Amit Shah on Internal Security: ২০৪৭-এর আগে ভবিষ্যতের হুমকি চিহ্নিতের নির্দেশ

NEWS INDIA বাংলা
0

২০৪৭-এর আগে নিরাপত্তায় বড় রণকৌশল, ভবিষ্যতের হুমকি আগেই চিহ্নিত করার বার্তা অমিত শাহের

আজকের হুমকি নয়, নজরে আগামী ২০ বছর! জাতীয় নিরাপত্তা নিয়ে বড় বার্তা অমিত শাহের

জাতীয় নিরাপত্তা কৌশল সম্মেলনে বক্তব্য রাখছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ


দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা (Internal Security) আরও শক্তিশালী করার পাশাপাশি আগামী ১৫ থেকে ২০ বছরে কী ধরনের নতুন নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ তৈরি হতে পারে, তা এখন থেকেই চিহ্নিত করে মোকাবিলার কৌশল তৈরির উপর জোর দিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। নয়াদিল্লিতে ইন্টেলিজেন্স ব্যুরো (IB)-র আয়োজিত দু’দিনের জাতীয় নিরাপত্তা কৌশল সম্মেলন (National Security Strategies Conference)-এর সমাপনী অধিবেশনে তিনি বলেন, উন্নত ভারত (Viksit Bharat) গড়ার লক্ষ্যে শক্তিশালী অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা একটি মৌলিক শর্ত।

২৫ আগস্টের ওই সম্মেলনে দেশের বিভিন্ন রাজ্যের পুলিশ প্রধান, শীর্ষ পুলিশ আধিকারিক এবং কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা সংস্থার প্রতিনিধিরা অংশ নেন। অমিত শাহের বক্তব্যে উঠে আসে সন্ত্রাসবাদ, মাদক পাচার, অনুপ্রবেশ, সাইবার অপরাধ, উগ্রপন্থা এবং আন্তর্জাতিক অস্থিরতার মতো একাধিক সম্ভাব্য নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ। তাঁর বার্তা, কোনও সমস্যা বড় আকার নেওয়ার পর মোকাবিলা করার পরিবর্তে সেটি শুরুতেই শনাক্ত করে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, জাতীয় নিরাপত্তা কৌশল সম্মেলনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব হওয়া উচিত আগামী ১৫–২০ বছরের প্রবণতা (Trends) বিশ্লেষণ করা। কোন সমস্যা ভবিষ্যতে তৈরি হতে পারে এবং তার মোকাবিলায় কী ধরনের কৌশল প্রয়োজন, তা আগে থেকেই নির্ধারণ করতে হবে। তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট, ইতিমধ্যে মোকাবিলা করা নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জের সাফল্য ধরে রাখার পাশাপাশি নতুন বিপদ যাতে বড় আকার না নেয়, সেদিকেও নজর দিতে হবে।

সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় PRAHAR-কে আরও কার্যকর করার নির্দেশও দিয়েছেন অমিত শাহ। তাঁর বক্তব্য, এই কাঠামোকে শুধু একটি নথি হিসেবে রেখে দিলে চলবে না; পুলিশের দৈনন্দিন কাজের অংশ করে তুলতে হবে। সন্ত্রাসবাদী নেটওয়ার্কের বিভিন্ন স্তর চিহ্নিত করে তা ভেঙে ফেলার জন্য রাজ্যগুলিকে নিজস্ব ব্যবস্থাপনা ও নির্দিষ্ট দায়িত্ব বণ্টনের উপরও জোর দেওয়া হয়েছে।

প্রযুক্তির ব্যবহারও ছিল আলোচনার অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু। Multi-Agency Centre (MAC)-এর তথ্য বিশ্লেষণে Artificial Intelligence (AI) ব্যবহার করে সম্ভাব্য হুমকি ও অপরাধের ধরণ আগেভাগে শনাক্ত করার উপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। CCTNS, ICJS, NATGRID এবং NAFIS-এর মতো বিভিন্ন ডেটাবেসকে আরও কার্যকরভাবে কাজে লাগিয়ে গোয়েন্দা তথ্য থেকে Actionable Intelligence তৈরি করার লক্ষ্য রয়েছে।

মাদকবিরোধী অভিযানেও রাজ্যগুলিকে Detect, Disrupt and Destroy—এই তিনটি নীতিতে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়েছে। পাশাপাশি সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার করে অনুপ্রবেশ রুখতে কেন্দ্র ও রাজ্যের মধ্যে সমন্বিত ব্যবস্থা গড়ে তোলার উপর গুরুত্ব দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

আগামী এক বছরের মধ্যে নতুন তিনটি ফৌজদারি আইনের ১০০ শতাংশ বাস্তবায়নের লক্ষ্য নিয়েও বক্তব্য দেন অমিত শাহ। ফরেনসিক বিজ্ঞান, ডেটা অ্যানালিটিক্স এবং প্রযুক্তিনির্ভর তদন্তের মাধ্যমে অপরাধ তদন্ত ও বিচারপ্রক্রিয়াকে আরও কার্যকর করার পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরা হয়।

সব মিলিয়ে, জাতীয় নিরাপত্তা নীতিতে শুধু বর্তমান পরিস্থিতির মোকাবিলা নয়, বরং ভবিষ্যতের ঝুঁকি আগে থেকে শনাক্ত করে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার উপরই এখন বেশি জোর দেওয়া হচ্ছে। কেন্দ্র-রাজ্য সমন্বয়, গোয়েন্দা তথ্য, প্রযুক্তি এবং দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ—এই চারটি ক্ষেত্রকে সামনে রেখেই আগামী দিনের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা কাঠামো আরও শক্তিশালী করার বার্তা দিয়েছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন (0)

#buttons=(Ok, Go it!) #days=(20)

Our website uses cookies to enhance your experience. Check Now
Ok, Go it!