Atal Bihari Vajpayee Death Anniversary: ‘সদৈব অটল’-এ শ্রদ্ধা মোদীর, স্মরণে রাষ্ট্রনায়কের উত্তরাধিকার

NEWS INDIA বাংলা
0

অটল বিহারী বাজপেয়ীর মৃত্যুবার্ষিকীতে শ্রদ্ধা, ‘সদৈব অটল’-এ পুষ্পার্ঘ্য মোদীর; স্মরণে রাষ্ট্রনায়কের উত্তরাধিকার

আট বছর পরেও অটল, মৃত্যুবার্ষিকীতে ফের স্মরণে বাজপেয়ীর নেতৃত্ব ও রাজনৈতিক উত্তরাধিকার

সদৈব অটলে অটল বিহারী বাজপেয়ীর মৃত্যুবার্ষিকীতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর শ্রদ্ধা


নয়াদিল্লি, ১৬ আগস্ট: প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ও ভারতরত্ন অটল বিহারী বাজপেয়ীর মৃত্যুবার্ষিকীতে রবিবার শ্রদ্ধায় তাঁকে স্মরণ করল দেশ। নয়াদিল্লির ‘সদৈব অটল’ স্মৃতিসৌধে গিয়ে পুষ্পার্ঘ্য নিবেদন করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকেও দেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক জীবন, প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত এবং জাতীয় উন্নয়নে তাঁর অবদানের কথা স্মরণ করা হয়েছে। ২০১৮ সালের ১৬ আগস্ট প্রয়াত হন বাজপেয়ী। তাঁর প্রয়াণের আট বছর পরেও ভারতীয় রাজনীতিতে তাঁর নেতৃত্ব, বক্তব্য এবং রাজনৈতিক উত্তরাধিকার নিয়ে আলোচনা অব্যাহত।

অটল বিহারী বাজপেয়ীর রাজনৈতিক জীবনের অন্যতম বৈশিষ্ট্য ছিল তাঁর বক্তৃতার দক্ষতা, সংসদীয় রাজনীতিতে গ্রহণযোগ্যতা এবং মতপার্থক্যের মধ্যেও সংলাপ বজায় রাখার ক্ষমতা। ভারতীয় জনতা পার্টির অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা নেতা হিসেবে দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলার পর তিনি দেশের প্রধানমন্ত্রী হন। ১৯৯৬ সালে প্রথমবার প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নিলেও সেই সরকার স্থায়ী হয়েছিল মাত্র ১৩ দিন। পরে ১৯৯৮ সালে ফের প্রধানমন্ত্রী হন তিনি। ১৯৯৯ সালের নির্বাচনের পর জাতীয় গণতান্ত্রিক জোট (NDA)-এর নেতৃত্বে সরকার গঠন করে পূর্ণ মেয়াদ সম্পন্ন করেন বাজপেয়ী।

তাঁর প্রধানমন্ত্রিত্বের সময় ভারতের পরিকাঠামো ও যোগাযোগ ব্যবস্থায় একাধিক গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ নেওয়া হয়। জাতীয় সড়ক উন্নয়ন কর্মসূচি এবং প্রধানমন্ত্রী গ্রাম সড়ক যোজনা দেশের বিভিন্ন প্রান্তের যোগাযোগ ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়। টেলিকম ক্ষেত্রেও তাঁর সরকারের সময় নীতিগত পরিবর্তন আসে। সরকারি প্রকাশনায় বাজপেয়ীর শাসনকালকে ভারতের অর্থনৈতিক ও পরিকাঠামোগত পরিবর্তনের একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যায় হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।

জাতীয় নিরাপত্তার ক্ষেত্রেও তাঁর প্রধানমন্ত্রিত্বের সময় একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ১৯৯৮ সালের পোখরান পরমাণু পরীক্ষার পর আন্তর্জাতিক চাপ ও নিষেধাজ্ঞার মুখেও ভারত নিজের কৌশলগত অবস্থান বজায় রাখে। একই সময়ে পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নত করার উদ্যোগও নিয়েছিলেন বাজপেয়ী। ফলে তাঁর রাজনৈতিক উত্তরাধিকারে জাতীয় নিরাপত্তার পাশাপাশি কূটনৈতিক উদ্যোগ এবং সংলাপের বিষয়টিও বিশেষভাবে আলোচিত হয়।

বাজপেয়ীর ব্যক্তিত্বের আরেকটি দিক ছিল দলীয় রাজনীতির গণ্ডি পেরিয়ে বৃহত্তর রাজনৈতিক পরিসরে গ্রহণযোগ্যতা তৈরি করা। সংসদে তাঁর বক্তৃতা, রাজনৈতিক সৌজন্য এবং বিরোধীদের সঙ্গে মতবিনিময়ের ধরন তাঁকে অন্যদের থেকে আলাদা পরিচয় দিয়েছিল। বিজেপির কাছে তিনি দলের আদর্শ ও সাংগঠনিক ইতিহাসের অন্যতম প্রধান মুখ হলেও বৃহত্তর ভারতীয় রাজনীতিতে তাঁর পরিচয় তৈরি হয়েছিল একজন রাষ্ট্রনায়ক (Statesman) হিসেবেও।

মৃত্যুর পরও বাজপেয়ীর রাজনৈতিক দর্শন ও প্রশাসনিক ভাবনা নিয়ে আলোচনা থামেনি। তাঁর জন্মদিন ২৫ ডিসেম্বরকে কেন্দ্রীয়ভাবে ‘সুশাসন দিবস’ (Good Governance Day) হিসেবে পালন করা হয়। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীও বিভিন্ন সময়ে বাজপেয়ীর নেতৃত্ব, সরলতা, নিষ্ঠা এবং দেশসেবার মানসিকতার কথা তুলে ধরেছেন। ২০২৫ সালের মৃত্যুবার্ষিকীতেও বাজপেয়ীর অবদানকে স্মরণ করে তাঁর উন্নয়ন ও সুশাসনের ভাবনার কথা উল্লেখ করা হয়েছিল।

২০২৬ সালের মৃত্যুবার্ষিকীতে তাই ফের সামনে এল সেই দীর্ঘ রাজনৈতিক উত্তরাধিকার। জোট সরকার পরিচালনা থেকে জাতীয় নিরাপত্তা, পরিকাঠামো উন্নয়ন থেকে সংসদীয় গণতন্ত্র, একাধিক ক্ষেত্রে বাজপেয়ীর সিদ্ধান্ত ও রাজনৈতিক ভূমিকা আজও ভারতীয় রাজনীতির আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ। ‘সদৈব অটল’-এ শ্রদ্ধা নিবেদনের মধ্য দিয়ে তাঁর স্মৃতিকে স্মরণ করার পাশাপাশি ফের ফিরে এল তাঁর রাজনৈতিক জীবনের সেই অধ্যায়, যেখানে দলীয় পরিচয়ের পাশাপাশি দেশের বৃহত্তর স্বার্থ এবং গণতান্ত্রিক পরিসরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছিল।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন (0)

#buttons=(Ok, Go it!) #days=(20)

Our website uses cookies to enhance your experience. Check Now
Ok, Go it!