেক্ষকরা। আন্তর্জাতিক বন্ড yield, crude oil এবং ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি—এই তিনটি বিষয় এখনও emerging market-এর ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। বিশেষ করে দীর্ঘমেয়াদি মার্কিন Treasury yield বেশি থাকলে নিরাপদ সম্পদে বিনিয়োগের আকর্ষণ বাড়তে পারে, যা ভারতের মতো বাজারে বিদেশি মূলধনের প্রবাহে চাপ তৈরি করতে পারে।
তেলের বাজারে আরও একটি উদ্বেগ হল refined fuel supply। Reuters-এর বিশ্লেষণ অনুযায়ী, মধ্যপ্রাচ্যের refining capacity-এর বড় অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া এবং Hormuz-সংক্রান্ত বাধার কারণে ডিজেল ও গ্যাসোলিনের বাজারেও চাপ তৈরি হয়েছে। ফলে crude-এর পাশাপাশি জ্বালানি সরবরাহের পরিস্থিতিও বিশ্ব অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।
সব মিলিয়ে, বৃহস্পতিবার ভারতীয় বাজারে সাময়িক স্বস্তি এলেও বিনিয়োগকারীদের জন্য ঝুঁকি পুরোপুরি কাটেনি। আগামী দিনে Brent crude-এর গতিপথ, রুপির অবস্থান, US Treasury yield এবং মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত—এই চারটি সূচকের উপরই ভারতীয় বাজারের দিক অনেকটাই নির্ভর করতে পারে। বিশেষ করে তেল ৯০ ডলারের উপরে দীর্ঘ সময় থাকলে ভারতের inflation এবং corporate earnings-এর উপর তার প্রভাব আরও স্পষ্ট হয়ে উঠতে পারে।

