২৩তম দিনে ঝাড়খণ্ডের ছাত্র আন্দোলন, ২০ আগস্ট হেমন্ত সোরেনের বাড়ি ঘেরাওয়ের হুঁশিয়ারি
নিয়োগ পরীক্ষার অনিয়মের অভিযোগে ২৩ দিন ধরে আন্দোলন, ২০ আগস্ট বড় কর্মসূচির ডাক পড়ুয়াদের
ঝাড়খণ্ডে নিয়োগ পরীক্ষায় কথিত অনিয়মের অভিযোগকে কেন্দ্র করে ছাত্র ও চাকরিপ্রার্থীদের আন্দোলন আরও তীব্র হয়ে উঠেছে। রবিবার, ১৬ আগস্ট এই আন্দোলন ২৩তম দিনে পড়েছে। রাঁচিতে চলা এই বিক্ষোভে পরীক্ষার স্বচ্ছতা, নিয়োগ প্রক্রিয়ায় সংস্কার এবং কথিত অনিয়মের তদন্তের দাবিতে সরব হয়েছেন আন্দোলনকারীরা। দাবি পূরণ না হলে আগামী ২০ আগস্ট মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেনের বাসভবন ঘেরাও করার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তাঁরা।
আন্দোলনের কেন্দ্রে রয়েছে ঝাড়খণ্ড পাবলিক সার্ভিস কমিশন (JPSC) এবং ঝাড়খণ্ড স্টাফ সিলেকশন কমিশন (JSSC)-এর একাধিক নিয়োগ পরীক্ষা। বিশেষ করে JSSC Combined Graduate Level বা CGL পরীক্ষা বাতিল, নিয়োগ সংক্রান্ত অভিযোগের স্বাধীন তদন্ত এবং স্বচ্ছ নিয়োগ প্রক্রিয়ার দাবি তুলেছেন পরীক্ষার্থীরা। আন্দোলনকারীদের একটি বড় দাবি হল, সংশ্লিষ্ট পরীক্ষাগুলির বিষয়ে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা CBI-এর তদন্ত করা হোক।
গত ১০ আগস্ট আন্দোলন বড় আকার নেয়। হাজার হাজার চাকরিপ্রার্থী রাঁচিতে ঝাড়খণ্ড বিধানসভার দিকে মিছিল করলে পুলিশ ও বিক্ষোভকারীদের মধ্যে সংঘর্ষের পরিস্থিতি তৈরি হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস, জলকামান এবং লাঠি ব্যবহার করে বলে Reuters জানিয়েছে। আন্দোলনকারীদের একাংশের তরফে ব্যারিকেড অতিক্রমের চেষ্টা করা হয়েছিল বলেও প্রতিবেদনগুলিতে উল্লেখ করা হয়েছে। ঘটনাটি ঘিরে আন্দোলন আরও তীব্র হয়ে ওঠে।
এরপর ১৫ আগস্ট স্বাধীনতা দিবসেও আন্দোলনকারীরা রাঁচিতে তিরঙ্গা যাত্রা করেন। আন্দোলনের ২৩তম দিনে এসে কর্মসূচি আরও কঠোর করার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। ১৬ আগস্ট ঝাড়খণ্ডের ২৪টি জেলার জেলা সদরগুলিতে মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেন এবং কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীর কুশপুতুল পোড়ানোর কর্মসূচির কথা জানানো হয়। একইসঙ্গে প্রথমবারের মতো মুখ্যমন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিও সামনে এসেছে।
আন্দোলনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হল অনশন। ছাত্রনেতা দেবেন্দ্রনাথ মাহাতো দীর্ঘদিন ধরে অনশনে রয়েছেন। ১৬ আগস্টের প্রতিবেদন অনুযায়ী, তাঁর অনশন ১৩ দিনে পড়েছে এবং শারীরিক অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। দীর্ঘ অনশনের কারণে তাঁর স্বাস্থ্য নিয়ে চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণ চলছে। আন্দোলনকারীদের দাবি, সরকার দ্রুত তাঁদের সঙ্গে আলোচনায় বসে নিয়োগ সংক্রান্ত সমস্যার স্থায়ী সমাধান করুক।
অন্যদিকে, ঝাড়খণ্ড সরকার আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। সরকারের দাবি, তাঁদের একাধিক দাবি নিয়ে পদক্ষেপ করা হয়েছে এবং আলোচনার দরজা খোলা রয়েছে। কিন্তু আন্দোলনকারীদের বক্তব্য, এখনও তাঁদের মূল দাবিগুলির বিষয়ে সন্তোষজনক সমাধান হয়নি। ফলে অচলাবস্থা কাটেনি।
২০ আগস্টের কর্মসূচিকে ঘিরেই এখন সবচেয়ে বেশি নজর। আন্দোলনকারীরা জানিয়েছেন, দাবি পূরণ না হলে মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি চালানো হবে। ফলে আগামী কয়েক দিনে রাঁচিতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং প্রশাসনের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের আলোচনাই পরিস্থিতির গতিপথ নির্ধারণ করতে পারে।
সব মিলিয়ে, ঝাড়খণ্ডের ছাত্র আন্দোলন এখন শুধু কয়েকটি নিয়োগ পরীক্ষা বাতিলের দাবিতে সীমাবদ্ধ নেই। সরকারি চাকরির পরীক্ষায় স্বচ্ছতা, তরুণদের ভবিষ্যৎ এবং নিয়োগ ব্যবস্থার প্রতি আস্থার প্রশ্নও এর সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছে। ২০ আগস্টের ঘোষিত কর্মসূচি তাই রাজ্যের প্রশাসন ও রাজনৈতিক মহলের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

